শুভ হত্যা মামলা
প্রধান আসামি রানাকে গ্রেফতার না হওয়ায় শহরজুড়ে তোলপাড়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রধান আসামি রানাকে গ্রেফতার না হওয়ায় শহরজুড়ে তোলপাড়
# শুভ হত্যার সকল রহস্য উদ্ঘাটন হবে : এসআই মিলন ফকির
# সকল আসামীকে গ্রেফতার করতে হবে : নিহত শুভর বাবা সোহেল
কিন্তু ঘটনার পাঁচদিন পর শুভ যেহেতু অপহরণ হয়েছে মৃত্যুও ঘটতে পারে যার কারণে পুলিশ শুভর ফ্যামিলিকে অজ্ঞাত লাশের ছবি দেখালে শুভর ফ্যামেলি তাঁকে চিহ্নিত করতে পারেন। এরপরই নিশ্চিত হওয়া যায় অপহরণের নাটকীয়তার মধ্যেই শুভর মৃত্যু ঘটে। এদিকে শুভর হত্যাকান্ডের সূত্রপাত ঘটে ইসদাইর-চানমারি রেললাইন এলাকা থেকে হত্যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মাদক ব্যবসা এবং আধিপত্য বিস্তার।
বিগত সময়ে শুভ নানা অপকর্মে জর্জরিত থাকলেও সম্প্রতি মাদক ব্যবসা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুভর সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানার সাথে যার কারণে শুভর ফ্যামিলি থেকে শুরু করে স্থানীয়রা শাখাওয়াত ইসলাম রানাকে দুষছেন। এছাড়া ঘটনাচক্রে শুভ হত্যায় শাখাওয়াত ইসলাম রানার নামই বরাবরই উঠে আসছে। তবে হত্যার রহস্য উ˜্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি হত্যাকারী হিসেবে নিশ্চিত ভাবে কারো নাম উল্লেখিত করা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই শুভ অপহরণে সম্পৃক্ত মামলার আসামী ৪জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তদন্ত কার্যক্রম শেষে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। প্রধান আসামি রানাকে এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় শুভ হত্যাকান্ডের শহরজুড়ে তোলপাড়।
আমরা আশা করছি লাল শুভকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই শুভ হত্যার সকল রহস্য উদ্ঘাটন হবে। গ্রেফতারকৃত লাল শুভ ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার মো. খলিল হোসেনের ছেলে। লাল শুভকে ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও জানান,যেহেতু শুভ অপহরণের পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলাও হয়েছে। আসামীদের আদালতে উঠানোর পর চলমান অপহরণ মামলার সাথে ৩০২ধারা যুক্ত করা হবে। অপরদিকে শুভর বাবা সোহেল নিশ্চিত করেছেন যে, রূপগঞ্জ থানায় ছেলের জামা কাপড় দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হই অজ্ঞাত মৃতদেহটি শুভর।
কিন্তু এখনো দাফন করা শুভর লাশ উঠানো হয়নি আইনী প্রক্রিয়া শেষে শুভর লাশ উঠানো হবে। কিন্তু আমরা যেকোন মূল্যে আমদের ছেলের লাশটি আমরা চাচ্ছি। এছাড়া সকল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার আওতায় আনুক প্রশাসন। তবে শুভ হত্যার সূত্রপাত ঘটে গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লার চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার গ্যারেজ দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। সেই ঘটনার জের ধরে ২৯ মার্চ শুভর ওপর পাল্টা হামলা চালায় রানা ও তাঁর অনুসারীরা। সেদিনই শুভকে মারধর শেষে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ।
বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় শুভ অপহরণের মামলা করেন শুভর পরিবার। মামলার প্রধান আসামি করা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে (৫১)। অন্যান্য আশামীরা হচ্ছেন কাশেম (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩) ও লাল শুভ (২০)। তাঁদের মধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিম,লাল শুভকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৪জন গ্রেফতার হলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি প্রধান আসামি শাখাওয়াত ইসলাম রানা।
এদিকে অপহরণের মামলা ভিন্নখাতে প্রভাহিত করে প্রধান আসামি রানাকে সেইফ করার বহু নাটকীয়তার প্রক্কালেই রোববার ৫এপ্রিল সকালে শুভর পরিবারের লোকজন পুলিশের মোবাইলে তোলা লাশের ছবি দেখে তা শুভর লাশ শনাক্ত করেন বাবা সোহেল ও মা মাকসুদা বেগম। অথচ,শুভ অপহরণের পর ৩০ মার্চ সকালেই মরদেহটি উদ্ধার হয় ফতুল্লা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকায়। তবে, তখন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় তথ্য বাতায়নে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পরে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবেই ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। এদিকে লাশ শনাক্তের পর থেকেই প্রকাশ্যে থাকা প্রধান আসামী রানা আত্মগোপনে চলে যান। এরআগেও শহরজুড়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন রানা। শুভর লাশ শনাক্তের পর রানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, এ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে তিনি কোন ভাবে সম্পৃক্ত নন এবং শুভকে তিনি চিনেন না জানেন না এবং কখনো দেখেননি। এছাড়া এই ঘটনায় কিভাবে সে অপহরণ হয়েছে মারা গিয়েছেন সেটাও তিনি বোধগম্য নন।
কিন্তু তিনি দাবি করেন,যেহেতু তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাকে এই ঘটনার সাথে জড়ানো হয়েছে তাই তিনি আইনী ভাবে লড়াই চালাবেন। এছাড়া এই ঘটনার যেন সুস্থ তদন্ত হয়। অপরদিকে লাশ শনাক্তের পর শুভর মা জানান, “পুলিশ পরশুদিনও বলেছে, আপনার ছেলেকে নিতে চাইলে রানার নাম দিয়েন না, আপনার ছেলেকে বের করে দিচ্ছি। রানার কাছে সে স্পেশাল ট্রিটমেন্টে আছে। পুলিশ শুরুতেই আসামিগোরে ধরলে আমার পোলাটারে অন্তত জীবিত পাইতাম। আমি রানাসহ সবার বিচার চাই।


