Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হাট-নলকূপ-হকার নিয়ে বিতর্কে সাখাওয়াত

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

হাট-নলকূপ-হকার নিয়ে বিতর্কে সাখাওয়াত

হাট-নলকূপ-হকার নিয়ে বিতর্কে সাখাওয়াত

Swapno

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়ে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। দায়িত্ব গ্রহণের দিনে ৬০ দিনে নগবরসীর সকল সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ৮৪ দিনেও কোন পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়নি। শহরের দীর্ঘদিনের হকার সমস্যা, যানজট, অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, মশক নিধন, ও ভাঙাচোরা সড়ক একটি থেকে ও উদ্ধার পায়নি নগরবাসী। যাকে ঘিরে সাখাওয়াতের এই মুখের ফুল ঝুড়ি স্ট্যান্ডবাজি হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।


এদিকে হকার উচ্ছেদের নামে ‘গান্ধি পোকা’ ইস্যু দেখিয়ে কিছুদিন হকার উচ্ছেদের নাটকীয় রূপ শেষে ফের নিজেই হকারদের সঙ্গে বৈঠক করে ফুটপাত নিয়ন্ত্রণের নামে নমনীয় রূপ দেখাচ্ছেন যা বিতর্ক ছড়িয়েছে। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সকল বছর থেকে বেশি ২৭ টি হাট দিয়ে ফের ৫টি হাট ঘোষণার আগের দিন স্থগিত করে পড়েছেন বিতর্কে। ইতিমধ্যে যা নিয়ে শুরু করেছেন স্ট্যান্ডবাজি। হাটে কোরবানির পশু উঠলে ও স্থগিত করে হাটের সিডিউল বিক্রির দ্বিতীয় দাপে ও নেয়নি কোন পদক্ষেপ। অনেকেই বলছেন, সকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কি নিজের পকেট ভারী করতেই ইজারা ছাড়াই পরিচালিত হবে এই ৫টি হাট।


তা ছাড়া একইভাবে কয়লাঘাট এলাকায় গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তারকে হাট ইজারা ছাড়াই বুঝিয়ে দিবে এমনটাই বলায় বিশাল টাকা ম্যানেজে অবৈধ পশুর হাট করছেন আক্তার নাম বলছেন সাখাওয়াত সাহেব দিয়েছেন। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আবাসিক নলকূপের রেজিস্ট্রেশন ও পানির কর দাবি করেই আরেক বিতর্কে প্রশাসক সাখাওয়াত। এবার নগরবাসী ফুসেছেন সাখাওয়াতের বিরদ্ধে, করেছেন মানববন্ধন। এই কর বাতিল চেয়ে তার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন স্থানীয় নগরবাসী ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা। তা ছাড়া আরো একাধিক বিতর্ক যা দ্রুতই প্রকাশ্যের পথে। বর্তমানে হাট-নলকূপ-হকার নিয়ে বেকায়দায় সাখাওয়াত। ঈদুল আযহার পর সাখাওয়াতের নানান কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে নগরবাসী ও ভুক্তভোগী অনেকেই এমনটাই গুঞ্জন উড়ছে।  


সূত্র জানিয়েছে, সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত সর্বদা নগরবাসীর পাশে থাকার আশ্বাসের ফুল ঝুড়ি ছিটিয়ে নিজের আখেড় গোছাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনকে নিজের পার্সোনাল অফিস বানিয়ে সেখান থেকেই সব কিছু নিয়ন্ত্রনের ঘাঁটি বেঁধেছেন। তা ছাড়া সিটি কর্পোরেশনে তার নিজস্ব কর্মীবাহিনীর মাধ্যমে জিম্মি করে রেখেছেন পুরো সিটি কর্পোরেশন। যা বিগত দিনে করতে পারেনি সাবেক মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী।


এদিকে প্রশাসক সাখাওয়াত সিটি বাসীর নয় নিজের চাহিদা মোতাবেক নানান কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তা ছাড়া ২০২৪ পর সিটি কর্পোরেশনে যে বড় আকারের দুর্নীতি শুরু হয়েছিলো। এর থেকে ও বেশে গত ২৫ ফেব্রুয়ারী থেকে সিটি কর্পোরেশনে শুরু হয়েছে। নিরবে লোপাট হচ্ছে নগরবাসীর অর্থ। তা ছাড়া নগরবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে শহরে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ঝিমিয়ে পরেছেন সাখাওয়াত। সকলেই বলছে সবই ম্যানেজের চমক। এদিকে গত ১৩ এপ্রিল সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেয়। শুরুতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করে।


এখন অনেক জায়গায় আবার বস্তা বিছিয়ে বসতে দেখা যাচ্ছে হকারদের। বঙ্গবন্ধু সড়কে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম এখন “চোর-পুলিশ খেলায়” পরিণত হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান হলে কিছু সময়ের জন্য সড়ক ফাঁকা থাকে, পরে আবার হকাররা ফিরে আসে। ফলে স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রশাসক। তিনি জানিয়েছিলেন, হকার্স মার্কেটে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে বা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।


হকারদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীদের মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এঘটনায় থানায় দশজনের নাম উল্লেখ করে ১৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও এখনও এর কোন অগ্রগতির নেই। তা ছাড়া কিছুদিন পূর্বে প্রশাসক সাখাওয়াতের সঙ্গে নগররীর হকাররা বৈঠকে যায়। এর পর থেকেই হকাররা নির্বিঘ্নে ফুটপাতে নামিয়েছেন ভ্যান-টেবিল নেই সিটি কর্পোরেশনের কোন নজরদারি। যাকে ঘিরে বোঝা যায় সেই পুরনো ছন্দ "চোরকে বলে চুরি করতে, গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকতে"। বর্তমানে এই প্রন্থায় চলছে সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।


একই সাথে সিটি প্রশাসক কিংবা মেয়রের কাছে তুচ্ছ বিষয় ছিলো ঈদুল আজহাকে ঘিরে কোরবানীর পশুর হাট। কোন সময় হাটকে ঘিরে লক্ষ্য করা যায়নি এমন বড় ধরনের স্ট্যান্ডবাজি। কিন্তু এবার সিটি কর্পোরেশনের হাটগুলোতে সিটি প্রশাসক নিজেই ইন্টার ফেয়ার করায় বিশৃঙ্খলার শেষ নেই। হাট নিয়ে এবার প্রথম থেকেই শুরু করেছেন তালবাহানা। বিগত স্বৈরাচার আমল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিটি এলাকায় সব্বোর্চ ১৮/১৯ টি হাট হলে ও এবার সব থেকে বেশি ২৭ টি হাট হতে যাচ্ছে সিটি এলাকায়।


যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম বিক্রি করেই দিচ্ছেন তিনি। (তারেক রহমান সবাইকে হাট দিয়ে সন্তুষ্ট রাখতে বলেছেন) এই ছন্দ বিক্রি করেই সৃষ্টি করেছেন বিশৃঙ্খলা। এদিকে ইতিমধ্যে ২২ টি হাটের ঘোষণা আসলে ও ৫টি হাট নামে স্থগিত। কিন্তু সকল হাটেই সকল কার্যক্রম চলছে। তা ছাড়া দ্বিতীয় দাপে বাকি ৫টি হাটের ঘোষণা আসবে শুনলে ও তার কোন সিডিউল হয়নি বা হয়নি। কিন্তু আজকে একটা সুরাহা হবে বলে শোনা যাচ্ছে।


(গুঞ্জন কত টাকার জন্য স্থগিত রয়েছে হাটগুলো) নাকি সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ধান্দা। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের কয়লাঘাট পশুর হাটটি নিয়ে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে গোগনগর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন ও যুবদল নেতা মন্তু অবৈধভাবে একটি হাটে কোরবানীর পশু তুলে হাট শুরু করেছেন।


১৮নং ওয়ার্ডের কড়ইতলা হাটের ইজারাদার রাফি উদ্দিন রিয়াদ জানান, বিআইডব্লিউটিসি, ও বিআইডব্লিউটিএ এর কিছু জায়গায় ভুয়া এনওসি দেখিয়ে হাটের জন্য আবেদন করেছিলেন নামধারী বিএনপি নেতা গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন থেকে সেই হাটের কোন অনুমোদন দেননি। কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়নি। কিন্তু তারা অবৈধ ভাবে এই হাটটি বসিয়ে এদিকে যেমন সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, অন্য দিকে আমরা এই ওয়ার্ডে দুটি হাটে যারা ইজারা নিয়েছি তাদেরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।


এছাড়াও তারা কড়ইতলা হাটের কথা বলে ট্রলার থেকে গরু নামিয়ে কয়লাঘাটের ব্রিজের নিচে অবৈধ হাটে নিয়ে যাচ্ছে। এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। নয়তো যে কোনো সময় একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে একটি সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে। তখন এসব কিছুর দায় সিটি কর্পোরেশন এবং নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনকে নিতে হবে। তবে কয়লাঘাট এলাকায় অবৈধ হাটটি পরিচালনা করা গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন জানান, সাখাওয়াত ভাই এসে আমাদের হাটের ঘোষণা দিবেন। যাকে ঘিরে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দেড় কিলোমিটারে ১ টি করে হাট থাকার কথা থাকলে ও সেই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন সাখাওয়াত নিজেই। যার মাসুল ঈদুল আযহার পর পরই তার দিতে হবে।


সর্বশেষ নলকূপের কর নিয়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে চলছে আন্দোলন। মৌলিক সেবা না দিয়ে নতুন কর আরোপ সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান কে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  পরিবেশ আন্দোলন নারায়ণগঞ্জের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আবাসিক নলকূপের রেজিস্ট্রেশন ও পানির কর বাতিল সহ ৬ দফা দাবীতে গতকাল নাগরিক সমাবেশে তিনি বলেন,   সাখাওয়াত সাহেব, আপনি চেষ্টা করতে পারেন আমরা চ্যালেঞ্জ করলাম। এই নলকূপের কোনো রেজিস্ট্রেশন আমরা করব না, করতেও দেব না ।


আপনার যদি ক্ষমতা থাকে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেখান। আমরা কোনো দল-নেতা চিনি না, আমরা শুধু নাগরিক অধিকার চিনি । আমাদের প্রথম দাবি সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এই চেয়ারে থাকার নৈতিক অধিকার আপনার নেই। আপনি নির্বাচিত নন, নিযুক্ত। অথচ নাগরিকদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন। মৌলিক সেবা না দিয়ে নতুন কর আরোপ সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ গভীর নলকূপ ব্যবহারকারী আবাসিক সমবায় সমিতির উদোগ্যে শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আর এই নাগরিক সমাবেশ থেকে বিভিন্ন প্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান।


বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পানির ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কর আরোপ জনদুর্ভোগ বাড়াবে। সমাবেশ থেকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা অভিযোগ করেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না করে উল্টো জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃক ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত এবং অনিয়মিত পানি সরবরাহ নিয়ে চরম ভোগান্তিতির কথাও উল্লেখ করেন বক্তারা। সব মিলেই বর্তমানে হাট-নলকূপ-হকার নিয়ে বিতর্কে সাখাওয়াত। এবার ১ জুন অটোর লাইসেন্সের নামে শহরে কি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন