Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রানার অপকর্মের দায়ভার নিবে না বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

রানার অপকর্মের দায়ভার নিবে না বিএনপি

রানার অপকর্মের দায়ভার নিবে না বিএনপি

Swapno



# কোন ব্যাক্তির দায় দল কখনো নিবে না : টিপু
# অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে : আশা
# আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভালো জানেন কে অপরাধী : সজল


নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে মামলা হওয়া ফতুল্লার ইসদাইরের মাহফুজুর রহমান শুভর মরদেহ রূপগঞ্জে উদ্ধারের পর মরদেহ শনাক্ত হলে সঙ্গে হত্যার অভিযোগও যুক্ত হয় রানার বিরুদ্ধে। গতকাল (৫ এপ্রিল) দুপুরে রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে ওই মরদেহের ছবি দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন। নিহত শুভর মা মাকসুদা বেগম বারবারই অভিযোগ করে বলছেন,  হত্যাকান্ডের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রানা জড়িত।


সে ডেভিডের ভাগ্নে। সে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি তারে বার বার বলছি আমার ছেলেরে ফিরিয়ে দেও কিন্তু দিল না। পুলিশও আমাদের সঙ্গে ছয় নয় করেছে। পুলিশ হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়েছে। তা ছাড়া তিনি বারবারই বলছেন বিএনপি ক্ষমতায় আসা মাত্রই আমার ছেলে খুন হয়েছে দলের ক্ষমতার প্রভাবেই রানা এমন করতে পারলো তার দলের কারণেই রানার সার্পোট নিলো পুলিশ। তাদের এই অভিযোগকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, অপরাধী কখনো দলের কেউ নয়।


ব্যাক্তিগত অপরাধের দায়ভার দল কখনো নিবে না। প্রশাসন যদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রানার সম্পৃক্ততা পায় তাহলে দ্রুত যেন তা ব্যবস্থা নেয় এই ক্ষেত্রে দলের কোন সহযোগীতা প্রয়োজন হলে দল পরিবারের পাশে থাকবে। বিএনপি গুম, খুন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপকর্মকারীদের কখনো পশ্রয় দেয়নি কখনো দিবে না। বিএনপি সর্বদা জনগণের আস্থার দল। যার যার অপকর্মের দায় তার তারই বহণ করতে হবে এমনটাই জানিয়েছে দলীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তা ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন অপরাধী যেন যথাযথ শাস্তি পায়।


এদিকে এর আগে শুভকে গুমের অভিযোগে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে ১০ জনকে আসামী করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। তা ছাড়া গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যরা চাষাঢ়া রেললাইনের পাশে অবস্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার গ্যারেজে অতর্কিতভাবে চাপাতিসহ হামলা চালায়।


এ সময় জীবন বাচাতে রানা ও কাশেমসহ তার বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর শুভর পরিবারের অভিযোগ তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওই ঘটনার পর স্ত্রী পিংকি বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় শাকিল ও রানাগংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।পরবর্তীতে শুভ’র মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে গত (২ এপ্রিল) ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন- মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা (৫১), কাশেম (ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী) (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩), লাল শুভ (২০)।


মামলায় আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রানা প্রয়াত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগ্নে। তিনি ভাগ্নে রানা হিসেবেই পরিচিত। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আসামি সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনো প্রধান আসামী সাখাওয়াত হোসেন রানা গ্রেফতার হয়নি। তা ছাড়া গত (২ এপ্রিল) মামলা হলে ও সেদিন প্রকাশ্যে রানাকে বিভিন্ন পোগ্রামে লক্ষ্য করা যায়। তা ছাড়া শহরে প্রকাশ্যে দেখা মিলে কিন্তু মামলা হলে ও পুলিশ আগে থেকেই কোন পদক্ষেপ নেয়নি। যা নিয়ে ক্ষুব্দ ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী।


এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, কোন ব্যাক্তির দায় দল কখনো নিবে না। এখানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা কতটা সত্য এটা প্রশাসন যাচাই করে তার সম্পৃক্তা সেখানে পেলে প্রশাসন তা যথাযথ ব্যবস্থা নিবে এখানে দলের কোন বাধা নেই। আমরা শুধু বলতে চাই যে কোন হত্যা নিন্দ্রনীয় সকল হত্যার বিচার ও দাবি করি। এর পাশাপাশি এটাও বলি যে, সঠিক যাইচের মাধ্যমে সম্পৃক্তকারী যেন শাস্তি পায়।


মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা যুগের চিন্তাকে বলেন, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে হবে। আওয়ামী লীগের আমলে অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে এখানে সব কিছু আওয়ামী লীগকে দায় করে অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হয় এটা যেমন কাম্য নয় ঠিক তেমনইভাবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে তা সঠিকভাবে তদন্ত করে তার ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


তিনি বলেন, আমরা সকল প্রকারের গুম খুন হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই এই সকল কিছুর বিরুদ্ধে দ্রুত অক্যাশন নিতে হবে। এখানে বিএনপির লোক করছে বা কে করছে এটা দেখার কোন সুযোগ নাই। এখানে দলের ট্যাগিং না করাই ভালো যার কারণে দলের যে বিচার ব্যবস্থা রয়েছে তা বাধাগ্রস্থ হয়।


মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল যুগের চিন্তাকে বলেন, কোন ব্যাক্তির অপরাধের দায় দল কখনো নিবে না। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছেন। তারাই ভালো জানেন কে অপরাধী। আমরা চাই অপরাধীর যেন যথাযথ শাস্তি হয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন