# সন্ত্রাসীরা হামলা করলে, আমরা এখন পাল্টা হামলা করবো : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একের পর এক সহিংস ঘটনা, প্রকাশ্যে হামলা, অস্ত্র ছিনতাই, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সংঘবদ্ধ আক্রমণের মতো ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে মারাত্মকভাবে নড়বড়ে করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই এখন নিজেদের দৈনন্দিন চলাফেরাতেও আতঙ্ক বোধ করছেন।
এদিকে বর্তমানে সন্ত্রাসী আতঙ্কে পুলিশ-র্যাব কর্মকর্তারা। মাদকবিরোধী অভিযান করলেই হামলার শিকার হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। ইতিমধ্যে গত ৪ মাসে নারায়ণগঞ্জের ২০ পুলিশ সদেস্যর অধিক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন। যা গত ৯ মাসে প্রায় ৪৫ জন পুলিশ-র্যাব সদস্য নারায়ণগঞ্জে আহত হয়েছেন এমনই সমীকরণে এমনই তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। যাকে ঘিরে জনগণের রক্ষক হিসেবে পরিচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে সন্ত্রাসীদের চাপায় পিষ্ট। যাকে ঘিরে বর্তমানে সাধারণ জনগণের জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে গত (১৪ জুন) মাদক বিরোধী অভিযানে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় আবারো পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় এসআইসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির ওরফে ফাইটার মনিরসহ তিনজনকে ১৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মনির ওরফে ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন এবং কনস্টেবল আশিক। তাদের শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম।
চলতি বছরের (৯ মার্চ) শহরের নিতাইগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। এ সময় ছিনতাইকারী দল পুলিশ সদস্যকে কুঁপিয়ে জখম করে অস্ত্র ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
একই সাথে চলতি বছরের গত (১ মে) বন্দরে ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্তে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একটি শটগান ছিনতাই করে দুষ্কৃতকারীরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের চার ঘণ্টা পর শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় শটগানটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
গত ৪ মে রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি, থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তারের জেরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে মারধর করে পুলিশের ব্যবহৃত ১টি ওয়াকিটকি, ২টি মোবাইল ফোনসহ আসামি শামীমকে ছিনিয়ে নেয়।
গত ৫ মে শহরের বোয়ালিয়া খাল লিচুবাগ এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে এবং মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে র্যাব সদস্যরা হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ৬ মে সদর উপজেলার কাশিপুরের হাশেমবাগ এলাকায়সাবেক পুলিশ সদস্যের বাড়ির মালামাল লুটের সময় আটক ব্যক্তিদের হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা পুলিশ ও র্যাব একত্রিতভাবে বর্তমানে বিভিন্ন মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমরা শক্ত হাতে সন্ত্রাসী ও মাদক দমনে মাঠে রয়েছি। এমতা অবস্থায় কোন সন্ত্রাসী পুলিশের উপর হামলা করলে পাল্টা হামলা করা হবে। যা কিছুদিন পূর্বে রাতে মাসদাইর এলাকায় পুলিশের উপর ককটেল বিস্ফোরণ করে সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। এমতা অবস্থায় পুলিশ তাৎক্ষণিক শর্টগান ব্যবহার করেছে। বর্তমানে মাসদাইর এলাকাসহ মাদকের বিভিন্ন্ স্পটের নিয়মিত অভিযান অবহৃত রয়েছে।