একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিএনপির মতো বড় দলে কালিমা লেপন করছেন খোদ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবুল আল ইউসুফ খান টিপু। নিজেকে ত্যাগী নেতা দাবি করলেও আদতে বিএনপির দুঃসময়ে পাশে ছিলেন না টিপু। দুঃসময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন দিশেহারা ঠিক তখন জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি (বিএনএফ) এ।
শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের ১৭ বছর যখন বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন মামলা-হামলায় দিশেহারা, তখনও দিব্যি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন এই টিপু। নারায়ণগঞ্জসহ বিএনপির বাঘা বাঘা নেতাদের নামে যখন শত শত মামলা, তখনও মামলাবিহীন ছিলেন টিপু। যখন এই নিয়ে শরগোল তৈরি হয় তখনই ২০২৪ এর ৫ আগস্টের বছর খানেক আগে থেকে বিএনপির নেতা হিসেবে মামলা খাওয়া শুরু করেন আবু আল ইউসুফ খান টিপু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিএনপি নেতা মনে করেন, মূলত ওসমান পরিবারের আশীর্বাদে থাকায় টিপুর নামে মামলা হয়নি।
যখন সবাই টিপুর মামলাহীন থাকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তখনই হঠাৎ টিপুর নামে মামলা দেয়া শুরু করে আওয়াম লীগ নেতারা। এসব মামলায় মাত্র একবার কারাগারে যেতে হয়েছে টিপুকে। এতেই ভাগ্য খুলে যায় টিপুর। তৈমূর আলম খন্দকার ও এটিএম কামালের বহিষ্কার এর সুযোগ লুফে নেয় টিপু। যদিও সেই সিটি নির্বাচনে টিপু কতখানি বিএনপির হয়ে কাজ করেছিলেন তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কেননা রাইফেল ক্লাবের আশেপাশে টিপুর আনাগোনা বেশি থাকায় খোদ বিএনপির কর্মীরাই তাকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। সদস্য সচিব পদ পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন টিপু, এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেন যে ৫ আগস্টের পর বন্দরে এক ঘটনায় টিপু মারধরের শিকার হন। এরপর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে প্রশ্নের মুখে ফেলে বিএনপিকে।
বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই মনে করেন, ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলানো যার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই ব্যক্তি কি করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পান তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । কেননা তিনি কখনো বিএনপির রাজনীতি করে আবার কখনো বিএনএফের দায়িত্ব নেন নারায়ণগঞ্জ জেলার। সাম্প্রতিক সময়ে নারী আইনজীবিরা তাকে টোকাই চাদাঁবাজ বলে মন্তব্য করেন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপুও নারী আইনজীবিদের নর্তকী মন্তব্য করে দায়িত্বহীন নেতার পরিচয় দিয়ে সমালোচিত হন।
এদিকে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর একে পর এক বিতর্ক কমকার্ন্ডে এখন তারই দলের নেতাকর্মীরা বিব্রত বোধ করছে। এমনকি এই নেতার বিতর্কিত আচার আচরণ নিয়ে দলীয় হাই কমান্ড পর্যন্ত তার উপর ক্ষুব্ধ। দলের নেতাকর্মীদের সাথে কর্মচারীর মত দুর্ব্যবহারে কর্মীরা অতিষ্ঠ, তাঁর আচার আচরণে। প্রভাবশালী নেতারাও টিপুর আচরণে ক্ষুব্ধ। এছাড়া কখনো সাংবাদিকদের সাথে গালাগালি, হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে তার সাথে। সেই সাথে তারই দলের নেতাকর্মৗদের মারধর করে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাছাড়া হকারদের থেকে চাদাঁবাজি, টেক্সি স্ট্যান্ডের উপদেষ্টা হয়ে সেখানকার শ্রমিকদের মারধর, চাদাঁবাজিতে তার সংশ্লিষ্ট থাকায় সকলেই তার উপর ক্ষুব্ধ। এত কিছুর পরেও এই নেতার আচরণে কোন পরিবর্তন নেই। আর এজন্য দলের নেতৃবৃন্দ না পারছে তাকে ফেলতে না পারছে তাকে সংশোধন করতে।
অপরদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, চাঁদপুরের মতলব থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি অ্যাড. কালামের হাত ধরে তার উত্থান হয়। তিনি বিএনপির সহযোগি সংগঠন ছাত্র দলের রাজনীতি থেকে উঠে আসলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে বিদিশা এরশাদের মিটিং করেও সমালোচিত হয়েছে। এছাড়া বর্তমান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু জেলা বিএনএফের আহবায়ক ছিলেন। সেই নেতা আবার বিএনপির সদস্য সচিব বনে যাওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে আঘাত হানে। আবু আল ইউসুফ খান টিপুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলরা। তিনি বিএনএফে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বিএনপির অনেক ত্যাগি নেতাকর্মীদের ফুঁসলে তার কমিটিতে নিয়ে যায়। যা বিএনপির জন্য তখন তা অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া আওয়ামী লীগ আমলে বিতর্কিত এড.টিপু তেমন একটা জেল খাটেন নাই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তিনি একবার জেলে যান। অথচ তার থেকে বিএনপির অনেক নেতা ৫০ থেকে ১০০ টি মামলা খেয়েও বড় পদে দায়িত্ব পান নাই। কিন্তু ১০ থেকে ১২ টি মামলা খেয়ে একবার জেল খেটে বেপরোয়া টিপু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব বনে যান। যা এখন দলের নেতাকর্মী, বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে তাকে এই পদ থেকে সরানোর দাবি উঠেছে, কেন্দ্রও এসব বিষয় অবগত হয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনে ২০২৪ সনের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই ফ্রন্টলাইনে চলে এসে বিতর্কে জড়াতে থাকেন টিপু। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয় দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনে সহযোগিতা, মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুখের লাগামহীন টিপুর লাগাম টেনে ধরার সময়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল।
সাম্প্রতিক সময়ে এসে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় মিডিয়াগুলিতে তীব্রভাবে সমালোচিত হচ্ছেন আবু আল ইউসুফ খান টিপু। অনেকে জানতে চাইছেন নারায়ণগঞ্জে বিএনএফ এর মূল কারিগর টিপু কিভাবে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হলেন? বিএনপির অনেকে মনে করেন, টিপুর কারণেই বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অগ্রগতি।
সবশেষ নারী আইনজীবি আমেনা প্রধান শিল্পির উপর হামলা করে বিতর্কের শেষ পেরেক মারেন। এই ঘটনায় তার পদ থাকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরী হয়েছে। এছাড়া নারী আইনজীবিদের নর্তকী মন্তব্য করে কোর্টে বাইরে তুমুল সমালোচিত হন এই নেতা। তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে কঠিন শাস্তির দাবী জানান নারী আইনজীবিরা। ঈদের পরে সেই শাস্তি দেখার অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা।