নগরীর বিবি রোড, শায়েস্তা খাঁ রোড, চেম্বার রোডের ফুটপাত দখল করে হকারদের দুর্বিষহ যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শহরের দুই নম্বর গেইট থেকে চাষাঢ়া মহিলা কলেজ পর্যন্ত রেললাইনের এক পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ীভাবে হকারদের স্থানান্তর করার জন্য কাজ চলমানস্থানে ডুয়েলগেজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের ফিল্ড কানুনগো অভিযান পরিচালনা করেন।
অফিসার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগে রেলওয়ের এক পাশে হকার স্থানান্তরের জন্য স্থাপিত মালামাল ৭ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক জিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। যাকে ঘিরে আমরা জানতে পারলাম ২নং রেলগেইট থেকে চাষাড়া পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন রেলওয়ের এক পাশে হকার পুর্নবাসনের জন্য কাজ করছে। সরেজমিনে এসে ও ঠিক দেখতে পেলাম ইটের সলিং, বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে রেলওয়ের এক পাশে আমরা আগামী ৭ দিনের মধ্যে এগুলো সরানোর নির্দেশ দিয়ে আসি। তা ছাড়া ৭ দিন পর আবারো এখানে এসে উচ্ছেদ হয়েছে কিনা তার পরিদর্শন করবো।
জিআরপির এসআই হারুন যুগের চিন্তাকে বলেন, ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজকে ঘিরে আজকে রেলওয়ের পাশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হয়। আমরা ২/৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা পাঠিয়ে ছিলাম। কাজ শুরু হওয়ার আগেই অভিযান দেওয়া হলো কারণ পরবর্তীতে যেন অবৈধ স্থাপনা উঠাতে সমস্যা না হয়।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৭ দিনের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন এস্টেট কানুনগো তারা জায়গা মাপ দিয়ে গেছেন আগামী শনিবার অবৈধ স্থাপনা কতটুকু উচ্ছেদ হয়েছে তা ফলোআপ করতে আসবেন বলে শুনেছি।
নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম খান যুগের চিন্তাকে বলেন, এখানে ডাবল লাইনের কাজের জন্য অবৈধ দখলদারদের বার বার বলার পরও তারা জায়গা ছাড়ছিলোনা। তাই আজকে তাদের স্থাপনা ভেঙে দিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। দ্রুত এখানে ডাবল লাইন বসানোর কাজ শুরু হবে।
নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের উকিলপাড়ার গেটকিপার মুজিবর যুগের চিন্তাকে বলেন, এস্টেট বিভাগের ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক জিয়া সাহেবসহ আরো একাধিক অফিসার ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের মাপ দিতে আসলে এখানে শহরের দুই নম্বর গেইট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেলওয়ের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা দেখে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। একই সাথে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে রেলওয়ের একপাশে হকার পূর্নবাসনের জন্য বানানো ইটের সলিং ও বাঁশের বেঁড়া একই সাথে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আগামী ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার আবারো তারা পরিদর্শনে আসবেন। তথ্যমতে কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় ৯ বছর আগে। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটির দীর্ঘ সময়ে কাজ হয়েছে খুব ধীরগতিতে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায় , ২০১৭ সালে ৩৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুর পরিকল্পনায় ছিল পাঁচটি নতুন স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফর্ম, একটি অফিস কাম স্টেশন ভবন, ১১টি ব্রিজ ও কালভার্ট, চারটি পথচারী সেতু, সীমানা প্রাচীর এবং দুটি ওয়াশপিট নির্মাণ। প্রকল্প অনুমোদনের সময় ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এরপর তৃতীয় দফায় ২০২১ সালের জুন এবং চতুর্থ দফায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। দীর্ঘ ৮ বছরেও এসব স্থাপনার একটিও পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ চায়না পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না কাজ অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প ত্যাগ করে। সেই সময় পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান ইতিমধ্যে শহরের দুই নম্বর গেইট থেকে চাষাঢ়া মহিলা কলেজ পর্যন্ত রেললাইনের এক পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ী সড়ক ও আরেক পাশের খালি জায়গায় নগরীর বিবি রোড, শায়েস্তা খাঁ রোড, চেম্বার রোডের ফুটপাত দখল করে হকারদের পুর্নবাসনের কাজ চালু করেছিলেন। সাখাওয়াত হোসেন খান ইতিমধ্যে রোড তৈরির ক্ষেত্রে টেন্ডার পক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছিলেন।
একই সাথে অন্যপাশে হকার বসানোর জন্য বিশাল বাজেট নিয়ে ভেকু দিয়ে সেখানে থাকা ময়লা সরানো হয়। একই সাথে বালু ফালিয়ে রাস্তা সমান করে ইটের সলিংয়ের কাজ চলমান এমতা অবস্থায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আবারো চালু হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের এই পরিকল্পনায় কি ধূলোবালি এমনটাই জানতেই চাইছে নগরবাসী।
তবে নগরবাসী জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে সব থেকে বড় সমস্যা হকার সমস্যা এটা যদি এই রেললাইনের এক পাশে বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। তাহলে হকাররা তাদের জীবন নির্বিকা সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবে। নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের ফুটপাত ফিরে পাবে। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষের দিকে এমতা অবস্থায় এই কার্যক্রম বন্ধ করা রেলওয়ের ঠিক হবে না।
তা ছাড়া বাংলাদেশের এটা একটা নিয়ম যে প্রথমে কোন বাধা বা কিছু না আসলে ও যথন কাজ অর্ধেক হবে তখন বাধা দিবে। আর এখানে যে হকার পুনর্বাসনের কাজ চলমান এটা রেলওয়ে জানে কিন্তু ওই সময় কিছুই বলে নাই। এখন কাজ শেষের পথে এখন বাধা প্রদান করছেন। এখন নগরবাসীর দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত আসে।