নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের বিষফোড়া হকার। গত ১৩ এপ্রিল শহরের সর্বস্তরে সকল মানুষকে নিয়ে এই হকারদের উচ্ছেদ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসে খান। তার সাথে নেতৃত্ব প্রদান করেন এমপি আবুল কালাম। তবে হকারদের উচ্ছেদ করার পর তারা পুনরায় রাস্তায় বসার জন্য নানা ভাবে পায়তারা করে যাচ্ছে। গত দুদিন যাবত কিছু জায়গায় হকাররা বসে। যখনি নাসিকের কর্মীরা উচ্ছেদ করতে আসে তখন দৌড়ে চলে যায়।
এদিকে শহরে গুঞ্জন উঠেছে শহরে হকারদের উচ্ছেদ করার পর তারা আন্দোলনে নামার জন্য নানা ভাবে পথ খুজছে। কেননা বিগত সময়ে মেয়র আইভী থেকে শুরু করে প্রশাসন যতবার হকার উচ্ছেদ করে ততোবার শামীম ওসমানের শেল্টারে আন্দোলনে নামেন। সেই সাথে তারা নিজেদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা আদায় করে নেন। পুর্নবাসন না হলে শহরের ফুটপাত দখল করে নেয়। বগিত সময়ে পিছনে থেকে হকার পক্ষে ঢাল হিসেবে শামীম ওসমান কাজ করলেও বর্তমানে তার মত শক্তিশালী কাউকে খুজে পাচ্ছে না হকাররা।
যদিও ২০২৪ সনের ৫ আগষ্টের পরে বিএনপির হকার্স দলের নেতা নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু হকার উচ্ছেদ হওয়ার আগে সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তাছাড়া মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা এতোদিন পিছনে থাকলেও বর্তমানে তিনিও তেমন একটা নেই। হকারদের সাথে থাকতে গেলে তার নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সংকট তৈরী হতে পারে।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরে আবারো হকাররা এক হয়ে ফুটপাতে দোকান বসানোর চেষ্টা শুরু করেছে। শুক্রবার ১৭ এপ্রিল থেকে কয়েক জায়গাতে বিক্ষিপ্তভাবে দোকান বসালেও সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দল বাধা দেয়। এসব কারণে তারা গুটিয়ে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। হকারদের একাধিক সূত্র বলছেন তারা এবার আক্রমনে যাবেন। উচ্ছেদকারী দল আসলে তাদের উপর হামলা করবেন। হকাররা এবার হামলা করে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দলকে মানসিকভাবে চাপে রাখতে চাচ্ছেন।তারা মনে করেন কয়েকটি হামলা হলে উচ্ছেদকারী দল পিছু হটবে। তাছাড়া জোরালো আন্দোলনে নামতে পারেন তারা।
হকারদের একাধিক ব্যক্তি জানান, এবার হকারদের উচ্ছেদের পর তাদের পক্ষে দৃশ্যমান কেউ নাই। বিগত সময়ে যখন আইভী হকার উঠাতেন তখন শামীম ওসমানের মত শক্তিশালী মানব পক্ষ নিতেন। এবার সে ধরনের কেউ নাই। পেছন থেকে কেউ কেউ কলকাঠি নাড়লেও তারা সামনে আসার সুযোগ পায় না। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার জন্য বদ্ধপরিকর। স্থানীয় এমপি ও সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদেরাও হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
এ অবস্থায় হকাররাও সভা সমাবেশের আগে ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে যাচ্ছেন। তারা এবার সংঘবদ্ধ হয়ে হকার উচ্ছেদকারী দলের উপর আক্রমন করতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। তারা চাচ্ছেন একটি বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে শহরকে অশান্ত করে ফুটপাতে বসার ফায়দা নিতে। তবে তাদেরকে কোন ভাবে ছাড় দিবে না হকাররা। এমনকি হকাররা কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে করে তারা আর কোন দিন শহরে নামার সাহস না পান।
তথ্যমতে, জেলা পুলিশ প্রশাসন ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গিয়ে ফুটপাত ফাকা করে দেয়। আর প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান মেয়র আইভী। কোন ভাবেই ফুটপাতে বসতে ব্যর্থ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন হকাররা। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হকারদের সমাবেশে শামীম ওসমান হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার জন্য পক্ষে বক্তব্য দেন। আর পরদিনই হকারা মেয়র আইভীর উপর হামলা চালায়। যেখানে যুক্ত হয় শামীম ওসমানের অনুগামী নেতাকর্মীরাও। ইট পাটকেলের সঙ্গে গুলি করা হয় মেয়র আইভীকে লক্ষ্য করে। এতে করে তৎকালিন মেয়র আইভী সহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। এছাড়া পরেও প্রায়শই হকারদের পক্ষেই কথা বলেন শামীম ওসমান।
২০২১ সালের ৯ মার্চ বিকেলে ফুটপাতে বসার দাবীতে হকাররা বিক্ষোভ করে। সেদিন পুলিশের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। কিন্তু হকারদের পিছনে এবার বড় ধরনের কোন নেতা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও তাদের পাশে নেই। তাছাড়া এবার নাসিক প্রশাসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সহ নারায়ণগঞ্জের শহরবাসি হকারদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই এবার আন্দোলনে নামার আগে হকাররা আন্দোলনের পিছনে সমর্থনের জন্য বড় নেতা খুজছে হকাররা । কিন্তু তারা কি এবার শামীম ওসমানের মত নেতা পাবে । তার উত্তরে নগরবাসি জানান হকাররা এবার আর সেই নেতা পাবে না।
নারায়ণগঞ্জবাসী একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, যানজটমুক্ত ও হাঁটাচলার উপযোগী শহর চান। কিন্তু সেই সঙ্গে দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। উচ্ছেদ অভিযানের সাফল্য ধরে রাখতে হলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং হকারদের জন্য বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। যদিও নারায়ণগঞ্জের ভোটার থাকা হকারদের নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ।