Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বিএনপি-জামায়াতের টক্কর এবার পশুর হাটে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিএনপি-জামায়াতের টক্কর এবার পশুর হাটে

বিএনপি-জামায়াতের টক্কর এবার পশুর হাটে

Swapno



আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরীর সিটি এলাকায় কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাটের ইজারা নিয়ে এবার ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে যাচ্ছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও। ইতিমধ্যে হাট ইজারার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো হাট নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতিও বিরাজ করছে।


ইতিমধ্যে বিএনপির নিজেদের মতো হাট পরিচালনার জন্য নানা প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রকাশ্যে কিন্তু গোপনে জামায়াত নেতারা হাটের ইজারা ও গরু হাটে আনা নিয়ে নানা আলোচনা রাখছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার হাটগুলোতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে জামায়াতের পাশাপাশি এনসিপির নেতাদেরও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। সকলেই বলছে গতবারের মতো এবার বিএনপি একচেটিয়া আধিপত্য করতে পারবে না।
দীর্ঘদিন পর নারায়ণগঞ্জের পশুর হাট নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয়দের প্রতিযোগিতা।


বিগত প্রায় দুই দশক কোরবানির পশুর হাটগুলো ইজারার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কারণে এলাকা ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় তুলনামূলক বেশি মূল্যে হাটগুলো ইজারা হতো। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতো ইজারাদাররা। কিন্তু এবার এলাকা ভিত্তিক নয় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় প্রতিযোগিতার ফলে সিটি করপোরেশন কিছুটা লাভবানের দিকে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাটগুলোতে তাদের দলীয় নেতাদের একক আধিপত্য ছিল। প্রতিযোগিতা দূরের কথা তখন বিএনপি বা জামায়াতের কোনো নেতা দরপত্র কেনার সাহসও দেখাননি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাটের ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু এবার বিএনপিকে এক চেটিয়া নয় প্রতিযোগীতা করতে হবে হাটের ক্ষেত্রে জামায়াত নেতাদের।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২৩টি স্থানে বসবে অস্থায়ী পশুর হাট। তবে, এবারও যানজটে মানুষের ভোগান্তি এড়াতে শহরের ভেতর কোনো হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিতে দরপত্র আহ্বান করে সিটি কর্পোরেশন। এতে ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাটের তালিকা প্রকাশ করা হয়। গতবছর নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছিল নাসিক।  এবার সর্বোচ্চ কাক্সিক্ষত মূল্য ধরা হয়েছে নাসিকের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ির একটি হাটের। ওই হাটের গতবছরের হিসেবে কাক্সিক্ষত দরপত্র ২৮ লাখ টাকা আশা করছে সিটি কর্পোরেশন। তবে, সর্বনিম্ন আড়াই লাখেরও হাট রয়েছে এবারের তালিকায়।


এবারের হাটগুলো হলো: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সানারপাড় লিপি গার্মেন্টস সংলগ্ন মৌলভী ফজলুর রহমানের খালি জায়গা, একই ওয়ার্ডের মৌচাক মাদানী নগর বালুর মাঠ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টাইগার ওয়্যার রি-রোলিং মিলের মাঠ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাইলো রোড সংলগ্ন মোহর চান কন্ট্রাক্টরের খালি জায়গা, একই ওয়ার্ডের বটতলা বাদশা মিয়ার মাঠ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এসও রোড টার্মিনাল সংলগ্ন সালাউদ্দিন সাহেবের খালি জায়গা, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাভানা সিটির ১ নম্বর মাঠ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি দক্ষিণ পাড়া মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মান্নান সাহেব নতুন রোড সংলগ্ন খালি জায়গা, একই ওয়ার্ডের জালকুড়ি ওয়াপদা রোডের ডিএনডি খাল সংলগ্ন খালি জায়গা,


একই ওয়ার্ডের জালকুড়ি উত্তরপাড়া রাসেল সাহেবের খালি জায়গা, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন খেলার মাঠ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডিয়ারার মাঠ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা ব্রিজের নিচের খালি জায়গা, একই ওয়ার্ডের পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন খালি জায়াগ, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকান্দা মাঠের পশ্চিম পাশের খালি জায়গা, একই ওয়ার্ডের ফরাজীকান্দা উত্তরপাড়া বালুরমাঠ, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জহির কাজীর খালি জায়গা, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদমরসুল ডিগ্রী কলেজের পশ্চিম পাশের সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন খালি জায়গা, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জের গুদারাঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, একই ওয়ার্ডের আলতাফ সাহেবের খালি জায়গা, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লক্ষ্মণখোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদপুর গ্রামের আলহাজ্ব মোতালেব সাহেবের বালুর মাঠ।


ইতিমধ্যে হাটগুলো নিজেদের আওতায় নিতে বিএনপি,যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলের নেতারা নিয়মিত সিচি কর্পোরেশনে আসছেন এবং নানাভাবে সিটি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া বিএনপি নেতারা বিভিন্নভাবে শেয়ার কিনে কোটি কোটি টাকা গরু বেপারীদের দিচ্ছেন দাদন। এদিকে একইভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও শহরের ২৩টি হাটেই ইতিমধ্যে নজরে রয়েছেন জামায়াত ও এনসিপি নেতারা।


এরা ও নিজেদের মতোই হাট পরিচালনার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করেছে। এদিকে সদর উপজেলার হাটগুলোর ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ডিআইটি খেলার মাঠ হাটে জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে পার্সেন্টিজ এ সমঝোতায় আসা হলে ও সদর উপজেলার আরো বাকি হাটগুলোকে ঘিরে এবার শঙ্কা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তা ছাড়া সিটি এলাকায় এখনো বিএনপি-জামায়াত কিছু জায়গায় সমঝোতা হলে ও কিছু গ্রুপ গোপনে বৈঠক করে এবার হাটকে ঘিরে বিশৃঙ্খলার পায়তারা করছেন। তা ছাড়া বিএনপির ও কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ এবার পশুর হাটকে ঘিরে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চাইছেন বলে উঠছে গুঞ্জন। এবার কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন