Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

গ্যাস-বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততায় নিট পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে : মোরশেদ সারোয়ার সোহেল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

গ্যাস-বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততায় নিট  পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে : মোরশেদ সারোয়ার সোহেল

গ্যাস-বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততায় নিট পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে : মোরশেদ সারোয়ার সোহেল

Swapno



বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সহ-সভাপতি (অর্থ) মো.মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেছেন,  নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুৎ নিশ্চিত না হওয়ায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নিট পোশাক খাত। এছাড়া ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া, শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণ বেড়ে যাওয়াসহ অনেক কারণে এই সেক্টরে বেড়েছে সংকট।


নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য আরএস কম্পোজিট লি.এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সোহেল জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে  নিটওয়্যার বা নিট পোশাক খাতের সাথে আমি জড়িত। ২০২০ সালে করোনা মহামারী শুরু থেকে নিটওয়্যার বা নিট পোশাক খাতে করুণ অবস্থা চলছে। মাঝে এই অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেছে। আমরা দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারে এতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হইনি। এরজন্য সরকারকে এককভাবে দায়ী করা যাবেনা।


কী ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে এমন প্রশ্নে মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, প্রথমত, অর্ডার কমে যাওয়া। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, মায়ানমার নিট পোশাক খাতে আমাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা বায়ারদের  (ক্রেতা) আকৃষ্ট করতে যে ধরণের সুবিধা দিতে পারছে, আমরা সেটি পারছিনা। এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে তাদের সরকার নানা সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। ব্যাংক লোনের ইন্টারেস্টের হারও কমিয়ে দিয়েছে। স্বল্প সুদে ঋণ এবং মেশিনারিজ আমদানিতে শুল্ক সুবিধায় আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা আমাদের থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এখানে ব্যাংক ইন্টারেস্ট ৮ পার্সেন্ট থেকে ডাবল ডিজিটে চলে গেছে। এছাড়া জিএসপি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের ক্ষেত্রে আরো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, গেলো অর্থবছরে তিনি ৩০ মিলিয়ন ডলার নিটওয়্যার এবং সোয়েটারে ২০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য এক্সপোর্ট করেছেন।


নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার বলেন, দ্বিতীয়ত, আমাদের দেশে বায়াররা অর্ডার করার অন্যতম কারণ ছিল এখানে তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে শ্রমিক রয়েছে। যার ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে যেতো। কিন্তু আগে যেখানে পোশাক খাতে একজন শ্রমিক ৮ হাজার টাকা পেতো ২০২৩ সালের পর এখন বেড়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। সরকারের নির্ধারিত মজুরির বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।


কিন্তু এতে পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের এক্সপোর্ট খরচও বেড়ে গেছে। প্রতিযোগিতার বাজারে আমাদের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোতে এই ক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ীদের নানা সুবিধা দিচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানে সরকারও সহযোগিতা করে বাজার ধরতে চাইছে। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক পিছিয়ে পড়ছে। এছাড়া আরেকটি বিষয় আগে উৎসব ছুটি ছিল ১১ দিন, এখন সেটি বেড়ে ১৩ দিন। যার ফলে অতিরিক্ত আরো টাকা গুণতে হচ্ছে।


তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন,  আমার প্রতিষ্ঠানে এখন অনেক দক্ষ শ্রমিক ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এখন প্রায় ৬ হাজার শ্রমিকের জন্য মজুরী বাবদ আনুমানিক দৈনিক ৩০ লাখ টাকার হিসাব আমাকে ধরতে হয়। অতিরিক্ত দুইদিন বাড়ায় বিনা কাজে আমাকে বছরে ৬০ লাখ টাকা অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে। সুতার দাম বেড়ে গিয়েছে। প্রতিযোগিতারা এখানেও আমাদের চেয়ে কম মূল্যে সুতা কিনতে পারছে। এসব কারণে আসলে এই নিট পোশাক খাতে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যবসায়ীরা।


এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে অনেকে এই সেক্টরে ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন। মোরশেদ সারোয়ার বলেন, শুধু ফতুল্লা বিসিক এলাকায় প্রায় ৪২৯টি ছোট-বড় নিট,ডায়িং, এক্সেসরিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে নিটের ১২২টি ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৬টি বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৮ হাজার ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০০ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না পেরে।  


সরকারকে এসব সমস্যা উত্তোরণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।  মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিতে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এই সেক্টরের সংগঠনগুলোর সাথে নিয়মিত আলোচনায় বসতে হবে। ব্যাংক ইন্টারেস্ট কমানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে। বায়ার (ক্রেতা) আকৃষ্ট করানোর জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বের প্রায় সবদেশেই আমাদের দূতাবাস রয়েছে।


এই সেক্টরকে বাঁচাতে হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন দেশে মেলার আয়োজন করা যেতে পারে। এটি শুধুমাত্র পিকনিক টাইপ মেলা হবেনা, এই মেলায় নিট সেক্টরের ব্যবসায়ী, সরকারী প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সেক্টরের লোকজনের সাথে ক্রেতাদের সংযোগ ঘটানো সম্ভব হলে ক্রেতা এবং অর্ডারের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। এই সেক্টর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪০ লাখ লোকের সাথে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় দেড় কোটি লোক শুধু নিট সেক্টরের সাথে যুক্ত। এর বাইরে আরো অনেক ব্যবসা এই খাতের সাথে যুক্ত। এই বিশাল লোকের কর্মসংস্থান এই খাতের সাথে জড়িত বিধায় খুব গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করে উদ্যোগ নিলে এই নিট পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াবে।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন