Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসের খবর পৌঁছে গেলো সংসদে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসের খবর পৌঁছে গেলো সংসদে

বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসের খবর পৌঁছে গেলো সংসদে

Swapno



# বিসিকের ঝুট সন্ত্রাস, ছিনতাই ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে এমপি আল-আমিনের উদ্বেগ
# ছিনতাই হয় তবে আর কোনো সমস্যা নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি : হাতেম
# নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি নেই : ওসি ফতুল্লা


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাসনগাঁও বিসিক শিল্পনগরীর ঝুট নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর নতুন নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঝুট নামানো, ঝুটে আধিপত্য, ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে নৈমত্তিক। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জমানাতেও আজমেরী ওসমান কিংবা অয়ন ওসমানের বাহিনীর মধ্যেও চলতো সন্ত্রাসী প্রতিযোগিতা। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শুধু হাতবদল হয়েছে, ঝুটের আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা কমেনি। এমনকি ঝুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে।


যুুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, কিংবা যাবেক ছাত্রদল সভাপতির লোকজনের মধ্যেও ঝুট নিয়ে দ্বৈরথ রয়েছে।  ঝুট নিয়ে সন্ত্রাসী, ছিনতাইসহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে গোটা বিসিক এলাকাই যেন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। এই ঝুট নিয়ে কথা বলায় অবরূদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো এনসিপি থেকে নির্বাচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এমপি আলআমিনকে। এবার তাঁর হাত ধরেই ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিসিকের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর পৌঁছে গেল সংসদে। ফতুল্লার শাসনগাঁও বিসিক শিল্পনগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।


তার বক্তব্যের পর শিল্পাঞ্চলটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। জাতীয় সংসদে শিল্পমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক প্রশ্নে এমপি আল আমিন বলেন, বিসিক শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুট সন্ত্রাস, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় যেমন শিল্প মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শ্রমিকরাও। তিনি আরও বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও বলা হয়, এটি বিসিক এলাকা হওয়ায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিসিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের কার্যকর কোনো পরিকল্পনা আদৌ আছে কি না।”


তবে শিল্পমন্ত্রী এমপির অভিযোগের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য চেয়ে বলেন, “এভাবে সামগ্রিক অভিযোগ না এনে নির্দিষ্ট ঘটনার কথা বললে বিষয়টি মূল্যায়ন করা সহজ হতো। আইনশৃঙ্খলার বিষয় হলে সরকার অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”


সংসদে এমন বক্তব্যের পর বিসিক শিল্পনগরীর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। শিল্পাঞ্চলটিতে নিরাপত্তা সংকট কতটা প্রকট, নাকি বাস্তবতা আড়াল করা হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।


এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র সভাপতি ও বিসিক মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে শুনেছি। তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট নিয়ে কোনো শিল্প মালিক আমার কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হতো।’


অন্যদিকে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম দাবি করেন, বিসিক শিল্পনগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “বিসিক এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই।’


তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিকই হয়ে থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্যকে কেন বিসিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে হলো? আবার যদি প্রকৃতপক্ষে কোনো সংকট না থাকে, তাহলে ঝুট সন্ত্রাস, ছিনতাই ও শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি সংসদ পর্যন্ত গড়ালো কীভাবে?


শিল্পনগরীটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এখন প্রশাসন, শিল্প মালিক ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ফলে বিসিক শিল্পনগরীর প্রকৃত চিত্র কী, তা জানতে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন