সাংসদ আলআমিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
সাংসদ আলআমিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নবনির্বাচিত এমপি আলআমিন তার নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আগামী দিনে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গতকাল এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সংসদ সদস্য আলআমিন লেখেন, কিছু কথা বলা দরকার। আমার পুরো নির্বাচনের যাত্রায় অসম্ভব পরিশ্রম, ত্যাগ ও সহযোগিতা করেছেন অনেক মানুষ।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার নাই। আমার ফ্যামিলি, এনসিপি নেতাকর্মীরা, আমার স্টুডেন্টরা, সেই সাথে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১১দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা অসম্ভব পরিশ্রম ও সেক্রিফাইস করেছেন। এমনকি বিএনপির পরিবর্তনকামী নেতাকর্মীরাও সমর্থন দিয়েছেন। অপরিচিত অনেকেও ক্যাম্পেইন করেছে, ঘরে ঘরে গেছে শাপলা কলির জন্য। শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকেছেন।
আমার পরিবারে পুরো নির্বাচনের জার্নিতে একদম প্রথম দিন থেকে সাপোর্ট দিয়ে গেছে আমার স্ত্রী সেতু। যখন নির্বাচনের কথা শুনে আত্মীয়স্বজনদের কেউ কেউ তাচ্ছিল্য করেছে, হাসাহাসি করেছে বা তেমন কোনোই সহযোগিতা-রেসপন্স করে নাই, তখনও সেতু অসুস্থ অবস্থায় সাপোর্ট দিয়েছে, পরামর্শ দিয়েছে। মোহরানার টাকা, জমানো সব টাকা হাতে তুলে দিছে ক্যাম্পেইনের জন্য। এমনকি আমার টাকার পেরেশানি দেখে আমার অজান্তেই তার মায়ের জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছে, বাগানের গাছ বিক্রি করে টাকা দিয়েছে।
আমাদের মেয়ে ফাতিমাও অনেক সেক্রিফাইস করেছে। অনেক সময় কোলে উঠতে চাইলেও কোলে উঠানোর সময় পাই নাই। কষ্ট পেয়ে সে তার মাকে বলেছে, আম্মু, বাবা কি আমাকে আদর করে না? রাগ করে ঘুমিয়েছে।
আমার বড় ভগ্নিপতির কথা না বললেই না। উনি আমার বয়সে অনেক বড় হয়েও নির্বাচন পরিচালনা করেছেন আমার কমান্ডে, অনেক প্যারা খেয়ে। ব্যাংক থেকে ছুটি নিয়ে নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে দিনে দুই-তিন ঘন্টা ঘুমিয়ে সবার সাথে সমন্বয় করে কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। জোট হওয়ার পরে আমার বাবা, মা, বোনেরা, ভগ্নিপতি, অন্যান্য আত্মীয় স্বজনরা যার যার সাধ্যমতো পরিশ্রম করে গেছেন দিনের পর দিন।
এনসিপির নেতাকর্মীদের অমানবিক পরিশ্রমের কথা আর কি বলবো? গত দেড় বছর যাবত কোনো স্বার্থ ছাড়া একটা পরিবর্তনের জন্য আমার মুখের দিকে চেয়ে তারা পাগলের মতো কাজ করে গেছেন। কোনো বিনিময় চান নাই একবারের জন্যও। আমি তাদেরকে রিক্সা ভাড়াও দিতে পারিনি অথচ তারা নিজ পকেটের, চাকরির, টিউশনির, ব্যবসার টাকা খরচ করে আমার জন্য ক্যাম্পেইন করেছেন।
আমি টাকার ক্রাইসিসে ক্যাম্পেইন চালাতে হিমশিম খাওয়ায় বাবা, মা, ভাই, বোনের থেকে টাকা নিয়ে আমার জন্য ফান্ড রেইজ করেছে তারা। নেতাকর্মীদের মা বাবা ভাই বোনেরাও আমার জন্য ক্যাম্পেইন করেছেন দিনের পর দিন।
নারায়ণগঞ্জের তরুণ ও ছাত্ররা আমাদের জন্য কাজ করেছেন শুধুমাত্র একটা নিরাপদ, সুন্দর ও পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ গড়ার জন্য। নিঃস্বার্থভাবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সেক্রিফাইস অনেক। তাদের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বার ভাই আমাকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন নি। এরপর থেকে তারা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েছেন। মানুষকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য ক্যাম্পেইন করেছেন। প্রথম দিন থেকেই আমার সাথে প্রতিটি এলাকায় গিয়েছেন। তাদের মহিলা নেতাকর্মীরা অমানবিক পরিশ্রম করেছেন নানা হুমকি ধমকির পরেও। নিজেদের মতো করেও ক্যাম্পেইন চালিয়েছেন।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইলিয়াস আহমদ ভাই আমাকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। শুরু থেকে সক্রিয়ভাবে মজলিস কর্মীরা শাপলা কলির ক্যাম্পেইন করেছেন নিরলসভাবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী আনোয়ার ভাই আমাকে সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের উপস্থিতিতে। নারায়ণগঞ্জবাসী এই ঘোষণাকে পজিটিভলি নিয়েছেন এবং বাংলাদেশ খেলাফতের নেতাকর্মীবৃন্দ তাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন।
সাধারণ মানুষের সাড়া পেয়েছি ব্যাপক। তরুণ ও নারীদের ভোট পেয়েছি অনেকটা একচেটিয়াভাবে।
শহীদ পরিবার ও আহতদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো আমার পুরো নির্বাচনের যাত্রায়। এমনকি না.গঞ্জের প্রথম শহীদ, শহীদ আদিলের বাবা আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্পেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শহীদ আদিলের মা, শহীদ মাবরুর রাব্বির মা ঘরে ঘরে গেছেন আমার জন্য ভোট চাইতে৷ নিজের সন্তানের মতো মনে করেছেন। এতো মানুষের দোয়া, পরিশ্রম, আস্থা ও ভালোবাসার ঋণ কিভাবে শোধ করবো, আমি জানিনা।
তবে নারায়ণগঞ্জকে একটা নিরাপদ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকমুক্ত করতে আমার জীবন বাজি রাখতে চাই। মানুষকে সাথে নিয়ে একটা উন্নত, নাগরিক সুবিধা, নাগরিক মর্যাদার পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই।
আর একটা কথা হুট করে আমার সাথে দেখা করে বা একটা ছবি তুলে কেউ আমার কাছের পরিচয় দিয়ে যদি কোন অনৈতিক সুবিধা নিতে চায় বা অপরাধকে প্রটেক্ট করতে চায় তাহলে সরাসরি তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। স্পষ্ট কথা, আমি কাউকে আমার হয়ে কোনো ব্যবসায়ী বা কারো কাছে অর্থনৈতিক বা অন্য ব্যাপারে এংগেইজ হইতে বলি নাই। কেউ এই আলাপ দিলে বুঝবেন ফ্রড। নারায়ণগঞ্জ-৪ এর সব মানুষ আমার আপনজন, আলাদা কোনো বিশেষ কাছের মানুষ আমার নাই।
আমি কোনো চাঁদা, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসে সম্পৃক্ত নই। কাউকে এই কাজে সহায়তা বা প্রটেকশনও দেয়া হবে না। যে কোনো অপরাধীকে আমি এবং এনসিপি প্রটেকশন বা সমর্থন দিবে না। সে যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো ছাড় হবে না।
এতো মানুষ আত্মত্যাগ করে, এতো মানুষ পরিশ্রম করে আমাকে চাঁদা, সন্ত্রাসের অংশ হওয়ার জন্য এমপি বানায় নাই। মানুষ একটা পরিবর্তনের জন্য আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি মানুষের এই সমর্থনের সর্বোচ্চ সম্মান ও প্রতিদান কাজের মাধ্যমে দিতে চাই।
আজ থেকে দয়া করে আমার জন্য ফুল নিয়ে বা মিষ্টি নিয়ে অথবা ছবি তুলতে আসার ব্যাপারে বিনীতভাবে নিষেধ করছি। আমার দরজা সবসময় সবার জন্য খোলা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়-দায়িত্বের ক্ষেত্রে। কোন চাটুকারিতা বা অপরাধ বা তেলবাজিকে প্রশয় দিয়ে মানুষের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করতে চাই না।
ধন্যবাদ সবাইকে। সবার প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা। ইনশাআল্লাহ দল-মত নির্বিশেষে ভালো মানুষদের সাথে নিয়ে একটি সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ার কাজ করবো। সেই সাথে অপরাধী যেই দলেরই হোক; অপরাধী ও অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স থাকবে ইনশাল্লাহ।


