হাটে গরু, ক্রেতার অপেক্ষা
বছর ঘুরে আবার চলে এলো ঈদুল আযহা। আর মাত্র ৫ দিন পরেই ঈদুল আযহা পশু কোরবানির মাধ্যমে উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এ বছর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় এবং সিটি করপোরেশনে ৪২ টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৭টি এবং সদর উপজেলা এলাকায় ১৫ টি পশুর হাট বসেছে। প্রায় সব হাটেরই ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শেষ। সেই সাথে কয়েকটি হাট ব্যতিত স সবকটি হাটে পর্যাপ্ত গুরু উঠেছে । তবে এখনও তেমনভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। তার মাঝে অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি হাটে জোর করে বেপারীতের গরুর রশি টানাটানি শুরু হয়ে গেছে।
এদিকে শীতলক্ষ্যা ব্রিজ সংলাগ্ম হাটটি বিশাল এলাকায় জমে উঠলেও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো পুরো এলাকা। তবে এবার সেই চিত্র ভিন্ন। এই হাট টি টেন্ডার নিয়ে এবার জামেলা হওয়ায় এখনও তেমনভাবে ক্রেতাদের দেখা না মিলছে না। তার মাঝে কয়লা ঘাটের হাটের সাথে এবার অবৈধ ভাবে পুবালী ফ্যাক্টরীয় সংলগ্ম জোর করে হাট বসিয়েছে গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন। তারা জোর করে বেপরাীদের গুরু নিয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু এলেও বিক্রেতারা রয়েছেন ক্রেতার অপেক্ষায়।
জানাাযায়, নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ১৫টি হাটের মাঝে গোগনগরে রয়েছে আওয়ালের গুদরাঘাট, শীতলক্ষ্যা ব্রিজ সংলগ্ম হোসনে আরা বেগমের জায়গায়,বাড়িরটেক পশুর হাট, গোহগনগর আলী আকবর সমিল , বাদশা মিয়ার ভুমি সংলগ্ন কোরবানির পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, কড়ইতলা হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নদী পথে স্থল ও পথে ট্রাকভর্তি গরু আসছে এসব হাটে। ব্যবসায়ীরা সেসব গরু ট্রাক থেকে নামিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। শীতলক্ষ্যা ব্রিজের নিচে নৌপথেও গরু আনা হচ্ছে। তবে হাটের ভেতরের প্রস্তুতি পুরোপুরি ভালো ভাবে রয়েছে। কিন্তু এই হাটটির ইজারা প্রক্রিয় নিয়ে জামেলা শেষ হলেও এখনও ক্রেতাদের অপেক্ষায় গরুর বেপারীরা।
এছাড়া শীতলক্ষ্যা ব্রিজসংলগ্ম নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী শামিম ১৭টি গরু নিয়ে এসেছেন। এখনও একটি গরু বিক্রি করতে পারেন বলে তিনি জানান। মানুষ গরু দেখতে আসলেও তেমন দাম হকাচ্ছে না। কিছুটা হতাশার সুরে তিনি বলেন, গতবার এই সময় কয়েকটা গরু বিক্রি করেছি, ভালোই ব্যবসা হয়েছিল তখন। এবার পরিবেশ একেবারেই আলাদা। তবে এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছি না, সময় তো আছে।’ দেড় থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে দামের গরু এনেছেন তিনি।
জামালপুর থেকে আসা বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ১৫টি গরু এনেছেন, কিন্তু এখনও কোনও গরু বিক্রি হয়নি। মাঝারি আকৃতির এসব গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। এখন শুধু অপেক্ষায় আছি’। একই এলাকা থেকে এসেছেন জামাল বাদশা। তিনি জানান, গত রবিবার (১ জুন) ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন, কিন্তু এখনও একটিও বিক্রি হয়নি।
গোগনগর আলী আকবর সমিল হাটে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। নগরীর পাইকপাড়া থেকে আসা সেলিম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘এখনও গরু কেনা হয়নি, দেখছি পছন্দ হলে কিনবো।’ আগে হাট অনেক বড় জায়গাজুড়ে বসতো, এখন জায়গা ছোট হওয়ায় গরুর সংখ্যাও কম। তবে সব আকৃতির গরুই রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, গরুর দামও খুব একটা বেশি নয়, সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে। হাটে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও সন্তোষজনক। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নজরদারিতে রয়েছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, কোন হাটে কেউ গরুর রশি নিয়ে টানাটানি করলে তার হাটের ইজারা বাতিল করে দেয়া হবে। গরুর বেপারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। হাটে যেন জাল টাকার ছড়াছড়ি না হয় তার জন্য জাল টাকা পরীক্ষার মেশিন রাখতে হবে।


