পদবঞ্চিত বিএনপি নেতা হাসান-শহিদ-বাপ্পির নেতৃত্বে
নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি
নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জের মোড় থেকে মন্ডলপাড়া পুল পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে লোড-আনলোডের নামে বিশাল অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড। যা জনজীবনে স্থবিরতা তৈরি করে। বিগত সরকার আমলে নাসিকের সাবেক মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী এই অবৈধ স্ট্যান্ডটি একাধীকবার উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরিবহন চাঁদাবাজ ও গডফাদারদের কারণে উচ্ছেদ করতে পারেনি। পরবর্তীতে এক সভায় নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী ও সেলিম ওসমানের সহযোগিতায় এই স্ট্যান্ডটি পঞ্চবটী বিসিক সংলগ্ন নাসিকের খালি জায়গায় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেখানে ট্রাক স্ট্যান্ড থাকলেও পরিবহন শ্রমিক সেন্ডিকেটের কারনে সকল গাড়ি এই বঙ্গবন্ধু সড়কেই পাকিং করে রাখা হয়।
আর এই দুই চাঁদাবাজের পেছনে রয়েছে হাসান আহম্মেদ এর স্ত্রী সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর। বর্তমানে হাসান অসুস্থ থাকায় তার স্ত্রী বিভা হাসানের নেতৃত্বে ট্রাক স্ট্যান্ড পরিচালনা করে এই দুই চাঁদাবাজ। প্রতিদিন শহিদ ও বাপ্পির নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের বাহির থেকে যে সকল ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান আসে, সে সকল গাড়ি থেকে টিটু ও শাহ আলমের নেতৃত্বে বড় গাড়ি প্রতি ৮শত টাকা এবং ছোট গাড়ি প্রতি ৫শত টাকা চাঁদা তোলা হয়। প্রতিদিন বাহিরের গাড়ি থেকে প্রায় ৩০হাজার টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলে। এছাড়াও ট্রান্সপোর্টের রিসিটের নামে প্রায় ৩০-৪০টি গাড়ি থেকে জুয়েল, মুন্না ও মোক্তার গাড়ি প্রতি ১৫শত থেকে ২হাজার টাকা চাঁদা তোলে।
যার প্রতিদিন ট্রান্সপোর্টের নামে ৪০হাজার থেকে ৪৫হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। রাতে স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখলে নাইট গার্ড ও পাকিং এর নামে ১শত থেকে ১৫০টাকা গাড়ি প্রতি চাঁদা তোলে বাপ্পী। সেখানে গাড়ি বেশি থাকলে, ১০-১২হাজার টাকা এবং গাড়ি কম থাকলে, ৪-৫হাজার টাকা চাঁদা উঠে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৭০-৮০হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। যা প্রতি মাসে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে তোলা হয়। সেই টাকা হাসান, বিভা, শহিদ, বাপ্পি সহ আরও কয়েকজন নামধারী নেতার পকেটে যায় প্রতি মাসে। এদিকে কয়েকজন ট্রাক চালকরা জানান, প্রতিদিন শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন এসে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। একটা ট্রাকের টিপ পাই ১৫-১৬ হাজার টাকায়।
কিন্তু তাদের সেখান থেকে ২হাজার টাকা দিতে হয়। আবার শ্রমিকদের কমিটির নামে ৫শত ও বড় গাড়ি হলে ৮শত টাকা নেয়। রাতের বেলাও ১০০-১৫০টাকা নিয়ে যায়। বছর শেষে তো আমরা কিছু পাই না। প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা, আর বছরে একবার খিচুড়ী খাওয়ায় দেয়। কয়েকদিন আগে কয়েকজন শ্রমিকরে শহিদ ও বাপ্পি কিছু টাকা দিছে। এটি হচ্ছে দেখানো জন্য। আমরা যাতে চাঁদা দেই। আমরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা দিতে রাজি না। এই স্ট্যান্ডের কোন ইজারা নেই, তাহলে আমরা চাঁদা দেবো কে। আমরা চাই ট্রাক স্ট্যান্ড চাঁদা মুক্ত হউক।


