Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নাসিক পরিচ্ছন্নকর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা, ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ

এবার হকার নামধারীদের ‘মামা বাড়ির আবদার’

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

এবার হকার নামধারীদের ‘মামা বাড়ির আবদার’

এবার হকার নামধারীদের ‘মামা বাড়ির আবদার’

Swapno



নারায়ণগঞ্জ শহরে এখন ত্রাস হিসেবে আবির্র্ভূত হয়েছে। নগরবাসী দাবির প্রেক্ষিতে শহরের ফুটপাতে হকার বসা নিষিদ্ধ করে নাসিক। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ আবুল কালামের শক্ত ভূমিকার কারণে আগের মতো সুবিধা করতে পারেনি হকার নামধারী কিছু চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী। এবার তারা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে পুরনো কায়দায় সন্ত্রাসী ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। মামা বাড়ির আবদার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তারা।


এব্যাপারে ক্ষুব্ধ নগরবাসী, সুধীসমাজসহ প্রশাসন।  গতকাল ) বিকেলে শহরের চাষাঢ়া নূর মসজিদের সামনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) কয়েকজন পরিচ্ছন্ন কর্মীকে মারধর করে আহত করেছে হকাররা। আহতরা হলেন, জাহাঙ্গীর ও রুহুল। এসময় তাদের কাছে থেকে মানিব্যাগ, মোবাইল ছিনিয়ে নেয় হকাররা। এই ঘটনায় হকাররূপী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে নাসিক। নারায়ণগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর মানান জানান, নাসিকের দুই পরিচ্ছন্ন কর্মীকে মারধরের ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের পর আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এই বিষয়ে জানান, ‘আজকের এই  ন্যাক্কারজনক ঘটনা নগরবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেব। ফুটপাত দখলমুক্ত করা নগরবাসীর প্রাণের দাবী। এ বিষয়ে কোন আপোষ হবে না। শহরের ফুটপাত নগরবাসীর হাঁটার জন্য, এখানে কোন ক্রমেই হকার বসতে পারবেনা। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কখনোই জনদাবি উপেক্ষা করতে পারেনা।


এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এরআগে ৭৯২ হকারকে দোকান বরাদ্দ করে নাসিক। কিন্তু সেসব বিক্রি করে দিয়ে শহরের ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন জিম্মি করে রাখে হকাররা। এপ্রিলে নাসিক, প্রশাসন, সুধী সমাজ ও রাজনীতিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহরের ফুটপাতে হকার বসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া প্রতারণা করে দোকান বিক্রি করায় হকার্স মার্কেটের পুরনো দোকান বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় নাসিক। সেখানে বহুতল ভবন তৈরি করে নারায়ণগঞ্জের ভোটার এমন হকারদের পুনর্বাসনের কথা জানায় নাসিক।


কিন্তু সেসবে গুড়েবালি। হকার নামধারীরা এখন সন্ত্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সেসব হকারদের ক্ষেত্রে তারই চিত্র ফুটে উঠেছে। তারাও অযৌক্তিক দাবী নিয়ে কখনো নগর ভবন, কখনো ডিসি অফিস ঘেরাও করে পুনর্বাসনের দাবী জানাচ্ছেন। শহরে ফুটপাত বা রাস্তার অবৈধ দখলদার হিসেবে বলা হয় হকারদের। শহরের ফুটপাতে বিকেল ৫ টার পর থেকে তারা বসার দাবী জানান। যা মামা বাড়ির আবদার বলে মনে করেন নাগরিক সমাজ। যা কোন ভাবেই যুক্তিসংগত নয়।  


এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের অবৈধ দখলদার হকাররা ৪ মে গতকাল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জেলা প্রশাসক ঘেরাও করে পুনর্বাসনের দাবীতে। নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম সড়কের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের পর পুনর্বাসন ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফুটপাতে বসার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন হকাররা।


এসময় শহরের অবৈধ হকাররা বলেন, পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ এবং অন্তত কিছু সময়ের জন্য ফুটপাতে বসার সুযোগ দেওয়া হলে তারা তা মেনে নেবেন। কিন্তু এখানে হকারদের মেনে নেয়ার কোন কিছু নেই। জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান রনির নেতৃত্বে ৫ জন হকার নেতা জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার নিলুফা ইয়াসমিনের কাছে স্মরক লিপি প্রদান করে। হকারদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।


সূত্র জানায়, ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন, নাসিক প্রশাসন, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ নগরীর সর্বমহলকে নিয়ে নাসিক প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান হকারদের উচ্ছেদ করেন। উচ্ছেদের পর থেকে হকররা পুনর্বাসনের দাবীতে অনেকটা মামা বাড়ির আবদার নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে। কিন্তু গতকাল শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবৈধ দখলদার হকারদের নাসিক প্রশাসন উচ্ছেদ করতে গেলে কর্মচারীদের উপর হামলা চালান। এই হামলার মাধ্যমে হকারদের পুর্বের সন্ত্রাসী চরিত্র ফুটে উঠে।


যা ২০১৮ সনে একই হকাররা নাসিক সাবেক মেয়র আইভীর উপর হামলা চালায়। একই সাথে শামীম ওসমানের গুন্ডাবাহিনী তখন হামলা করে এই হকাররা। তারা আজ সেই পুরনো চরিত্র ফুটে উঠে গতকাল নাসিক কর্মচারীদের উপর হামলার মাধ্যমে। তাই তাদের লাগাম এখনি টেনে ধরা না হলে তারা আরও বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে। এমনকি তারা সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে মারমুখি আচরণের মাধ্যমে নিজেদের গুন্ডামি দেখিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটাতে পারে।  


তথ্যমতে, হকারদের যারা পিছন থেকে শেল্টার দিচ্ছে তারা এখন আর কেউ সামনে আসে না। তারা এখন পিছন থেকে হকারদের উস্কানি দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু হকারদের পিছনে বড় কোন নেতা পক্ষে না থাকায় তারা কেউই প্রকাশ্যে আসতে সাহস পাচ্ছে না। বাম নেতা অঞ্জন দাস ইকবাল হোসেনের মত যারা এগিয়ে আসছে তারাই গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তাই এখন আর কেউ সামনে আসছে না।


তাছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা শুরু থেকে হকারদের না ফুটপাত দখল করে না বসার জন্য আহবান জানান। এমনটি পিছন থেকে তাদের কেউ শেল্টার দিলে তা কোন ভাবেই মেনে নেয়া হবে। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরকে জিম্মি করে রাখবে আর আমরা বসে থাকবো তা কেউ মনে করবেন। ইতোমধ্যে হকারদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বাম ডান নেতাদের চরিত্র নগরবাসির কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।


হকাররা বসতে পারবে মানে না। না মানে না। গতকাল হকাররা সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের উপর হামলা করে তাদের পুরনো সন্ত্রাসী পরিচয় দিয়েছে। যা মেনে নেয়া হবে না। ধানের শীষ হাতে না নিয়ে ধান ক্ষেতে যেয়ে কাজ করলে ভালো হতো। একদিকে ফুটপাত দখল মুক্ত থাকতো, অন্যদিকে কর্মের সংস্থানও হতো।


নাগরিক সমাজ বলেন, হকাররা মামা বাড়ির আবদার নিয়ে যেভাবে হুশিয়ার দিচ্ছে তা কোন ভাবে মেনে নেয়ার যৌক্তিকতা নেই। তাদের এখনি লাগাম টেনে ধরতে হবে। বাংলা ভাষায় বাগধারার মত মামা হকারদের মামা বাড়ির যে আবদার তা যেন মেনে না নেয়া হয়।


এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, আমাদের কর্মচারীদের অবৈধ দখলদার হকাররা যে নগ্ম হামলা চালিয়েছে তা মেনে নেয়া হবে না। হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা সুবিধাভোগী ছিল, চাঁদাবাজি করতো টাকা উঠাতো তারা প্রকৃত হকার না। তারা মাঠে নেমেছে। যারা অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে দোকানগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। তাদের ব্যাবসাও বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু মাদকাসক্ত ও চোরাকারবারি, যারা বিভিন্ন মামলায় জেলে ছিল, তারা এই আন্দোলনে জড়িত হয়েছে।


তিনি আরো বলেন, আজকে যারা এই আন্দোলন করছে তাদের ইতিপূর্বে পুনর্বাসন করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে। ৭৯২ জন পুনর্বাসন করা হয়েছে। তারা সেই দোকানে না বসে বাইরে চলে এসেছে। তিনি আরও বলেন, সাধারণ উচ্ছেদ কর্মীদের প্রতি যে আচরণ হয়েছে এটা দুর্ভাগ্যজনক। তাদের মারধর করেছে এতে আতল সৃষ্টি হয়েছে। তারা জোর জবরদস্তি করতে চায়।


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন এটা মেনে নেবে না। আমরা আইনগত ব্যাবস্থা নিব এবং কঠোর ভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করব। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সকল নাগরিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি বা সিটি করপোরেশন একা এর কৃতিত্ব দাবী করে না। আমরা আগামীতেও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর মোকাবিলা করবো।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন