Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

দুই দিনের ৮ ঘন্টার বৈঠকে ব্যর্থ বাস ভাড়ার আলোচনা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

দুই দিনের ৮ ঘন্টার বৈঠকে ব্যর্থ বাস ভাড়ার আলোচনা

দুই দিনের ৮ ঘন্টার বৈঠকে ব্যর্থ বাস ভাড়ার আলোচনা

Swapno



# ইগো না নিয়ে না.গঞ্জের ইমেজের দিকে তাকাতে হবে : ইউএনও ফয়েজ
# একটি বলয় চাচ্ছে বিশৃঙ্খলা তৈরী করতে : সাদ্দাম
# ৫৮ টাকার দাবীতে অনড় সাত ছাত্র সংগঠন


জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাসের ভাড়া বেড়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সড়কে সিটি বন্ধন ও উৎসব ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের মৃল্য বৃদ্ধির সাথে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ বাসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করেছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু বাস মালিকদের দাবী সরকারের প্রজ্ঞাপন না মেনে নাগরিক ফোরাম ও ছাত্রসংগঠন গুলো প্রতিবাদ করে একটি অরাজকতা তৈরী করার জন্য পায়তারা করছে। বিপরীতে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র সংগঠন গুলোর দাবী পরিবহন মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। তবে বিআরটিএ ভাড়া নির্ধারণের প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে বাস মালিকরা বেশি ভাড়া নিচ্ছে না।


এদিকে ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে নাগরিক ফোরাম ও নারায়ণগঞ্জের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র ফেডারেশন সহ সাত ছাত্র সংগঠনের মাঝে বাকবিতণ্ডা তৈরী হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা বৈঠক হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বন্ধন উৎসব পরিবহন মালিকদের সাথে ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক ফোরামের ব্যক্তিদের নিয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজের সভাপতিত্বে দীর্ঘ  বিকেল ৪ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টার আলোচনার পরেও কোন  সমাধান হয় নাই। একই ভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পুনরায় দুই পক্ষের মাঝে বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত  আলোচনা হয়। কিন্তু দুই দিনের দীর্ঘ আলোচনার মাঝে কোন সুফল নিয়ে আসে নাই। দুই পক্ষ তাদের নিজেদের দাবীতে অনড় রয়েছে।


বাস মালিকদের পক্ষে সিটি বন্ধন পরিবহনের দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটে ৬২ টাকা ১২ পয়সা ভাড়া আসে, কিন্তু আমরা যাত্রীদের থেকে ৬০ টাকা করে নিচ্ছি। মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আমাদের ৬২ টাকা না নিয়ে ৬০ টাকা করে নেয়ার অনুরোধ জানালে আমরা তা মেনে নিয়ে সেই ভাবে ভাড়া নিচ্ছি। এছাড়া আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য বলেন। তারাও আমাদের সাথে আন্দোলন করবে এমন কথা বলেন। কিন্তু আমরা প্রশাসনের আইন মেনে ভাড়া নিতে চাই।

অপরদিকে গতকালের ও তার আগের  আলোচনা সভায় রফিউর রাব্বি ৫৮ টাকা করে ভাড়া নেয়ার প্রস্তাব জানান বাস মালিকদের। এছাড়া ছাত্র সংগঠন গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নেয়ার দাবী জানালে তা ৩৪ টাকা নির্ধারণ হয়। তা উভয় পক্ষ মেনে নিলেও  যাত্রীদের ভাড়া ৫৮ টাকা মেনে নেন নাই পরিবহন মালিকরা। এই ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে হট্টগাল তৈরী হয়।


সিটি বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন বলেন, তেলের বৃদ্ধির সাথে বাসের চাকা, মবিল সহ প্রতিটি পার্টস বৃদ্ধি পেয়েছে। যার জন্য আমরা সরকারের প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে কোন ভাড়া নিচ্ছিনা। কিন্তু একটি পক্ষ সরকারের প্রজ্ঞাপনকে না মেনে তার চেয়ে কম ভাড়া নেয়ার জন্য আমাদের উপর আবদার চজাপিয়ে দিচ্ছে যা আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব না। আমরা সরকারের এবং আইনের বাইরে গিয়ে কোন কিছু করতে চাই না। তারা চাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অস্থিতিশীল তৈরী করতে। কিন্তু আমরা তাদের ফাদে পা বাড়াবো না।

উৎসব পরিবহন ট্রান্সপোর্ট এর পরিচালক মাহবুব হাসান রতন জানান, আমরা ছাত্রদের দাবী মেনে নিয়ে তাদের থেকে ৩৪ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছি। কিন্তু যাত্রীদের থেকে ভাড়া কমনেয়ার কোন যুক্তিকতা নেই। একটি পক্ষ সরকারের নির্ধারন করে দেয়া ভাড়ার প্রজ্ঞাপন না মেনে তার চেয়ে কম ভাড়া নেয়ার জন্য আবদার চাপিয়ে দিচ্ছেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির আহবায়ক মাহফুজ খান সভায় বলেন, আমরা পরিবহন মাফিয়াদের কাছে জিম্মি। তার এই মন্তব্যের সাথে সাথে হট্টগোল তৈরী হয়। পরে তিনি তা উইড্রো করে নেন। বাস মালিকদের দাবীর পক্ষে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, আমরা হাফ ভাড়া ত্রিশ টাকা নেয়ার দাবী জানিয়েছি। সেখানে ই্উএনও স্যার আমাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তা ৩৪ টাকা মেনে নেই। কিন্তু যাত্রীদের ভাড়া ৫৮ টাকা নিতে হবে।

মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্টের পর থেকে ছাত্ররা যে দাবী করে সেটা আদায় করে নেয় সেটা যুক্তিযুক্ত হোক বা না হোক। পরবিহন মালিকরা যেহেতু নিজেদের দাবীতে অনড় সে হিসেবে আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

ছাত্র ফেডারেশনের সৌরভ সেন জানান, আমরা সকলে সমাধানে আসার জন্য দুই দিন যাবত টেবিল বৈঠকে বসে আলোচনা করে যাচ্ছি কিন্তু তার সুফল নারায়ণগঞ্জ বাসিকে দিতে পারছি না। আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে চাচ্ছি না, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আমরা দুই দিনে ৮ ঘন্টা আলোচনা করে কোন সমাধানে আসতে পারি নাই। আমরা চাই আলোচনা করে সমাধান হোক।  আলোচনার মাধ্যমে সকলকে একটা জায়গায় সিদ্ধান্তে আসতে হবে। ইগো না নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ইমেঝের দিকে তাকাতে হবে। পরে অন্য কোন টেবিলে বসে আলোচনা করে তা সমাধান হবে।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন