Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

এবার ১৭ হাজার অটোরিক্সার লাগাম টেনে ধরার দাবি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

এবার ১৭ হাজার অটোরিক্সার লাগাম টেনে ধরার দাবি

এবার ১৭ হাজার অটোরিক্সার লাগাম টেনে ধরার দাবি

Swapno



নারায়ণগঞ্জ শহরের হকারদের উচ্ছেদ করে প্রশংসায় ভাসছেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। চলতি সপ্তাহের ১৩ এপ্রিল নগরীর সর্বময় মহলকে নিয়ে হকার উচ্ছেদ করা হয়। গত তিন চার দিন যাবৎ শহরের মানুষ ফুটপাতে চলাচল করে স্বাচ্ছন্দ অনুভব করছে। নগরবাসি থেকে এবার দাবী উঠেছে শহরে যেভাবে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করে লাগাম টেনে ধরা হয়েছে, ঠিক একইভাবে অবৈধ অটো-মিশুক চালকদের লাগাম টেনে ধরলে যানজট নিরসন সম্ভব হয়ে যাবে।


তাছাড়া শহরের যানজট নিরসনের এবার বেপরোয়া লাগামহীন অটোচালকদের লাগাম টেনে ধরা সময়ের বেপারে। হকার উচ্ছেদ হওয়ায় ফুটপাতে শহরে মানুষ স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারলেও যানজট নিয়ে বিরক্ত কমে নাই। কেননা অতিরিক্ত অটো মিশুক শহরের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। তাদেরকে সঠিক ভাবে শৃঙ্খলায় আনায় এখন সময়ের দাবি।


গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) শহরের নিতাইগঞ্জ পাইকারী ব্যবসা কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বাংলা নববর্ষের হালখাতায় হিন্দু মুসলিম ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময়কালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, ‘ঢাকা শহরের দুই সিটিতে মাত্র ২০ হাজার অটোরিকশার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর এই নারায়ণগঞ্জ এতটুকু শহরে ১৭ হাজারের বেশি অটোরিকশার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই ভার শহর নিতে পারছে না।


তিনি বলেন, ‘ নারায়ণগঞ্জকে বসবাসযোগ্য চকচকে ঝকঝকে শহরে দুয়েক বছরে আমরা পরিণত করবো। গত ২০ বছরে যে উন্নয়ন না হয়েছে, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন সেই উন্নয়নে তিনি আমাদের সাপোর্ট দিবেন। এই সরকার যে ভাল সরকার এটা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। কথা বললে হবে না।  ইতিমধ্যে আমরা ফুটপাত হকার মুক্ত করতে কর্মসূচি নিয়েছি। সামনে অন্যান্য সড়কগুলোতেও আমরা করবো। পাশাপাশি যানজট নিরসনে ও অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যাবস্থা নিব। তিনি বলেন, আমরা নতুন রাস্তা তৈরি করবো। পাশাপাশি পুরাতন রাস্তাগুলো ঠিক করবো।’


এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দ দখলদার হকারদের থেকে মুক্তি পেলেও যানজট নিয়ে এখনো তারা  হতাশায় রয়েছেন। শহরের মূল সড়ক অটো মিশুক যান চলাচলের কারণে নিত্যদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। এছাড়া অটো-মিশুক চালদের সাথে ভাড়া নিয়ে প্রতি নিয়ত ঝগড়া তর্কাতর্কি হচ্ছে যাত্রীদের সাথে। এমনকি তর্কের এক পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষের সাথে হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। তাছাড়া শহরের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত অবৈধ অটোমিশুক চলাচল করায় মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা লাগামহীন বেপরোয়া হয়ে শহরে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে।


অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত হেটে চলাচল করতে সময় লাগে ১০ মিনিট। কিন্তু শহরের বিশৃঙ্খলার কারনে অটো ইজিবাইক ও মিশুক দিয়ে চলাচল করতে সময় লেগে যায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। এতে করে মানুষকে সময়ের  খেসারত দিতে হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, মিশনপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড়, দুই নম্বর রেলগেট, ডিআইটি, চেম্বার রোড, কালীরবাজার সর্বত্রই অবৈধ মিশুক চালকদের বিস্তার।


আর শহরের এমন কোন সড়ক নেই যেখানে অটোরিক্সার দৌরাত্ম্য পাওয়া যাবে না। চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেইটসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অন্তত ৮/১০টি করে অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে ইজিবাইকগুলো। ফলে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। তবে হকারদের উচ্ছেদের পরে এবার অবৈধ অটো মিশুক চালকদের নাসিক থেকে যাদের লাইসেন্স দেয়া হবে তার মাধ্যসে খুব দ্রুতই শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হবে। সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স দেয়ার পর থেকে অবৈধ অটো ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে পারবে না বলেও জানান।


বছরখানিক আগে জেলা প্রশাসনের সভায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ থেকে অটো ইজিব্ইাক মালিক সমিতি সহ সকলে মিলে সিদ্ধান্ত হয়, ‘অবৈধ অটো ইজিবাইক চালকরা নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে পারবে না।’ একই সিদ্ধান্ত  জেলা আইনশৃখলা কমিটিতেও নেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মানছে না, স্বয়ং অটো-মিশুক চালকরা।


জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ‘সকলকে আইন মেনে চলতে হবে। আইনের ব্যত্যয় ঘটালে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত রাখার জন্য আমরা সকল ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন