চুন খসলেই খুন
নারায়ণগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের অপর এক হত্যাকান্ডে লাশের মিছিলে পরিণত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা। নারায়ণগঞ্জের জেলার প্রতিটি থানা/উপজেলা প্রতিনিদনই মাদককারবারে বাঁধা, ছিনতাই, রাজনৈতিক বিরোধে রোমহর্ষক হত্যাকান্ড সংগঠিত হচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জে একের পর এক হত্যায় প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় আসামীরা হত্যা সংগঠিত করেই সেইফ জোনে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো প্রশাসনের ডেম কেয়ার মনোভাব এবং আইন শৃঙ্খলা অবনতি নিরসনে বিশেষ কোন পদক্ষেপও নিচ্ছে না। যার কারণে কোন ক্রমেই লাশের মিছিল থামছে নারায়ণগঞ্জে।
হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। বন্দরে মাদককারবারি নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে বাধা দেওয়ায় প্রকাশ্যে জুয়েল নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে ১৯নং ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে ধর্মগঞ্জ চতলার ফাজিল পাড়ায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জের ধরে বড় ভাই ছোট ভাইকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। অপরদিকে বৃহস্পতিবার(১৪মে) দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে নাসির হোসেন চা পান করে ডিস গ্রাহকের কমপ্লোইন পেয়ে ‘ফ্রেন্ডস ক্যাবল’ অফিসে যান। পিছনে পিছনে নাসির হত্যার মাদককারবারী কিলার শরীফ এবং জুয়েল গিয়ে ক্যাবল অফিসের সামনেই ওত পেতে থাকেন।
ক্যাবল অফিসে নাসিরের কর্মব্যস্ততাকে লক্ষ্য করে ক্যাবল অফিসে ডুকেই হত্যার উদ্দেশ্যে ছুড়ি এবং দেশীয় অস্ত্র বের করে গুরুতর জখম করে নাসির হত্যা নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের হামলায় নজরুল ইসলাম (৫২) নামের এক সুতা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩মে) দিবাগত রাতে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহতের স্ত্রী শাহানূর বেগমকে শ্বাসরোধ ও পিটিয়ে আহত করা হয়।
অপরদিকে গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লার চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট এবং গ্যারেজ দখল নিয়ে বিরোধে জড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার সাথে। সেই ঘটনার জের ধরে ২৯ মার্চ শুভর ওপর পাল্টা হামলা চালায় রানা গং। সেদিনই শুভকে মারধর শেষে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণ হয় ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ। সে পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে।
২ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় শুভ অপহরণের মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলার আসামিরা হয় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা (৫১), কাশেম (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩) ও লাল শুভ (২০)। তাঁদের মধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক,ওয়াসিম,লাল শুভ, জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৫ এপ্রিল সকালে শুভর পরিবারের লোকজন পুলিশের মোবাইলে তোলা লাশের ছবি দেখে তা শুভর লাশ শনাক্ত করেন বাবা সোহেল ও মা মাকসুদা বেগম। শুভ অপহরণের পর ৩০ মার্চ সকালেই মরদেহটি উদ্ধার হয় ফতুল্লা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকায়।
তবে, তখন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় তথ্য বাতায়নে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবেই ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করেন। এই ঘটনার ১মাস হতেই এক প্রকার রহস্যকজনক ভাবে শুভর মা মাকসুদা বেগমের ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকা দিয়ে অটো যোগে ফেরার পথে অটোর সাথে কাপড় পেঁচিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।


