যেভাবে অপকর্মের হোতা আলী
নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়ে বিভিন্ন লেবাসে অপকর্মের মাধ্যমে অর্থ আহরণ যেন এক নেশায় পরিণত করেছেন হোয়াইট ক্রিমিনাল আলী হোসেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের এমন কোন প্রকার অপকর্ম নেই যেখানে সম্পৃক্ত হননি আলী হোসেন। আর এই অপকর্মের টাকা এবং দখলকৃত সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তবে আলী হোসেন বিভিন্ন লেভাসে লোমহর্ষক অপকর্মে জড়িয়ে শেষতক ইসদাইর রেললাইন এলাকায় শুভ হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ায় গাঁ ডাকা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
কিন্তু ৫ই আগষ্টের পর এর তার সকল অপকর্মের সাথে কিছু কিছু অপকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার নেপথ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা সম্প্রতি আলোচিত শান্ত হত্যার অন্যতম অভিযুক্ত আসামী। এদিকে ৫ই আগষ্টের আগেই আলীর নামের সাথে ট্যাগ ছিল অটো চাঁদাবাজ, পুলিশের সোর্স,কথিত সাংবাদিক,মাদককারবারীদের শেল্টারদাতা,ভূমিদস্যু,দখলদার। কিন্তু ৫ই আগষ্টের পর স্বেচ্ছাসেবকল নেতা রানার আশ্রয় প্রশ্রয়ে ভূমি দুস্যতা থেকে শুরু ডিস ব্যবসা,মাদক ব্যবসা,স্ট্যান্ড দখল,বাস কোম্পানী দখল,অটো প্লেট ব্যবসা,ফ্লট,দোকান দখল এবং অবৈধ ভাবে ভূমি দখল করে দোকান স্থাপন।
এরমধ্যে কথিত রয়েছে,আলীর নেতৃত্বে চাষাড়া মার্ক টাওয়ারের নিচে আলী অফিস কার্যক্রমের নামে টর্চার সেলের কার্যক্রম করতেন। এদিকে মার্ক টাওয়ারে আলীর মালিকানার দুটি দোকানসহ আশেপাশের মার্কেটে ডিস এবং ইন্টারনেট ব্যবসাগুলো আলীই নিয়ন্ত্রণ করে বলে কথিত রয়েছে। এছাড়া চাষাড়া রূপায়ন টাওয়ারে দুটি ফ্লট আলী দখল করে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন রানার সগযোগীতায়। চাষাড়া চেইনজেস স্কুলের সামনে খাবারের দোকানের নামে ভূমি দখল করে একাধিক দোকান স্থাপন করেছেন রানার সহযোগীদতায়। উত্তর চাষাড়ার সাবেক হোয়াইট হাউজ সংলগ্ন ভূমি দখল করে হকারদের কাছে গোডাউন ভাড়া দিয়েছেন রানার সহযোগীতায়।
সেই সাথে রানার অপকর্মের জোন হিসেবে বিভেচিত ইসদাইর রেল লাইন এলাকায় ভূমি দখল এবং মাদককারবারী থেকে শুরু করে গ্যাড়েজগুলোতে বিভিন্ন অপকর্মের শেল্টার ও অটো গ্যাড়জগুলোতে প্লেট ব্যবসা স্থাপন করতেন। সেই সাথে ৫ই আগষ্টের পর শহরজুড়ে ডিস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রানাকে সহযোগীতা করেছিলেন আলী। সম্প্রতি,ইসদাইর রেল লাইন এলাকায় মাদক সংগঠিত ঘটনায় শুভ অপহরণের মামলায় ফেঁসে যান আলীসহ তার অপকর্মের শেল্টারদাতা রানা। এদিকে অপহরণ হওয়া শুভর লাশ শনাক্ত হলে রানাসহ আলী আত্মগোপনে চলে যান।
কিন্তু সেই অপহরণ মামলায় আলী হোসেন ব্যক্তিটি আলী তিনি নন বলে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। ঠিক একই ভাবে অপহরণ মামলার পর শুভর লাশ শনাক্তের আগেই ঠিক একই নাটকীয়তা চলমান রেখেছিলেন আলী। বর্তমান আত্মগোপন থেকেও তিনি প্রচার করছেন শুভ হত্যা মামলায় তার নামীয় ব্যক্তিটি তিনি নন। এদিকে মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা কিছুদিন আগে নিশ্চিত করেছিলেন আলীর বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিকও কথা বলেছে। কিন্তু আমরা তার ব্যাপারেও খোঁজ খবর নিচ্ছি। এছাড়া উক্ত মামলার আসামী পাপ্পুর সাথে সখ্যতা ছিল আলীর। অপরাধী যেই হোক আমরা ছাড় দিব না।


