Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

পিঠ বাঁচাতে সেই নিপু মালয়েশিয়ায়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

পিঠ বাঁচাতে সেই নিপু মালয়েশিয়ায়

পিঠ বাঁচাতে সেই নিপু মালয়েশিয়ায়

Swapno



নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন এহসাসনুল হক নিপু। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ শাসন আমলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ঝুট সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতা নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের সকল উগ্র সন্ত্রাসী কার্যকলাপের নেপথ্যে ছিলেন নিপু। কে এই নিপু? নিপু হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের চাচাত শ্যালক। শামীম ওসমান তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিশ্বস্ত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে করতে নিপুকে  নারায়ণগঞ্জের হোয়াইট ক্রিমিনাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।


এদিকে নিপু প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে সাংগঠনিকভাবেও স্বজনপ্রীতি করে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের কমিটি না করে ছাত্রলীগ পরিচয়ে শহরজুড়ে চাঁদাবাজি মহোৎসব গড়ে তুলেছিলেন শামীম ওসমান। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে নিপুকে যুবলীগের সভাপতি করতে প্রায় এক যুগের বেশী বয়সের যুবলীগের কমিটিকে বলবৎ রাখেন। এরমধ্যেই আওয়ামীলীগের পতন ঘটে এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের নির্দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে বহু হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী হন নিপু। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপকর্মের ফলাফল ভোগ করার ভয়ে আওয়ামীলীগের পতনের সাথে সাথে দেশত্যাগ করে মালয়েশিয়াতে পাড়ি জমান নিপু।


সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পূর্বে থেকেই দুর্ধর্ষ ছিলেন এহসাসনুল হক নিপু। তবে ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অপকর্ম করে আলোচনায় আসেন নিপু। এদিকে নিপু সংগঠিত সকল অপকর্মের নেপথ্যে শেল্টারে থাকতেন শামীম ওসমান। কেননা শামীম ওসমান তার অপকর্মের কার্যক্রমকে আরোও ত্বরান্বিত করতে নিপুকে গড়ে তুলিছিলেন নারায়ণগঞ্জের হোয়াইট ক্রিমিনাল। এদিকে নিপুর বিরুদ্ধে সর্বত্ত ছিল চাঁদাবাজির অভিযোগ।


এরমধ্যে নসিব বাসের নিয়ন্ত্রক হন নিপু নিয়ন্ত্রণের কয়েকদিনের মধ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগের মধ্য দিয়ে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হন নিপু এবং শেল্টারদাতা বোন জামাতা শামীম ওসমান। ২০১৩ সালের দিকে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ছয় কোটি ষাট লাখ টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগ করেন নারায়নগঞ্জের নসিব পরিবহনের মালিকরা। তিনি তার চাচাত শ্যালক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপুর মাধ্যমে নসিব পরিবহন সংস্থা থেকে এই বিপুল অংকের টাকা চাঁদা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে লিংক রোড হয়ে নসিব পরিবহন সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় পর্যন্ত চলাচল করে।


এর বাস সংখ্যা চব্বিশটি। ভাড়া আঠার টাকা। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে দেয়া আবেদনপত্রে নসিব পরিবহনের বাস মালিকরা বলেন, ২০০৫ সাল থেকে বাস কোম্পানীটি গঠনের পর কোন সমস্যা ছিলো না। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি এহসানুল হক নিপু (শামীম ওসমানের চাচাত শ্যালক) জোর করে আমাদের কোম্পানী থেকে প্রতিদিন দশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। আমরা তখন বিষয়টি সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানকে জানালে বিষয়টি তিনি সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দেন।


এবং বিষয়টি নিয়ে বারাবারি না করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তার কাছে আমরা বহুবার গিয়েও কোন সদুত্তর না পেয়ে বুঝতে পারলাম যে এ কে এম শামীম ওসমানের নির্দেশেই নিপু আমাদের কাছে চাঁদা দাবী করছে। আমরা নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনকে মৌখিক ও লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েও সমস্যার সমাধান পাইনি। পরবর্তীতে নিপু ও তার সহযোগি সাইফুল ইসলাম ভূইয়াদের সকল অন্যায় কাজগুলো নিরবে সহ্য করে যেতে লাগলাম।


নিপু নিজের একক ক্ষমতায় , নিজেই সাক্ষর করে ২০০৯ এর ৭ জানুয়ারী (আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার ছয়দিন পরে) নসিব পরিবহনের একটি উপদেষ্টা কমিটি কমিটি গঠন করে। সে কমিটিতে সে ২ নাম্বার উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হয়। যা সম্পূর্নভাবে অবৈধ ও অগনতান্ত্রিক। পরবর্তীতে সে নসিব পরিবহনের মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মালিকদের বেকায়দায় ফেলে স্বাক্ষর নিয়ে নিজে কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও তার সহযোগি সাইফুলকে পরিচালক বানিয়ে লুটপাট শুরু করে দেয়। আবেদনে তারা আরো বলেন, নিপুর নেতৃত্বাধীন চাঁদাবাজ চক্র প্রথম দিকে দৈনিক দশ হাজার টাকা করে চাঁদা নিতো।


নিপু কোম্পানীর চেয়ারম্যানের পদ দখল করার পর থেকে মাসে কোম্পানীর কাছ থেকে মাসিক কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। যা কোম্পানীর আয়ের সিংহভাগ। ফলে মালিকরা বলতে গেলে কোন টাকাই পাচ্ছে না। উল্টো গাড়ি মেরামতের টাকা তাদের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। ২০০৯ এর ৭ জানুয়ারী হতে ২০১৩ এর জুলাই পর্যন্ত চার বছর সাত মাসে শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায় তার শ্যালক নিপু নসিব পরিবহন থেকে কমপক্ষে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে গেছে।


কোম্পানীর আয়ের খাতাপত্র আমাদের দেখতে দেয়না। দেখতে দিলে আমরা নিশ্চিত এ চাঁদাবাজির পরিমান আরো বেশি হবে। যা আমরা ঐ খাতাপত্রের মাধ্যমে প্রমান দিতে পারবো।এসবের প্রতিবাদ করলেই নিপু-সাইফুল গং মালিকদের মারধর, মামলা-হামলা করে। প্রতিবাদকারি মালিকদের গাড়ি লাইনে চলতে দেয়না। বন্ধ করে সাইড করে রাখে। চেয়ারম্যান-এমডির পদ দখলের প্রতিবাদ করায় তারা কোম্পানীর বৈধ এমডি মোহাম্মদ আল-আমিনের গাড়ি ( ঢাকা-চ-১২২৮) লাইন থেকে বের করে দেয়। এদিকে নাসিব বাস কোম্পানীটি পরবর্তীতে নিপুর চাঁদাবাজির কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায়। অপরদিকে ২০২২ সালের দিকে গডফাদার শামীম ওসমানের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের একজন বিশিষ্ট ঠিকাদারকে রাইফেল ক্লাবে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালান।


কারণ সেই ঠিকাদারের কারণে নারায়ণগঞ্জে নিপু টেন্ডারবাজির নামে সরকারী সম্পদ লুটপাটের মহোৎসব রসাতলে যাচ্ছিল। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে নিপুর টেন্ডারবাজির যে একছত্র আধিপত্য ছিলে সেই আধিপত্যের পথা ভেঙে দিয়ে সেই ঠিকাদার সাহসিকতার সাথে তার ঠিকাদারি কার্যক্রম সফল ভাবে পরিচালনা করে ফেলছিলেন। যার কারণে ঠিকাদারকে রাইফেল ক্লাবে তুলে এনে নির্যাতন করে শামীম ওসমান এবং সেলিম ওসমানের নামে জুজুর ভয় দেখান।


এছাড়া পর্দার অন্তরাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকতেন নিপু। এসকল অপকর্ম করতে করতে বোন জামাই শামীম ওসমানের শেল্টারে নারায়ণগঞ্জের হোয়াইট ক্রিমিনাল হয়ে উঠেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের পতনের পূর্বে বোন জামাই শামীম ওসমানের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জজুড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেন। তারই আলোকে বর্তমানে বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনে হত্যা এবং হত্যা চেষ্টার একাধিক মামলার আসামী হয়ে পিঁঠ বাচাতে বর্তমানে দেশত্যাগ করে মালয়েশিয়াতে অবস্থান নিয়েছেন।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন