বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে ফতুল্লা থানা পুলিশ শ্লথ

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

 

# ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য জানলেও নেই ব্যবস্থা
# বেশ কয়েকমাস যাবৎ নেই কোন পুলিশি অভিযান

বাংলাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ধনী জেলার তালিকায় প্রথম রয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীাতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই জেলার সুনাম থাকলেও কিছু কিছু বিষয়ে  এই জেলার দুর্নামও রয়েছে।

 

 

বিশেষ করে গুম, খুন ,মাদক ,কিশোর গ্যাং সহ নানান অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে এই নারায়ণগঞ্জে প্রশাসন অপরাধ রোধ করতে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে অভিযান চালালেও তা স্থায়ীভাবে আর হয়ে উঠেনা। আর এই নারায়ণগঞ্জ এর মধ্যে অপরাধ জগতের ভান্ডার যদি বলা হয় তাহলে সবার আগে নাম আসবে ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের এখানে এমন কোন অপরাধ নেই যে এই এলাকাতে না হয়ে থাকে।

 

 

বিশেষ করে মাদক এই এলাকার জন্য ভয়ানক আকার ধারন করেছে যা কোন ভাবেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফতুল্লায় মাদক কারবারীর দিন দিন সংখ্যা বেড়েই চলছে। যা নিয়ন্ত্রন করতে অনেকটাই ব্যর্থ হচ্ছেন ফতুল্লা থানার আইনশৃঙ্খলা বাহীনি।

 

 

এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও অনেক সময় থানার নেওয়ার আগেই তাদের কিছু টাকার বিনিময় ছেড়ে দেওয়ারও অনেক অভিযোগ আছে ফতুল্লা থানার বেশ কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

 


আর এই সকল কারনে মাদক ব্যবসায়ীরা তাই প্রশাসনের নাকের ডগাতে বসেই চালিয়ে যায় এই সকল ধরনের মাদক ব্যবসা। বিশেষ করে ফতুল্লার বিভিন্ন পাড়া মহল্লাতে মাদক এখন ব্যাপক ভাবে বিস্তিত হয়ে গেছে।

 

 

বর্তমানে ফতুল্লা থানা এড়িয়ার মধ্যে কুতুবপুর ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি মাদকের বড় চালানে ডিবির কিছুটা ভুমিকা তাকলেও এখন আবারো নেমে এসেছে অনেকাটাই ধীরগতি।

 

 

শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময় কুতুবপুরে জানা যায়,ফতুল্লার রেললাইন বটতলা আশে পাশের এলাকাতে প্রতিনিয়তই মাদকেরক আখড়া বসে নিয়ে বসে মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় এই সকল মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করলেও কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ছেড়েও দিচ্ছে শুধু তাই নয় ফতুল্লার মধ্যে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি পরিমানে মাদক বিক্রি হয় কুতুবপুর ইউনিয়নে।

 


আরও জানা যায়,  কুতুবপুর ইউনিয়ন এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ এর বর্ডার সাইড হওয়ার কারণে এই এলাকাতে অপকর্ম করে, খুব সহজেই অন্য এলাকায় চলে যাওয়া যায়।

 

 

এর  আগে এই কুতুবপুরের আকনগলি এলাকায় প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে মাদকের কেনা বেচা চলতো, প্রশাসনের তৎপরতার কারণে তা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসলেও কুতুবপুরের পাগলা রেল ষ্টেশন ,বৈড়াগীবাড়ি এলাকায় এখন প্রতিদিনই দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে মাদক কারবারিরা মাদক বেচাকেনা করে থাকে আর এই মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসন ও এলাকার কাউকে তোয়াক্কা করে না।

 

 

তারা এই মাদক বিক্রি করেও এলাকায় প্রকাশ্যে দাবরিয়ে বেরাচ্ছে। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ কথা বলতেও রাজি নন। কারণ তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়াতে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নাম ব্যবহার করে এলাকার বিভিন্ন জায়গাতে ব্যানার ফেষ্টুন লাগিয়ে নিজেদেরকে জাহির করছে।

 

 

 

শুধু তাই মাদকের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নতুন কোন বাড়িঘর নির্মান করতে গেলে এই সকল চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইট,বালি না নিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া। বেশ কয়েকদিন আগে এই সকল সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বাড়ি নির্মানের বালু না নেওয়ার কারনে সেই গাড়িটি আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

 

পরবর্তীতে সেই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে কুতুবুপর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনিরুল আলম সেন্টু। এই এলাকায় বিভিন্ন সময় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন স্থানীয় বাসিন্দারা তার পরও কতিপয় কিছু সন্ত্রাসী তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

বিভিন্ন সময় এই সকল মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হলেও খুবই অল্প সময়ে মধ্যে জামিন পেয়ে আবারো জড়িয়ে পড়ছে সেই  মাদক বিক্রিতে। এলাকার যুবকরা জড়িয়ে পড়ছে মাদকের মরণ ছোবলে। জানা যায়, শাহী মহল্লায় তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে মাদক সহ চালিয়ে যাচ্ছেন নানান অপকর্ম এমনকি তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।

 


শুধু তাই কথিত যুবলীগ নেতা ও ছাত্রলীগের নাম ভেঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এক সময় এই মাদকের হাট আকন গলিতে ছিলো তবে সেখানকার পঞ্চায়েত ও এলাকবাসীর উদ্যেগে যা আজ অনেকটা নেই বললেই চলে তবে শাহী বাজার ও রসুলপুর এলাকার মাদক কোন ভাবে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

 

 

এখন শুধু মাদক নয়ং এলাকায় চুরি ,ছিনতাই ,ইভটিজিং সহ নানান অপকর্ম তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বললেই চলে হামলা তাই তার ভয়ে কেউ কিছু বলে না। কুতুবপুরে মাদকের এমন বিস্তারে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। আর তারা প্রশাসনকে বার বার জানানোর পড়েও এখনো পর্যন্ত নেয়নি মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে কোন ধরনের ব্যবস্থা ।

 


তবে এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও সুশিল নাগরিক যারাই আছেন তারা মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহীনি চাইলেই মাদক ব্যবসায়ীদের একেবারে গোড়া থেকে উগরে ফেলতে পারে কিন্ত অসাধু প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার কারনে মাদক নির্মূল হচ্ছেনা। প্রশাসনের উচিৎ মাদক নির্মূল করতে প্রতিটি পাড়া মহল্লা বিশেষ অভিযান চালানো।   এন. হুসেইন রনী  /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর