# হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি
# শহীদ জিয়া হল পুনঃনির্মাণের দাবি
# নারায়ণগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি
# শহরের গ্যাস-পানি সংযোগ লাইনের সংস্কার দাবি
# শিবু মাকের্ট থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি
# মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক সংস্কারের দাবি
# মেট্রোরেল নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত করার দাবি
# শহরের দুই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মানোন্নয়নের দাবি
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনকে উন্নয়নের যাত্রায় ঢেলে সাজাতে নানা পরিকল্পনা ও নারায়ণগঞ্জবাসীর সমস্যা ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদের অধিবেশনে তুলে ধরেছেন চারবারের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম। ইতিমধ্যে সংসদের অধিবেশনে নারায়ণগঞ্জবাসীর গুরুত্বপূর্ণ মূল মূল চাহিদা নিয়ে তিনি নবীগঞ্জ ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা সেতা করার দাবি করে এখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৃষ্টি আকর্ষন করেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জকে মেট্্েরারেল আওতাভুক্ত করার দাবি জানান। শিবু মাকের্ট থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত উড়াল সেতু দাবি করেন এই সাংসদ।
তা ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, চিকিৎসার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতলে সকল প্রকারের চিকিৎসা ও তার মান উন্নয়নের দাবি করেন। তা ছাড়া বিএনপির প্রান জিয়া হল পুণনির্মাণ বা সংস্কারের দাবিসহ নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রানের দাবি গ্যাস ও পানির সমস্যা দ্রুত সমাধান ও বন্দরবাসীর মূল সড়ক মদনগঞ্জ ও মদনপুর সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান সাংসদ আবুল কালাম। সংসদে তার এমন দাবিতে সদর-বন্দরে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। তার এই সকল পরিকল্পনা ও দাবি বাস্তবায়িত হলে সদর-বন্দরে যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সকল সদর-বন্দরবাসীর প্রানের চাহিদা পরিপূর্ণ হবে।
গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন তিনি। গত (১২ ফেব্রুয়ারী) জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে জনসাধারনের ভোট চেয়ে এই সকল উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন সাংসদ আবুল কালাম। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সেই সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৌড়ঝাঁপ করছেন তিনি।
সাংসদের অধিবেশনে প্রথম ধাপের বক্তব্যে সাংসদ আবুল কালাম দাবি তুলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণে দাবী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, আমার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড় ও পশ্চিম পাড় নিয়ে গঠিত। মূল শহরটি নদীর পশ্চিম পাশে হওয়ায় এই এলাকার পাঁচটি খেয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক লক্ষাধিক মানুষ দৈনন্দিন কাজে শহরে ও ঢাকা যাতায়াত করে। এসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা দুর্ঘটনায় প্রানহানি হয়ে থাকে। আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট অংশে সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেন এবং ২০০৬ সালে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার তাদের হীনমন্যতার কারণে আজ পর্যন্ত প্রকল্পটি স্থগিত রেখেছে। আমি এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপের বক্তব্যে আবুল কালাম দাবি যে সকল দাবি তুলেন, মদনগঞ্জ ও মদনপুর এলাকার এই সড়কটি একসময় আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি ভারী শিল্পকারখানার যানবাহনের চাপে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সামিট গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ এবং ক্রাউন সিমেন্টের মতো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করায় সড়কটির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এখন এই রাস্তাটি মানুষের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
তিনি নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যও তুলে ধরে বলেন, একসময় নারায়ণগঞ্জকে ‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি’ বলা হত এবং বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা স্মরণ করে বলেন, তার উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং বরাদ্দকৃত অর্থে জিয়া হল নির্মিত হয়। তবে পরবর্তীতে অবহেলার কারণে এটি নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে হলটি পুনর্নির্মাণের আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে কালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, একটি জেনারেল হাসপাতাল ও থানা হেলথ সেন্টার থাকলেও সেখানে কিডনি ও হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। এ কারণে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানান তিনি। শিক্ষা খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে কালাম বলেন, তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে হয়। তাই নারায়ণগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে উল্লেখ করেন।এ ছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, শিবুমার্কেট থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি জানান সংসদের অধিবেশনে।
তা ছাড়া সদর-বন্দরবাসীর প্রানের দাবি, গ্যাস ও পানির পুরোনো লাইন আধুনিকায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর আগে স্থাপিত গ্যাস ও পানির লাইন এখন আর জনসংখ্যার চাপ সামলাতে পারছে না। এগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে আবুল কালামের এই দাবিগুলো যৌতিক হিসেবে বিবেচনায় উঠে আসলে নারায়ণগঞ্জে সকল জনগণের কাছে আলোচনায় উঠে আসে এই চারবারের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম।
সাংসদের এ সকল দাবি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়নে গতি ছাড়াবে। তা ছাড়া সিটি প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ইতিমধ্যে নগরবাসীকে উন্নয়নের যাত্রায় ঢেলে সাজাতে যে সকল পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন তা এমপি ও সিটি প্রশাসক একত্রিতভাবে বাস্তবায়িত করতে পারলে দ্রতই নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ হিসেবে রূপ দেওয়া সম্ভব।