Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন

না.গঞ্জ বর্তমানে গ্রীন এন্ড ক্লিনের দিকে

Icon

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

না.গঞ্জ বর্তমানে গ্রীন এন্ড ক্লিনের দিকে

না.গঞ্জ বর্তমানে গ্রীন এন্ড ক্লিনের দিকে : সাখাওয়াত

Swapno



সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, নগরবাসীর স্বার্থে যা করা প্রয়োজন ইতিমধ্যে সেই পথকে অনুসরণ করেই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে চেয়ারে বসেই গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়তে ৬০ দিনের বিশেষ যে কর্মসূচি নিয়েছিলাম। সেই কাজগুলো ইতিমধ্যে কিছু কিছু বাস্তবায়ন হওয়া শুরু করেছে। যে ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি নারায়ণগঞ্জ বর্তমানে গ্রীন এন্ড ক্লিনের দিকেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করেই এটিকে একটি বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে পেয়েছি। কোথাও কোন শৃঙ্খলা ছিলো না। রাস্তা-ঘাট পরিপূর্ণ হকারদের দখলে ছিলো। তা ছাড়া যানজট নারায়ণগঞ্জের একটি নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে ছিলেন। এর বাহিরে ও নানান সমস্যায় জর্জড়িত ছিলো এই সিটি এলাকা। যাকে ঘিরে দায়িত্ব গ্রহণ করেই দায়িত্বটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম।


তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে সামাজিক,নাগরিক, রাজনৈতিক সকলের সঙ্গে বৈঠক করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জকে হকারমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। যার সুফল ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জবাসী ভোগ করছে। তা ছাড়া হকারদের সঙ্গে আরেকটি বিষয় উঠে আসে যানজট। যা ইতিমধ্যে একাংশ অনেকটাই কমে এসেছে।


তিনি বলেন, আমার পূর্বে যারা এই সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন তারা অবিবেচনা প্রশত এই নারায়ণগঞ্জকে পরিচালনা করেছেন। রাজধানীর ২টি সিটি কর্পোরেশন নারায়ণগঞ্জের ২০/২৫টি সিটির সমান সেখানে দুটি সিটিতে ১০ হাজার করে ২০ হাজার অটোরিক্সার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাবেক প্রশাসকরা ১৮ হাজার অটোর লাইসেন্স দিয়েছেন শুধু নারায়ণগঞ্জে। যার ভারে নারায়ণগঞ্জে যানজট লেগেই রয়েছে। যাকে ঘিরে এটাকে নিরসন করার ক্ষেত্রে আমরা ইতিমধ্যে ডিজিটাল প্লেট চালু করেছি যেখানে যাচাই করে ৮ থেকে ১০ হাজার অটো রিক্সাকে আমরা লাইসেন্সভুক্ত করবো। আর নজরদারী বাড়িয়ে দিবো যাতে অন্যকোন লাইসেন্স ছাড়া অটো প্রবেশ করতে না পারে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জকে গ্রীন ও ক্লিন সিটিতে পরিণত করতে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি।


তিনি আরো বলেন, এদিকে গ্রীন নগরী গড়তে ইতিমধ্যে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সকল বজ্যকর্মীদের সাথে আমি আলোচনা সভা করেছি। সেই সাথে কাজ ও শুরু করেছে যার সুফল নারায়ণগঞ্জের মানুষ পাচ্ছে। যাকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ গ্রীনের দিকে আর বাকি ক্লিনের বিষয়টা হলো বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ড্রেন ও রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। সেগুলো ধীরে ধীরে শেষ হলে নারায়ণগঞ্জ অনেকটাই ক্লিন দেখা যাবে। আমরা ৩১ টি খালকে শনাক্ত করেছি, পূর্বে গঞ্জে আলী খাল খনন করে সেটাকে একটা পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। অন্য অন্য আরো ৩০টি খালকে আমরা উদ্ধার করবো এবং প্রতিটি খাল খনন করে সেখানে যেন পানি প্রবাহিত নিশ্চিত হয় সেখানে নজর দিবো তাছাড়া প্রতিটি খালের দুপাশে গাছ লাগিয়ে সবুজায়নের চেষ্টা করব।


তিনি বলেন, তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর যে পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে গ্রীন সিটিতে রূপান্তরিত করতে আমরাও বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। পুরনো শহর হওয়ায় সুপেও পানি থেকে নারায়ণগঞ্জবাসী বঞ্চিত ছিলো সেটা থেকে আমরা উত্তোলনের জন্য মধ্যে আমরা এটিপির মাধ্যমে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি যা ১৬শত ৯৬ কোটি টাকা। আর এর কাজ হলো ৪০ বছর পূর্বের যে পাইপ গুলো দিয়ে নারায়ণগঞ্জের পানি সরবরাহ হয় সে পাইপগুলো রাস্তা কেটে আধুনিকভাবে সংস্কার করা হবে তাছাড়া পানির স্পিট যাতে ভালো থাকে। সে ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জে ৩৪টি পাম থেকে ৩২ টি পাম্প নতুন তৈরির পদক্ষেপ আমরা ইতিমধ্যে চালু করে দিয়েছি। বর্তমানে বন্দরের দুটি ইউনিয়নে দুটি পাওয়ার পাম্পের কাজ চলমান।


তিনি আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের জন্য নারায়ণগঞ্জে ৩২ টি ছোট-বড় মাঠ তৈরীর পদক্ষেপ ইতিমধ্যে আমরা হাতে নিয়েছি। শুধু তাই নয় শিশু-কিশোরদের জন্য ক্রিকেট ও ফুটবলে কোর্স চালু করতে যাচ্ছে সিটি কপোরেশন। তা ছাড়া নগরবাসীকে ডেঙ্গুর সোবল থেকে রক্ষা করতে ইতিমধ্যে সিটির প্রতিটি এলাকা পাড়া মহল্লায় নিয়মিত মশক নিধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তা ছাড়া বিগত দিনে যে ঔষধ দেওয়া হতো এতে মশা মরা যেত না। যার কারণে আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে মশার ঔষধ কালেকশন করে সেগুলো ল্যাবে দিয়ে পরীক্ষা করে ভালো ঔষধ নিয়ে মশক নিধন কাজ পরিচালনা শুরু রয়েছে।


সর্বশেষ তিনি বলেন, বিগত ২১ বছর নারায়ণগঞ্জে যে কাজগুলো হয়েছে তা একটি ও পরিকল্পিতভাবে হয়নি। যার ফলপ্রশ্রুত নারায়ণগঞ্জে লাখো লাখো মানুষের চলাচল ও বসবাস থাকলে ও এখানে সড়ক একটি যার মাধ্যমেই বোঝা যায় নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনে কোন পরিকল্পনায় উন্নয়ন হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে রাস্তা আরো বড় ও রাস্তার সংখ্যা বাড়িয়ে শহরের যানজট লাগব আনতে ইতিমধ্যে নানা পরিকল্পনা তৈরি শুরু করেছে। আশা করছি আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের গ্রীন এন্ড ক্লিন সিটির সুফল ভোগ পাবে নগরবাসী।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন