শহরের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল হচ্ছে ১০০ শয্যা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল। প্রতিদিন এই হাসপাতালে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্ত হাসপাতালটির নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। এছাড়াও হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়ায় ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বিপাকে পড়ছে অনেক রোগী।
এসবে জন্য অনেকে দায়ী করছেন হাসপাতালে কর্মরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.জহিরুল ইসলামকে। নিজের দায়িত্বের অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই বর্তমানে হাসপাতালটির বেহাল দশা। অথচ সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জে এসে সিভিল সার্জনকে ভর্ৎসনা করলেও পার পেয়ে যান আরএমও জহিরুল। মূলত তার উদাসীনতা এবং অবহেলার কারণে দৈন্যদশা এই হাসপাতালটির।
এদিকে রোগীরা বলছে, হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা ভালো না থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ৫ টাকার টিকিট কেটে ডাক্তারের দরজার সামনে, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য দিকে সকল চিকিৎসার পরীক্ষা করানো হচ্ছে, বাহিরের কোন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। এছাড়াও হাসপাতালে কয়েকটি ওষুধ ছাড়া মিলছে না অন্য কোন ওষুধ। ভর্তি হওয়া রোগীরা পাচ্ছে না পর্যাপ্ত পরিমান চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবার। অন্যদিকে হাসপাতালটিতে রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। তাছাড়াও তীব্র গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে সময় মতো ছাড়া হয় না জেনারেটর। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পরেন বয়স্ক ও শিশু রোগী।
এদিকে গত ১৪ জুন ১০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনা দেখে জেলা সিভিল সার্জনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবং তাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু গত ২০দিন পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন করতে পারেনি হাসপাতালে কর্মরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.জহিরুল ইসলাম। নিজের দায়িত্বের অবহেলা ও গাফিলতির কারনেই বর্তমানে হাসপাতালটির বেহাল দশা।