সাখাওয়াতের সাথে তর্কে টিপু, মীমাংসায় কালাম
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
সাখাওয়াতের সাথে তর্কে টিপু, মীমাংসায় কালাম
দলীয় কিংবা সামাজিক সকল পোগ্রামেই কোন সময় নেতা অথবা কর্মীদের সঙ্গে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে বিতর্ক জন্ম দেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ঈদুল আযহার আগেই নারী এডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী টিপুর বিরুদ্ধে মারধর ও লাঞ্চিত করার অভিযোগ তুললে তা নিয়ে ঈদের দুইদিন আগে ও টিপুর বিরুদ্ধে আদালত প্রাঙ্গনে মানববন্ধন লক্ষ্য করা যায়।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালামকে পাত্তা না দিয়ে তার সম্মূখে মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের উপর চটে বসেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রকাশ্যে বাকবিতন্ডতা জড়িয়ে পড়েছেন।
ঘটনার (ভিডিও) ফুটেজ ইতিমধ্যে ভাইরাল। একই সাথে সেদিনই আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঘুষি দিয়ে গাল ফুলিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠে টিপুর বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে বেপরোয়া হয়ে পরেছেন বিতর্কিত টিপু।
এ সময় টিপুকে দেখা যায় তর্ক বাড়াতে আরো সমস্যার সৃষ্টি করতে। জানা যায়, প্রচন্ড গরমে খোলা আকাশের নিচে মহানগর বিএনপির আয়োজনে শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী আয়োজন করা হয়। এতে নবনির্বাচিত এমপি আবুল কালামকে নিয়ে অনুষ্ঠানটি দ্রুত সময়ে শেষ করার তাগিদ দেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও নাসিকের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।
এদিকে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনে প্রকাশ্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াতের উপর চটে গিয়ে দীর্ঘক্ষন তার সঙ্গে তর্ক বিতর্ক করে পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২ টায় জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপি মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই অতিথিরা সেখানে পৌঁছালেও অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এ সময় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘুষির আঘাতে আনোয়ার হোসেনের গাল কেটে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও জ্যেষ্ঠ নেতারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সেই সাথে তারই দলের নেতাকর্মৗদের মারধর করে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তা ছাড়া হকারদের থেকে চাঁদাবাজি, টেক্সি স্ট্যান্ডের উপদেষ্টা হয়ে সেখানকার শ্রমিকদের মারধর, চাঁদাবাজিতে তার সংশ্লিষ্ট থাকায় সকলেই তার উপর ক্ষুব্ধ। এত কিছুর পরেও এই নেতার আচরণে কোন পরিবর্তন নেই। আর এজন্য দলের নেতৃবৃন্দ না পারছে তাকে ফেলতে না পারছে তাকে সংশোধন করতে।
অপরদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, চাঁদপুরের মতলব থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি অ্যাড. কালামের হাত ধরে তার উত্থান হয়। তিনি বিএনপির সহযোগি সংগঠন ছাত্র দলের রাজনীতি থেকে উঠে আসলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে বিদিশা এরশাদের মিটিং করেও সমালোচিত হয়েছে। এছাড়া বর্তমান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু জেলা বিএনএফের আহবায়ক ছিলেন। সেই নেতা আবার বিএনপির সদস্য সচিব বনে যাওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে আঘাত হানে। আবু আল ইউসুফ খান টিপুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলরা। তিনি বিএনএফে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বিএনপির অনেক ত্যাগি নেতাকর্মীদের ফুঁসলে তার কমিটিতে নিয়ে যায়। যা বিএনপির জন্য তখন তা অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যা এখন দলের নেতাকর্মী, বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে তাকে এই পদ থেকে সরানোর দাবি উঠেছে, কেন্দ্রও এসব বিষয় অবগত হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে ২০২৪ সনের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই ফ্রন্টলাইনে চলে এসে বিতর্কে জড়াতে থাকেন টিপু। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয় দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনে সহযোগিতা, মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুখের লাগামহীন টিপুর লাগাম টেনে ধরার সময়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল।


