Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কালো টাকাই কাল

Icon

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

কালো টাকাই কাল

কালো টাকাই কাল

Swapno

ঘটনার দিন বিকেলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর একটি সিএনজিতে চড়ে রাত দুইটা নাগাদ বিভিন্ন স্থানে ঘুড়ে বেরিয়েছিলেন চার সহযোগীকে সাথে নিয়ে। রাত আড়াইটার দিকে ঐ চার ব্যক্তির সাথে পঞ্চবটিতে এসেছিলেন। আর এরপরই নিজের বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ছিনতাই, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড থেকে আসা,অবৈধ টাকার ভাগাভাগি নিয়ে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার রিয়াজুল ইসলাম বাবু ওরফে কিলার বাবু। তবে পুলিশ কিলার বাবুর হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী থানা পুলিশের।   ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজিই ছিলো তার মূল পেশা। নীরীহ মানুষকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া, এমনকি নারীঘটিত বিষয়ে নাটক সাজিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে নানা রকম সুবিধা আদায় করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এক বছর আগে থেকে পঞ্চবটি বনানী হলের আশপাশে তিনতাসের হোতাদের মধ্যে বাবু ছিলো অন্যতম। এছাড়াও পঞ্চবটি ফ্লাইওভারে মাটির নিচে থাকা পরিত্যাক্ত বিদ্যুতের ক্যাবল চুরির সাথেও জড়িত ছিলেন রিয়াজ উদ্দিন বাবু ও তার লোকজন। গত ৫ মার্চ ভোর রাতে বাবুর মৃত্যুর খবরে পঞ্চবটির লালপুর, পৌষার পুকুর পাড় ও টাগারপাড় এলাকার আশপাশের মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছে। আজমেরী ওসমান বলয়ের বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের সাথেও ছিলো তার সখ্যতা। গণঅভ্যুত্থানের পর চেষ্টা করেছিলেন পুনরায় রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের সাথে মিশে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করার।  কিন্তু কোনো বলয়ের সাথে ভিড়তে পারেনি বাবু। শেষ পর্যন্ত ছুরিকাঘাতে তার মৃতু হয়েছে।



কিশোর বয়সেই বখে গিয়েছিলো রিয়াজ উদ্দিন বাবু। এরপর বিভিন্ন  রাজনৈতিক নেতাদের বলয়ে ভিড়ে তাদের হয়ে ফতুল্লায় নানা রকম অপরাধ সংঘঠিত করতো। দিনের পর পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠে সে। বেশ কয়েক বছর আগে হাসিনা নামে এক কিশোরীকে হত্যা করে চৌদ্দ টুকরা করেছিলো বাবু ও তার লোকজন। মূলত এরপরেই রিয়াজ উদ্দিন বাবুর নামের সাথে কিলার শব্দটি যোগ হয়। এক সময় ফতুল্লা থান যুবলীগ সভাপতি মীর সোহেল আলীর শ্যালকের হয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে বেড়াতো। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে কিলার বাবু। ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেলের শ্যালকের হয়ে ফতুল্লার লালপুর, পৌষার পুকুর, পঞ্চবটি বন বিভাগ ও টাগারপাড় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন। ২০১৪ সালের পর আজমেরী ওসমান বলয়ের সন্ত্রাসীদের সাথে গড়ে তুলেছিলেন সখ্যতা। ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট পঞ্চবটি থেকে পুলিশ লাইন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট চালানো হয়েছিলো বাবুর নেতৃত্বে। তবে আশা করেছিলেন এবার রাজনৈতিক সরকারের সন্ত্রাসীদের সাথে মিশে পুনরায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে যাবেন। সম্প্রতি জেলা এক শীর্ষ নেতার ক্যাডারের সাথেও সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন বাবু। যাতায়াত শুরু করেছিলেন দেওভোগ এলাকায়। ঐ ক্যাডারের হয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের ছকও কষছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র।



সূত্রের আরো দাবী, ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় বেশ কয়েক মাস থেকে তিন তাসের জুয়া শুরু হয়েছিলো। ঐ জুয়ার আসর থেকে প্রতিদিন নিয়মিত চাঁদা আদায় করতো বাবু। এনিয়ে তিনতাসের মূল হোতাদের সাথে বাবুর শুরু হয়েছিলো মনোমালিন্য। অপরদিকে পঞ্চবটি ফ্লাইওভারে নিচে পরিত্যাক্ত বিদ্যুতের ক্যাবল চুরির মহোৎসব শুরু হয়েছিলো বেশ কয়েক মাস আগে।  বিদ্যুতের ক্যাবল চুরির টাকার ভাগও নিতেন বাবু। এনিয়েও  তিন তাস ও ক্যাবল চুরির হোতাদের সাথে মনোমালিণ্য চলে আসছিলো বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই।
একটি সূত্র দাবী করেছেন, বাবুকে হত্যার প্লান কয়েক মাস থেকেই করেছিলো তারই সহযোগীরা। গত কয়েক মাস আগে যারা বাবুর বিরোধীতা করেছিলো তারাই হত্যাকান্ডের কয়েকদিন আগে বাবুর সাথে মিশেছিলেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো বাবুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে বাবুর সাথে তার সহযোগী লিটনসহ বেশ কয়েকজন একটি সিএনজি যোগে পঞ্চবটি ও এর আশপাশের এলাকায় ঘোরাঘুরি করেছিলেন। যারা তার সাথে ছিলেন প্রত্যেকেই এলাকায় ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোর প্রায়  আড়াইটার দিকে পঞ্চবটি প্রধান পাম্পের পাশে সিএনজি থেকে নেমেছিলেন বাবুসহ পাঁচ ব্যাক্তি। আর এরপর ভোর ৪টার দিকে বাবুকে উপুর্যপরী ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ফ্লাইওভারের পাশে রেখে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। এসময় তার অপর সহযোগী লিটনও ছুরিকাঘাতে আহত হয়। বাবুর মৃত্যুর খবরে পঞ্চবটি এলাকায় মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন থানা সূত্র।



উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১ জুন ফতুল্লার ডিআইটি মাঠে প্রকাশ্যে দিবালোকে ফরহাদ নামক এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করে কিলার বাবুসহ অপর সন্ত্রাসীরা। কিলার বাবুর নামে ৫টি হত্যা, ছিনতাই সহ একাধিক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার একাধীক মামলা রয়েছে। সে থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন