রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪   শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

চেয়ারম্যান পুত্র সাজনই কাশীপুরের ত্রাস

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২৪  

 

 

ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুরে ক্রমশ বাড়ছে অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। গ্রুপে-গ্রুপে দ্বন্দ্ব, মাদক-চাঁদাবাজিসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনা।  তা ছাড়া এ সব ঘটনায় প্রকাশ্যে ও আড়ালে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। বর্তমানে কাশীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ মিয়া নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ জুড়ে চিহ্নিত হয়েছে ডজন খানিক মামলা মাথায় নিয়ে প্রভাবশালী শেল্টারদাতা ফতুল্লা থানা যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসান সাজনের ছত্রছায়ায় যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে পিঠ বাঁচিয়ে থাকতেন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন হিরা ও তারই ছোট ভাই সালাউদ্দিন সাল্লূ।

 

কিন্তু প্রায় সময় আলোচিত ঘটনার আসামীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট গ্রেফতারে আসলে ও বারবারই বেঁচে যায় কাশীপুরের অপকর্মের নেপথ্যে থাকা ডজন খানিক প্রভাবশালী ব্যাক্তির্ াযাকে কেন্দ্র করে একের পর এক অপকর্ম পরিচালিত হয়ে যাচ্ছে কাশীপুরে। শুধু সাল্লু ও হিরা বাহিনীর সদস্যদের শেল্টার দিয়েই সাজন ক্ষ্যান্ত নন।  তিনি কাশীপুরে গড়ে উঠা অজস্র অপকর্মকারীদের মূল শেল্টার দাতা হিসেবে মানুষের মুখে মুখে আলোচনায় আছেন।

 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, কাশীপুরের বিভিন্ন অপকর্ম যার মধ্যে-মাদক ব্যবসা, ভূমি দস্যুতা, ব্যাবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং পালন, অস্ত্র আদান প্রদানসহ ডজন খানিক অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিতর্কিত কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এম. সাইফুল্লাহ বাদলের ছোট পুত্র ফতুল্লা থানা যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসান সাজন যাকে ডহরে তিনি কাশীপুরের ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। 

 

কাশীপুরের বহু সচেতন মহলের আলোচনায় শোনা যাচ্ছে, বিগত দিনে ঘটে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের সাম্রাজ্যের মতোই কাশীপুরে গড়ে তুলেছেন আলাদা আরেক সাম্রাজ্য। যেখানে সব কথার শেষ কথা সাজন । দিনের পর দিন অপকর্ম করে গেলেও তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। আর এই সকল অপকর্ম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার পুত্র অয়ন ওসমানের নাম বিক্রি করেই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এই বিতর্কিত চেয়ারম্যান পুত্র নাজমুল হাসান সাজন। 

 

শুধু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেই সাজন ক্ষ্যান্ত নন। কাশীপুরে হোসাইনী নগর, দেওয়ানবাড়িসহ বিভিন্ন অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে মিনি গার্মেন্টন্সসহ হোসীয়ারী মালিক-শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে সাজনের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি। এর বাহিরে ও এই বিতর্কিত যুবলীগ নেতা সাজন কাশীপুর হাটখোলা ব্রিজের নিচের পাওয়ার হাউজ, চর নরসিংপুরে ভূমি দুস্যতা, ড্রেজার নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, কাশীপুরের বুকের উপর দিয়ে চলাচল করা কয়েক হাজার অবৈধ অটোরিকশার চাঁদাবাজিও সাজনের নিয়ন্ত্রণে, এরই মাঝে লোক দিয়ে কাশীপুর খিলমার্কেট এলাকায় চাঁদাবাজির আরেক প্রথা প্লেট চালু করেছেন এই সাজন।

 

 বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে কাশীপুরের ত্রাসে পরিণত হচ্ছে চেয়ারম্যান পুত্র নাজমুল হাসান সাজন। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া দেশজুড়ে আলোচিত ইস্যু কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ মিয়া হত্যাকাণ্ডে ও এই সাল্লূ ও হিরা বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন প্রকারের এক্যাশন নেয়নি এই ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী সাজন। জানা যায়, সাল্লূ ও হিরা ও তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান করতে পারবে না সেটা যেনেই তিনি মার্ডারের ঘটনার দিন রাতে কক্সবাজার চলে যান। 

 

বর্তমানে এলাকাবাসী সকলেই দাবী করছেন, এই সুরুজ হত্যা কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে আনলে ও তাদের সাথে শেল্টার দাতা যারা রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ কর্মীদের সংবাদ প্রকাশের জেরে তদন্ত করে পুলিশ-র‌্যাব-ডিবির দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সাল্লু ও হিরার মতো আরো কয়েকটি গ্রুপ জন্ম দিয়ে আবারো অপকর্ম পরিচালনা এই বিতর্কিত শেল্টার দাতারা।

এই বিভাগের আরো খবর