নির্বাচন পাগল মাকসুদ
বছর জুড়ে অপকর্ম করে নির্বাচনের আওয়াজ শুনলেই হঠাৎ মাঠে ফেরেস্তা হয়ে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটে আসা রাজাকার পুত্র মাকসুদ হোসেন। নির্বাচনের আওয়াজ পেলেই সমাজ পরায়ণ হয়ে উঠেন তিনি। এলাকায় এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের ব্যয় করতে থাকেন অপকর্মে কামানো অর্থ সম্পদ। যখনই নির্বাচন শেষ হয় তখন আর পাওয়া যায় না এই বিতর্কিত মাকসুদকে।
এবার ও ঠিকই একইভাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সদর-বন্দর চষে বেড়িয়েছিলেন এই মাকসুদ। একইভাবে দিয়েছেন মসজিদ, মাদ্রাসায় টাকা নির্বাচনে পরাজিত হলেও নগরবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া মাকসুদ বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে আবার মাঠ বিমুখ। এদিকে আওয়ামী লীগের আমলেই বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়েনর বিভিন্ন এলাকায় চুরি,ডাকাতি করে বিশাল টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই মাকসুদ পারিবারের বিরুদ্ধে। পটপরিবর্তনের পরে ও বহু অপকর্মে জড়িয়েছেন এই বিতর্কিত মাকসুদ পরিবারের বিরুদ্ধে। ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর নির্বাচন পাগল মাকসুদ উধাও মাঠে এবার নয়া রূপে মাকসুদের পক্ষে কলকাঠি নাড়ছেন তার ছেলে সন্ত্রাসী খ্যাত শুভ।
তারা ভাংচুর চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি বাড়িতে আগুন দিয়ে সবকিছু জ্বালিয়ে দেয়। তারা সেই ৭১ এর পাক হানাদারের মত বর্বরতা চালায়। ১৯৯২ সালে মাকসুদের বড় ভাই কালু সামান্য গরুর মাংস কেনার কথা কাটাকাটির ছলে, নিরহ কসাই নবী হোসেন কে কেটে টুকরো টুকরো করে বস্তায় বন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। ১৯৮৬ সালে খুন করে মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীনকে। ২০০৩ সালে মাকসুদের ফুপাত ভাই সালাউদ্দিন মুরাদপুরের নূরা, বাবুল দুই ভাই ও নিলুফাকে হত্যা করে।
১৯৯৮ সালে সেলিম, আনোয়ার, বিল্লাল তিন জন মিলে কুতুবপুরের একজন আদমজীর শ্রমিক, সুরু মিয়াকে চাঁদার জন্য আদমজী মিল ঘাট থেকে দিনের বেলায় কুড়িপাড়া ধরে নিয়ে আসে, নদীর পাড়ে নৌকায় রেখে তার দুই হাত বগল পর্যন্ত কেটে নেয়। গত ৫ আগষ্টে হামলার সরাসরি নেতৃত্বে দেয় মাকসুদ চেয়ারম্যান এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। ক্ষণে ক্ষণে ভোল পাল্টানো দুর্ধষ নির্বাচন পাগল মাকসুদকে ঘিরে অতিষ্ঠ বন্দর উপজেলাবাসী।


