দলের সিদ্ধান্তে ঈর্ষায় গোস্যা করেন টিপু
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
দলের সিদ্ধান্তে ঈর্ষায় গোস্যা করেন টিপু
একের পর এক নতুন বিতর্ক জন্ম দিয়ে আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। আলোচনায় থাকতে একাধিক বার নিজ দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করতে দেখা গেছে এই টিপুকে। তা ছাড়া সাম্প্রতিক গেলো জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কের মাঝে পরেন টিপু। এদিকে গত (৩ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড থেকে ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রকাশ্যে মাসুদুজ্জামান মাসুদের বিরোধীতা করেছিলেন টিপু।
তাকে আওয়ামী লীগের দোসর প্রকাশ্যে আখ্যাসহ একাধিক মন্তব্য নিজ ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দিয়েছিলেন টিপু। পরবর্তীতে পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়াঁন মাসুদুজ্জামান। যাকে ঘিরে (২০ ডিসেম্বর) মনোনীত করা হয় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে তা নিয়ে ও বিরল মন্তব্যে এবং কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলে নিজ ফেসবুকে দিয়েছেন স্ট্যাটাস। সর্বশেষ (২৪ ডিসেম্বর) চূড়ান্ত মনোনয়ন পান এড. আবুল কালাম যা নিয়ে ও নানা মন্তব্য করে শেষে কোন কুলকিনারা না পেয়ে তার ছায়া তলেই গিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে নির্বাচনের পর চলতি বছরের (২২ ফেব্রুয়ারী) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। যা নিয়ে নিজ ফেসবুকে হাইকমান্ডকে দোষারপ করে নানা মন্তব্য করেছেন। এর আগে ও গত বছরের (০২ ফেব্রুয়ারী) জেলা বিএনপির কমিটিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে পদায়ন করা হয় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে যা নিয়ে মন্তব্য তুলেছিলেন টিপু। একই সাথে (১৫ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্ব পান অধ্যাপক মামুন মাহমুদ যা নিয়ে টিপু কেন্দ্রেকে দোষারপ করে তিনি মূল্যায়িত কেন হন না, সেই প্রশ্ন তুলে নিজ ফেসবুকে দিয়েছিলেন স্ট্যাটাস।
সব মিলিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে তুচ্ছতাছিল্যে করে থাকেন এই টিপু যা তার স্ট্যাটাসগুলোর শব্দ চয়ন শুনলেই লক্ষ্য করা যায়। এদিকে টিপু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের পদে পদায়ন হওয়ার পর নিজেকে বড় নেতা দাবি করে ও ধমক এবং জারিতে নেতাদের রেখে নানাকর্মে লিপ্ত হয়ে রয়েছেন।
ইনসাফের মায়ের মৃত্যু হয়েছে! যেখানে ইনসাফ নেই, সেখানে বলার কিছু থাকে না। যে কোনো স্থানে একজনই সব কিছু বারবার পাবে, আর অন্যরা আঙুল চুষবে । মেয়র প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল, এমপি প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও তা ভুল হবে না। ত্যাগ ও যোগ্যতা একজনেরই? বাকিরা কলুর বলদ। গাধার মতো খাটবে একজন, আর ফল দেওয়া হবে আরেকজনকে।
কেউ যদি আমার সাথে নাটক করে,আমিও তার সাথে নাটক করবো,কেউ যদি আমাকে বিশ্বাস করে,আমিও তাকে বিশ্বাস করবো,কেউ যদি আমাকে সম্মান করে,তাহলে আমিও তাকে সম্মান করবো,কেউ যদি আমার উপকার করে,তাকে আমি তার থেকে দশ গুণ উপকার করবো,কেউ যদি আমাকে অহেতুক চোখ রাঙ্গায়, আমি তাকে বুঝিয়ে দিবো। অতএব আমাকে নিয়ে খেলার চেষ্টা করবেন না,তাহলে আমিও খেলতে কম জানি না। অতএব সাধু সাবধান ।
বার,বার একই লোক যদি এমপি ও মন্ত্রী হয় বা যারা এমপি হয়েছে,তারাই যদি মন্ত্রী হয় অথবা ২১৩ জন যদি এমপি হয়ে তাদের থেকেই মন্ত্রী হয় অথবা জাতীয় পর্যায়ে নেতারাই মূল্যায়িত হয়,তাহলে তৃণমূল,জেলা ও মহানগরে যারা ফ্যাসিস্ট আ'লীগের ১৬ বছর জেল,জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হলো এবং অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু হলো, তাদের অবস্থা কি হবে? অতএব ২১৩ জনের মধ্য অনেকে আন্দোলন ও সংগ্রাম না করে ত্যাগ শিকার না করে এমপি হয়েছেন,তারাই যদি আবার এমপি ও মন্ত্রী হয়,তাহলে তৃণমূলের মূল্যায়ন হবে কি ভাবে? আর বর্তমানে তৃণমূল অবমূল্যায়ন হচ্ছে,কারণ জাতীয় পর্যায়ের নেতারা এবং যার এমপি হয়েছে বা মন্ত্রী হবেন,তারা এবং গুলশান বিএনপি'চেয়ারম্যান কার্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতারা ও কর্মকর্তারা এখন আর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ফোন ধরেন না এবং দলের প্রাণ ও অভিভাবক দলের চেয়ারম্যানের সাথে দলের তৃণমূল এবং জেলা ও মহানগর বিএনপি'র নেতাকর্মীদের সাক্ষাতেরও ব্যবস্থা করেন না। তাছাড়া মাননীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তার নামে গুলশান চেয়ারম্যান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ও সিএসএফ অনেক বাড়াবাড়ি করে,তাতে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে একটি দেওয়াল সৃষ্টি করে দূরত্ব সৃষ্টি করছেন,তাতে দলের ক্ষতি ছাড়া, সফলতা আসে না। এটি আমার কথা না, এটি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য,তার সাথে আমি একমত পোষণ করছি।অতএব সময় থাকতে সচেতন ও সজাগ হোন। সাধু সাবধান!
একের পর এক বিতর্ক তৈরি করায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবিও জানানো হচ্ছে। এর পরপরই আইনজীবী সমিতির এক নারী সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এবার আইনজীবী সমিতির নারী আইনজীবীদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত টিপু। এনিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা। তারা অবিলম্বে বিএনপি হাইকমান্ডকে টিপুর ব্যাপারে ব্যবস্থাগ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। এড.আমেনা আক্তার শিল্পী যিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর, তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এড.টিপুকে নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এর রেশ কাটতে না কাটতে গত শনিবার আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে প্রকাশ্যে সহকর্মী নারী আইনজীবীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, ‘এই কোর্টে (নারায়ণগঞ্জ) কয়েকজন নর্তকী আছে যারা পুরুষদের নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসে। আইন পেশা করে না, খালি আইনের পোশাক পরে এসে বেটাছেলেদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে ঘুরে আর নর্তকীগিরি করে।’ এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদ থেকে এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে বহিষ্কারের দাবি জানান বিশিষ্টজনেরা।
এ ঘটনায় গতকাল জেলা আদালত প্রাঙ্গণে নারী আইনজীবী এড. শিল্পীর উপর হামলা ও নারী আইনজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধণ। এদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন মানববন্ধনে টিপুর এই মন্তব্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন দলীয় হাইকমান্ডের। বর্তমানে বিশৃঙ্খল এই টিপুর বিরুদ্ধে হাইকমান্ডের কড়া নির্র্দেশনা আসতে যাচ্ছে। একসময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি (বিএনএফ) এ।


