এক দাউদ পরিবারে তছনছ চাঁনমারী
চাঁনমারীর মাউরাপট্টির এক বিহারী পরিবারে তছনছ পুরো চাঁনমারী এলাকা। চাঁনমারী এবং আশেপাশের এলাকায় মাদক,চুরি,অটো ছিনতাই,খুন এবং কিশোর গ্যাংয়ের এক অভয়ারণ্যে হিসেবে গড়ে তুলেছেন এই পরিবার। এছাড়া এই কুখ্যাত পরিবারের খুঁটির জোর হয়ে উঠেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাশীন হয়ে নিজের অপরাধের জগৎের সহায়ক শক্তি হিসেবে চাঁনমারীর এই বিহারী দাউদ পরিবারকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন।
এই আশ্রয়-প্রশ্রয়ে একের পর এক হত্যাযঞ্জ চালিয়ে পার পেয়ে বর্তমানে দাউদ পরিবারের সদস্যরা এতটাই বেপড়োয়া হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জের যেকোন স্থানে তাদের বিরুদ্ধে কেউ পান থেকে চুন খসলেই প্রাণনাশের হুমকি পরবর্তীতে নির্মমভাবে হত্যা করেন। অপরদিকে চাঁনমারী এলাকাজুড়ে কোটি কোটি টাকার মাদকের চালান শহরজুড়ে ডিস্ট্রিবিউট এবং নারায়ণগঞ্জে চাঁনমারী এলাকাকে মাদক ব্যবসার সাম্রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলেছেন। চাঁনমারী জুড়ে অপরাধের রাম রাজত্ব চালিয়ে কখনো চাঁনমারীকে বানিয়েছেন অটো ছিনতাইয়ের সাম্রাজ্য এবং মাদকের বিশাল হাট। অপরদিকে দাউদ পরিবারের অপকর্মে চাঁনমারী এলাকায় এতটাই সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে শহরতালীর বাসিন্দারা চাঁনমারী এলাকাটিকে এখন ঘৃণ ভরে প্রত্যাখান করে চলেন।
এছাড়া অন্যান্য ছেলেরা শরীফের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে থাকেন। মাদক সম্রাটের পাশাপাশি সে শহরজুড়ে অটো চুরি,ছিনতাইয়েও চাঁনমারীতে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। আর এই অটো গ্যাড়েজেই দাউদের পুত্র শরীফ, আরিফ, সজিব, শান্ত, নাঈম, ভাই মজিদ মাদক সেবনসহ মাদক ব্যবসা ছিনতাইকৃত অটো কেটে বিক্রি করতেন। এছাড়া এই অটো গ্যাড়েজেই মানিক নামের একজনকে শরীফ কুপিয়ে হত্যা করে। এছাড়া চাঁনমারী এলাকার আশেপাশে কয়েকজন অটো চালককে অটো ছিনতাই করতে গিয়ে শরীফ হত্যা করেন। যেগুলো নিয়ে এই পর্যন্ত কোন প্রকার মামলাও হয়নি তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি চাঁনমারীতেই মানিক হত্যার স্পটের কয়েক গজের ভিতরেই স্থানীয় ডিস ব্যবসায়ী নাসির হোসেনকে দিন দুপুরে কুঁপিয়ে হত্যা করেন। আর এই হত্যাকান্ড সংগঠিত করে পালিয়ে যান শরীফ তার সহযোগী জুয়েল,চাচা মজিদ। তবে শরীফের চার ভাই আরিফ, সজিব, শান্ত, নাঈমকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান আশ্রয় নিলে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। দাউদ পরিবারের অপকর্মে প্রায় তছনছ চাঁনমারী। অপরাধ অপকর্ম মাদকের এক মহালে পরিণত হয়েছে এলাকাটি।
এছাড়া একের পর এক লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েও শরীফ গংরা পার পেয়ে আরও বেপড়োয়া হয়ে উঠেন স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দাউদ পরিবারকে মেনে নিতে পারছে না। এদিকে নাসির হত্যার পর মাদক সম্রাট শরীফ এবং মাদক সাম্রাজ্ঞী রুমি ও শরীফের চাচা মজিদ আত্মগোপনে থাকলেও চাঁনমারী এলাকায় এখনো তাদের ইশারায় মাদক সাম্রাজ্য পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি এই মাদক স্পটের টাকার উৎস থেকে নাসির হত্যা মামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা রকম অপকৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছেন।


