মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১

শামীম ওসমানের পিছু ছেড়েছে সাজনু

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৪  

 

 

সদর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে নানা নাটকীয়তার মধ্যে ও অন্যতম ছিলো শামীম ওসমানের দুই ভক্ত নিজাম-সাজনু একে অপরের বিরুদ্ধে পালাপাল্টি বক্তব্যে। এরই মাঝে দুইজনের প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে অনেকটাই স্বগরম ছিলো নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। এই স্বগরম রাজনীতিকে ধরে রাখতে বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ওসমানদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে বিগত দিনের দুরুত্ব কাটিয়ে সক্রিয় হয়ে পরেন শাহ নিজাম। 

 

আর নিয়মিতই বন্দর উপজেলায় আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর রশীদের পক্ষ হয়ে নিজস্ব সকল কার্যক্রম ফেলে ব্যাপক সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই সময়ই সাজনু ভূঁইয়া নির্বাচনের হাল ছেড়ে দিয়েছে বলে শোনা যায়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান প্রকাশ্যে না হলে ও ভিতরে ভিতরে স্বপরিবারে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামকে সমর্থন করেছেন। এমনকি গত বছরে ঘটে যাওয়া নম পার্কের ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমান কিছুদিন পূর্বে নিজে নম পার্কে শাহ-নিজামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। 

 

যা নিয়ে নানা আলোচনার ঝড় উঠে। এর পর থেকেই চেয়ারম্যান প্রার্থী শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু চুপসে পরেন। আর রাজপথ ছেড়ে উধাও হয়ে যান। এমনকি শোনা যাচ্ছে শামীম ওসমানের সাথে অভিমান করে তিনি এখন আর শামীম ওসমানের কোন পোগ্রামে তার পিছনে আসতে দেখা যায় না এই সাজনুকে। যিনি বিগত দিন থেকেই নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের আওয়াজ শুনলেই দেখা মিলতো সাজনুর কিন্তু নির্বাচনী ধাক্কায় কোথায় হারিয়ে গেলেন সাজনু যা নিয়ে চলছে আলোচনা।

 

 ইতিমধ্যে শাহ নিজাম নারায়ণগঞ্জে ঘনঘন যাতায়েত শুরু করেছেন। এমনকি শামীম ওসমানের পিছনে এখন তাকেই বেশি লক্ষ্য করা যায়, বর্তমানে ব্যাপক সক্রিয় হয়ে উঠেছে শাহ নিজাম। এদিকে আলোচনায় শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই হতে পারে সদর উপজেলা নির্বাচন যেখানে এখনে সব ছাড়িয়ে ওসমানদের একক প্রার্থী হতে পারে নিজাম।

 

জানা গেছে,  গত ১৫ বছর ধরে হচ্ছে না সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন । সর্বশেষ ২০০৯ সালে সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। যে নির্বাচনে বিএনপি নেতা আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। বর্তমানে এখনো তিনি সদর উপজেলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে হঠাৎ চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। এর পরপরই চেয়ারম্যান হতে উঠে পরে লাগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম ও শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু। 

 

এই দুইজন ব্যাপকভাবে চেয়ারম্যানের চেয়ারকে টার্গেট করে। এমনকি এক জন আরেকজনকে কোনঠাসা করতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে প্রধান করেন। কিন্তু সেই হাঁক ডাঁক দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা নির্বাচন আর হয়ে উঠেনি। কিন্তু এখনো সদর উপজেলা নির্বাচনের সেই পুরনো আলোচনা শেষ হয়নি। কেউ বলছে ১৫ বছরে নির্বাচন হয়নি এবার ও যেহেতু হতে নিয়ে আটকে গেছে আর হবে না। আবার বিভিন্ন আলোচনায় শোনা যাচেছ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই হতে পারে নির্বাচন।

 

এদিকে, গত ৮ মে প্রথম ধাপে সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ৪ এপ্রিল সীমানা সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি সামনে এনে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে ২২ এপ্রিলের পর এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। সদরবাসীর প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘদিন পর ভোটের মাধ্যমে তারা সদরের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। কিন্তু বারবার জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা স্থগিত হওয়ায় হতাশায় নিমজ্জিত ভোটাররা ।

 

 আরো জানা গেছে, ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হলে সদর উপজেলার কিছু অংশ সিটি কর্পোরেশনে চলে যায়। উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (২০০৯ সনের ৩০ জুন সংশোধিত) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সদর উপজেলা পুনর্গঠন করে। ২০১৪ সালের ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এদিকে কয়েকটি এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলার নতুন সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। যার পিটিশন নং-৩০৮৯। 

 

এ রিট করেন ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ির মৃত সুলতান বক্স চৌধুরীর ছেলে মো. আসাদউদ্দিন চৌধুরী, পশ্চিম মাসদাইরের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে বজলুর রহমান ও কাশিপুর উত্তর গোয়ালবন্দের হেলালউদ্দিন মুন্সীর ছেলে মো. হামিম মুন্সী। রিটকারীদের প্রত্যেকেই যেমন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের লোক হিসেবে পরিচিত, তেমনি বিএনপি নেতা হলেও আজাদ বিশ্বাস এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বা আস্থাভাজন হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। তবে এবারের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়ে শোনা যায়, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের আস্থাভাজন শাহ নিজামের জন্য সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আটকে আছে। 

 

কেননা এই নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছিলেন শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু। সেও শামীম ওসমানের আস্থাভাজন ব্যক্তি। তবে সদর উপজেলা নির্বাচনে শামীম ওসমান পরোক্ষভাবে শাহ নিজামকে সমর্থন দিয়েছেন এমনটাই বলছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এদিকে শামীম ওসমান শাহ নিজামের নির্বাচনী পথ পরিষ্কার করতে সাজনুকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ায় বিকল্প কোনো উপায় দেখেননি তিনি। কিন্তু সাজনুও তার দলের লোক হওয়ায় তাকে সরে যেতে সরাসরি বাধ্য করতে না পারলে ও ঈঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রভাবশালী এই এমপি। সেই ঈঙ্গিতেই বর্তমানে উধাও হয়ে আছেন সাজনু। 

 

তা ছাড়া তোলারাম কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান স্বপরিবারে উপস্থিত হন। সেখানে শাহ নিজামকে দেখা গেলে ও সাজনু ভূঁইয়াকে শামীম ওসমানের পিছনে দেখা যায়নি। তা ছাড়া ও এর আগে ফতুল্লা জলাবদ্ধতা নিরসন অনুষ্ঠানেসহ এর আগের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের সাথে দেখা মিলেনি যুবলীগ নেতা ভূঁইয়া সাজনুকে। ইতিমধ্যে সাজনুর বলয়ের কর্মীরা ও অনেকটাই ওসমানদের পাশে নেই বলে শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনী মাঠে সাজনু ভূঁইয়া আবারো গর্জে উঠবে নাকি সেই বিষয়ে এখনো কোন আওয়াজ শোনা যায়নি।  
 

এই বিভাগের আরো খবর