Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

শুভ হত্যার এক মাস পূর্ণ, আসামি গ্রেপ্তারে ধীরগতি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

শুভ হত্যার এক মাস পূর্ণ, আসামি গ্রেপ্তারে ধীরগতি
Swapno

# প্রথমে সকলেই কিছুটা সহনাভূতি দেখালেও অজ্ঞাত কারণে সকলেই যেন নীরব হয়ে গেল : শুভর মা
# আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি শুভ হত্যার মামলাটি নিয়ে : ওসি ফতুল্লা
# শুভ হত্যার সাথে সম্পৃক্ত কাউকেই আমরা ছাড় দিব না : তদন্তকারী কর্মকর্তা


শুভ হত্যাকান্ডের ১মাস পূর্ণ হলেও  শুভ হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে শুভর পরিবারের চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।  ডিএনএ রিপোর্টের সাথে মিলিয়ে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালক্ষেপণে এই অসন্তোষ আরো বেড়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে ধীরগতিতে উদ্বিগ্ন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।  তবে প্রশাসন বরাবরই দ্রুত গতিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে আশ্বস্ত করছেন। কিন্তু বাস্তবতায় তা মিল পাওয়া যাচ্ছেনা।



সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লার চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার গ্যারেজ দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। সেই ঘটনার জের ধরে ২৯ মার্চ শুভর ওপর পাল্টা হামলা চালায় রানা ও তাঁর অনুসারীরা। সেদিনই শুভকে মারধর শেষে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ। সে পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে। ২ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় শুভ অপহরণের মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা (৫১), কাশেম (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩) ও লাল শুভ (২০)। তাঁদের মধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক,ওয়াসিম,লাল শুভ, জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


গত ৫ এপ্রিল সকালে শুভর পরিবারের লোকজন পুলিশের মোবাইলে তোলা লাশের ছবি দেখে তা শুভর লাশ শনাক্ত করেন বাবা সোহেল ও মা মাকসুদা বেগম। শুভ অপহরণের পর ৩০ মার্চ সকালেই মরদেহটি উদ্ধার হয় ফতুল্লা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকায়। তবে, তখন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় তথ্য বাতায়নে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবেই ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। এদিকে লাশ শনাক্তের পর থেকেই প্রকাশ্যে থাকা প্রধান আসামী রানা ও কথিত সাংবাদিক আলী আত্মগোপনে চলে যান। তবে শুভ হত্যায় ফেঁসে যাওয়ার আলী এবং রানার অতীত সকল অপকর্মের ফিরিস্তি ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।


এদিকে শুভ হত্যার প্রধান আসামী রানা এবং তার সহযোগী আলীর সকল অপকর্মের গোমর ফাঁস করা হলেও তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো কোন পদক্ষেপের বিষয়ে শোনা যায়। অপরদিকে মামলায় অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের আওতায় প্রশাসন তার তৎপরতা কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি, পিস্তল নিয়ে ভাইরাল হওয়া ইসদাইরের একজন যুবককে শুভ হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামী হিসেবে শ্যোন এরেস্ট দেখিয়েছে।



শুভর মা মাকসুদা যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, ‘প্রথমে সকলেই আমার ছেলে হত্যার পর সহনাভূতি দেখালেও ধীরে ধীরে কেন যেন সকলের মুখই বন্ধ হয়ে গেল এবং আমার ছেলে হত্যার ঘটনায় বিচার কার্যের বিষয় নিয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে নীরব ভূমিকায় চলে গিয়েছে। তাই আমিও নীরব। প্রশাসন ময়না তদন্তের রিপোর্টটা আসতেই দিচ্ছেনা। এজন্যই আমাদের সাথে এখনো বিভিন্ন তালবাহানা করে যাচ্ছে রিপোর্টটির বিষয়ে।



মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলন ফকির যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, সিইডির মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট জমা দেয়া হয়েছে। কোর্টের আদেশ পেলেই শুভর লাশ উত্তোলন করে তার তার বাবা মাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। এছাড়া আমার পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫ জন আসামী এই হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে জেনে এরেস্ট করেছি এবং আসামীদের রিমান্ড চলমান রেখেছি। এছাড়া অন্যান্য সকল আসামীকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছি।



ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুব আলম যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, আমরা শুভ হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। দ্রুতই সকল আসামীকে গ্রেফতার করতে আমরা সক্ষম হব।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন