বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

বেড়েছে সহিংস অপরাধ 

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

 

# উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল
# প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করছে সচেতন মহল

 

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর বন্দর এলাকাকে অপরাধ মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিশাল সভা করে। সাংসদ শামীম ওসমান মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, ভুমিদস্যু, ইভটিজিং নামক অপরাধকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এজন্য প্রত্যাশা নামক একটি সংগঠন শুরু করেছেন তিনি।

 

এই ঘোষনার পরপরই নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত করার জন্য হকার, মিশুক ইজিবাইক শহরে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্তে উপনীত হন এমপি শামীম ওসমান, সাংসদ সেলিম ওসমান, নাসিক মেয়র, ডিসি এসপি সকলে মিলে। তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানান নগরবাসি। কিন্তু এদিকে নির্বাচনের পর পরই নানা অপরাধে ঘটনা বেড়ে গেছে। তার মাঝে তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

 

এতে করে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে স্বজনকে হত্যা বা হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করা, কিংবা হত্যা লাশ গুম করে ফেলা সহ নাানা ধরনের অপরাধের ঘটনা বেড়েছে। আবার অনেকেই আইন নিজের হাতে তুলে আধিপত্য ধরে রাখার জন্য মতের বিপক্ষ লোকদের হত্যা করতে কর্ণপাত করছেন না। আবার কেউ কেউ আইনকে তোয়াক্কা না করেই দিব্বি অপরাধ করে যাচ্ছে।

 

এদিকে আর এ নিয়ে অপরাধ ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনার পর দ্রুত অপরাধী গ্রেফতার না হওয়া, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, সামাজিক বন্ধনের অনুপস্থিতি, ইন্টারনেটের অপব্যবহার, অসহিষ্ণুতা, মাত্রাতিরিক্ত ক্ষোভ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনের কাছে হেনস্থার স্বীকার হওয়া, অর্থনৈতিক বৈষম্য, পরকীয়া সমস্যা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র ফুটে উঠছে একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনায়। তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা ঘটছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা সমাজকে নাড়া দিয়েছে। সর্বত্র আলোচনা চলছে কেন এবং কি কারণে হত্যা সহ নানা অপরাধ বেড়েই চলছে। এতে করে প্রশাসন তাদের ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যেতে পারে কী না তা নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছে। 

 

সম্প্রতি সময়ে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি অপরাধের ঘটনা তুলে ধরা হলো, পূর্ব শত্রতার জের ধরে এবং নানা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলামিন ওরফে দানিয়ালকে (২৮) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বত্তরা। একই সাথে  শুভ (২২) নামের যুবককে চাষাড়ার বালুর মাঠ এলাকার এ্যাপোলো ক্লিনিকের সামনে দলবব্ধ হয়ে পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে ফতুল্লার মাসদাইর ছোট কবরস্থানের সামনে ফেলে রেখে পরিবারের কাছে জানিয়ে দিয়ে যায়, ‘এইবার লাশ  লইয়া যাও!

 

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১ টায় চাষাড়ার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত ১২ টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আনার পর শুভ (২২) নামের গুরুতর আহতেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় জরুরী বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হোসেন। একই সাথে নিহত আল আমিন ওরফে দানিয়াল কে ময়না তদন্তের জন্য ফতুল্লা থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। নিহত আমিন ওরফে দানিয়াল মাসদাইর এলাকায় দেলোয়ার মিয়ার ছেলে। আর আহত শুভ একই এলাকার শাহজালালের ছেলে।

 

শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টা ৩০ মিনিটে ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাসলিম আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বেশ কিছুদিন আগে ওই এলাকার রমুর নাতি হিসেবে পরিচিত অনিক ও তার লোকজনের সঙ্গে নিহতের মারামারি ঘটনা ঘটে। রমু ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তার সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে দানিয়েলের ওপর হামলা করে। এ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

 

একই দিনে কলেজ ছাত্রী ফারজানা আক্তার নামে এক নারীর নগরীর এস এম মালেহ রোডস্থ পদ্মা সিটি প্লাজা থেকে কলেজ ছাত্রী লাশ উদ্ধার করেছে ময়নাতদন্তে পাঠান পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ প্রশাসন বলছে এটি আত্মহত্যা কিন্তু পরিবারের দাবী হত্যা। ফারজানা (১৮) নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা শহরের টানবাজার এলাকায় অবস্থিত এই প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ওই বাড়ির নিচ তলায় ফারজানার ভাই মনির হোসেন ও বাবার রঙের ব্যবসা পরিচালনা করেন।

 

কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট করে তা ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়না তদন্তের রিপোর্টেই বেরিয়ে আসবে। তবে আইনী ব্যবস্থা অবশ্যই নেয়া হবে। তদন্তেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমি, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আবারও রফিক-মোশারফ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পাঁচ গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার এই ঘটনা ঘটে।

 

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই এই দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ফলে দুই বাহিনীর মধ্যেই তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে দুই গ্রুপের মধ্যে এ নিয়ে তিনবার সংঘর্ষ হলো। অভিযোগ রয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফের নেতৃত্বে একের পর এক এই ভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নুর উদ্দিন বলেন, এই ধরনের অপরাধের প্রবণতা থেকে পরিবারের অভিভাবক মহলের সচেতন হতে হবে। প্রশাসনের সাথে সামাজিক ভাবে অভিভাবক মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। নগরবাসির মতে অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন তাদের ব্যর্থতার দ্বায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। প্রশাসনকে সকলের সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে সমাজে যদি অপরাধ কমানো যায়। এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর