# পুলিশ থেকে আসামী ছিনিয়ে নিল শহীদ বাহিনী
# পুলিশের ছায়ায় কাশীপুরে বানাচ্ছেন ইয়াবা কারখানা চলছে আলোচনা
সদর থানা ও ফতুল্লা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে কাশীপুর-গোগনগর-নাসিক ১৫, ১৬ ও ১৮নং ওয়ার্ডে মাদক এবং চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছেন সদর থানা যুবদল নামধারী সাব্বির আহম্মেদ শহীদ ও যুবদল নেতা চিশতী সিকদার বাপ্পি। তা ছাড়া উপর পর্যায়ে থেকে নিজ পর্যায় পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা দিয়ে থাকেন বলে তাদের সূত্র জানিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পুলিশকে পাত্তা না দিয়েই এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন শহীদ বাহিনী।
এদিকে গতকাল বুধবার (৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কাশিপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম দেওভোগের হাশেমবাগ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে লুটপাটের অভিযোগে ঘটনাস্থলে পুলিশ ৫ জনকে আটক করে। পরবর্তীতে আটককৃতদের পুলিশের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় শহীদ বাহিনীর সদস্য মাদকব্যবসায়ী ফয়সাল ওরফে ওয়ান পিস ফয়সাল। কিন্তু প্রশাসন এতে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কনস্টেবলের নির্মাণাধীন বাড়িতে চাঁদা না পেয়ে লুটপাটের অভিযোগে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে লুটপাটে বাধা দিয়ে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ওই ব্যক্তিদের সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এ সময় তারা পুলিশের কাছ থেকে জোরপূর্বক আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ডেভিড (২৮) ও রাসেল (৩০) নামে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশ অভিযান চালালে তারা নিজেদের ‘আজাদের লোক’ বলে দাবি করে। তারা পুলিশকে জানায়, তারা যে ভ্যানগাড়ি নিয়ে এসেছিল তাতে মালামাল তোলার জন্য তাদের পাঠানো হয়েছিল এবং তারা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু পরবর্তীতেতে জানায় যায়, ছিনিয়ে নেওয়া ওই ব্যক্তি যুবদল নেতা সাব্বির আহমেদ শহিদের লোক। শহীদের নির্দেশনায় তাদেরকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় স্থানীয় মাদকব্যবসায়ী ফয়সাল ওরফে ওয়ান পিস ফয়সাল বাহিনীর সদস্যরা।
ফতুল্লা মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করে বাড়িতে ফেরত দেওয়ার সময় আটক ব্যক্তিদের সহযোগীরা এসে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৫ মে) নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইরের বোয়ালিয়াখাল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে সবুজ-শহিদ বাহিনীর সদস্যরা তাদের শেল্টারে জিমখানা থেকে বাবুরাইল থেকে দেওয়ান বাড়ি সহ এর আশে পাশের প্রত্যেকটি এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এ ছাড়া আরো জানা গেছে, এরা মাদকের মূল স্পট তাঁতিপাড়াকেই ধার্য করেছে। এখান থেকেই মাদক বেড়িই ছিড়িয়ে পরে বাবুরাইলসহ তাঁতিপাড়ার বট তলা এলাকা, মুন্সিবাড়ির নতুন রোড, আমবাগান, ইব্ররাহিম ব্রিজের ভিতরের বিভিন্ন গলিতে, হোসাইনী নগর এলাকাসহ বাংলাবাজার এলাকার ব্যাংকলোনী, খিলমার্কেটের সকল অলিগলিতে।
আর এগুলো প্রভৃতি রকমারি মাদক বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় বিক্রি করানো হচ্ছে। এদিকে সুবজের বায়রা ভাই মামুনের দ্বারাতে কাশীপুরের আওতাধীন কয়েকটি মাদক চিহ্নিত এলাকায় মাদক সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। এই মামুন ভাসমান ব্যাক্তি কিন্তু সবুজের আত্মীয় হওয়ায় বাবুরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে তিনি। তা ছাড়া ও খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, বিগত দিনে এই সবুজের মাদক বিক্রি করতেন ইব্রাহীম ব্রিজের অনিক ও ফরিদ কিন্তু তারা নানা অপকর্মে প্রশাসনে চিহ্নিত হয়ে গেলে তিনি এখন শহিদ, খান সুমন, মামুন ও ওয়ান পিস ফয়সালের দ্বারাতে কাশীপুরে মাদক সাপ্লাই দেয়।
তা ছাড়া বর্তমানে সবুজকে টপকিয়ে উপরে যেতে চাইছে সেই শহীদ। এদিকে মাদকসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে তারা বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এলাকায় তারাই কিছু আত্মীয়র নামে কিনেছেন জমি, রয়েছে বাড়িও। যাকে ঘিরে দ্রুত কাশীপুরে বিভিন্ন এলাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে অপকর্ম করে আশ্রয় নিচ্ছে কাশীপুরে যা পাহাড়া দিচ্ছেন এই শহীদ বাহিনীরা। এদিকে ঋষীপাড়া, তাঁতীপাড়া, হাকীমবাগ, আমবাগান রেইনবো স্কুল গল্লি, ইব্রাহীমব্রিজ, হোসাইনীনগর, ব্যাংককলোনী অভিযান চায় কাশীপুরবাসী।
বর্তমানে শহীদ ও বাপ্পি বাহিনীর তান্ডবে তাদের ছায়ায় মাদকে সায়লাভ হচ্ছে পুরো কাশীপুর। তা ছাড়া বর্তমানে সৈয়দপুর থেকে মালামাল এনে কাশীপুরের আমবাগানে কারখানা বানিয়ে মাদক তৈরির পায়তারা চালু করছে বাপ্পি-শহীদ বাহিনী। এদের জড়িত মাদক ব্যবসায়ী বিটু, কোরবান, বান্টিসহ আরো অনেকেই। কাশীপুর থেকেই নারায়ণগঞ্জের মাদক সাপ্লাইয়ের প্লান ইতিমধ্যে তৈরি শুরু হয়েছে বাস্তবায়ন করা। সহযোগীতায় থাকবেন পুলিশের কিছু উচ্চতম কর্মকর্তা।