জমি দখলই ছিল দুর্ধর্ষ আলীর নেশা
নারায়ণগঞ্জের শুভ গুমের পর হত্যা মামলার অন্যতম আসামী মাস্টারমাইন্ড কথিত সাংবাদিক আলী যতই তার অপকর্মের ঘটনা বেরিয়ে আসছে। অনুসন্ধানে ‘যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসছে’ ঠিক এমনটাই দেখা যাচ্ছে আলীর ক্ষেত্রে্। তার অপকর্মের অনুসন্ধান করা হচ্ছে ততই আলীর ভয়ঙ্কর অপকর্মের প্রতিচ্ছবি ভেঁসে উঠছে। তারই আলামাত পাওয়া গিয়েছে চাষাড়া রেল ক্রসিং সংলগ্ন বৃহৎ একটি জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছেন ১০টির মত দোকান। এদিকে এই দখল নিয়ে প্রশ্ন উঠায় দখলকে স্থায়িত্ব করতে প্রথমে আলী দোকান করে দোকান ভাড়া দিলেও পরবর্তীতে খোদ নিজেই রোজা রোস্তরা নামে একটি রেস্তোরা খোলার অভিনয় করে জমিটি এখনো নিজের দখলে রেখেছেন।
তারই অংশ হিসেবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আলী ছিলেন আওয়ামীলীগ সরকার আমলে চাষাড়া রেলক্রসিং সংলগ্ন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডাম্পিং স্টেশনের কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে অঘোষিত নিয়ন্ত্রক। এদিকে ড্রাম্পিং স্টেশন ছিল আলীর অন্যতম চাঁদাবাজির উৎস ছিল। অটো চালকদের রাস্তা থেকে বখাটে সন্ত্রাসীদের দ্বারা ট্রাফিক পুলিশের সহযোগীতায় তুলে এনে মুক্তিপন হিসেবে নামপত্র একটি টোকেন দিতেন। আলীর নির্দেশে ড্রাম্পিংয়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা। সেই টোকেনেই উল্লেখ করা থাকত কত টাকায় মুক্তি মিলবে। অটো চালকদের কাছে টাকা থাকুক বা না থাকুন এই টোকেনে উল্লেখিত ১০০০-২০০০-৩০০০টাকার মূল্য পরিশোধ করলেই অটো চালকদের মুক্তি মিলত। সেই সাথে এই ঘটনার শিকার অটো চালকদের আলীর কথিত সাংবাদিক কার্ড বা চাবির রিং ব্যবহার করতে বাধ্য করা হতে চাষাড়া ডাম্পিং স্টেশন থেকেই।
এদিকে টোকনে উল্লেখিত টাকার পরিমাণের একটি অংশ আলী নিত এবং ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ। কিন্তু পুরো টাকায়ই প্রশাসনের কোষাঘারে জমা পড়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। আলীর শাসিত এই ডাম্পিংয়ের রোডের অপর পাশে চেইনজেস্ স্কুলের পাশ থেকে চাষাড়া রেল লাইন পর্যন্ত একটি খালি জায়গা। এই জায়গার উপর নজর পড়ে আলীর এই জায়গাটি দখলে নিতে আলী ব্যবহার করেন আওয়ামীলীগ পতনের পর।
নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম দখলদার, শুভ হত্যায় প্রধান আসামী হিসেবে বিভেচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানাকে। এদিকে ৫ই আগষ্টের পর অপকর্মের দায় এড়াতে আলী পিঁঠ বাচাতে শহরের দুর্ধর্ষ ভাগ্নে রানার শিষ্যত্ব বরণ করেন। আর এই রানার সহযোগীতায়ই আলী চেইনজেস্ স্কুলের পাশ থেকে চাষাড়া রেল লাইন পর্যন্ত খালি জায়গাটি দখল করে দোকান করে ভাড়া দেন।
এদিকে আলীর এই দখল নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আলী এই দখলকে স্থায়িত্ব করতে খোদ নিজেই একটি রেস্তোরা খোলার অভিনয় করে পরবর্তীতে আর এই রোস্তরাটি পরিচালনা করেনি আলী। কিন্তু আলী শুভ হত্যায় গাঁ ডাকা দিলেও এখনও এই রেস্তোরাটি আলীর দখলে রয়েছে।


