রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪   শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

পানিবন্দী মুসলমিনগর মধ্যপাড়াবাসীদের খোঁজ নেয়না জলিল মেম্বার

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৪  


ফতুল্লা থানাধীন যতগুলো ইউনিয়ন জলাবদ্ধতার কবলে ভোগান্তীতে পড়ে তার মধ্যো এনায়েতনগর  ইউনিয়ন অন্যতম। বিগত বছরগুলোতে জলাবদ্ধতার কবলে পরে ভোগান্তি পোহাতে হয়নি এমন বাসিন্দা খুজে পাওয়া হবে দুষ্কর। বর্ষা মৌসুমে দিনের পর দিন পানিবন্দী থাকে  এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তবে বর্ষা মৌসুম তো বটেই বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমেও এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের  আওতাধীন ৩ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত মুসলিমনগর মধ্যপাড়ায় দেখা দিয়েছে দির্ঘমেয়াদী তীব্র জলাবদ্ধতা। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যো দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।

 


সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় মুসলিমনগর মধ্যপাড়া এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। পানিগুলো মারাত্মক বিষাক্ত ও নোংরা হওয়ায় কেউ বাসা থেকে বের হতে পারেনা। ফলে বন্ধ রয়েছে সকল দোকানপাট। এ সড়কে চলছেনা কোনো যানবাহন ফলে  মানুষ যেতে পারছেনা কর্মস্থলে। কারন পানি হাটু সমান। বেড় হলেই ভিজতে হবে।  

 

 

ফলে বাসা ছেড়ে দিচ্ছে ভাড়াটিয়ারা। দুশ্চিন্তায় বাড়ির মালিকরা। তবে এর জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দায়ি করেন এ ওয়ার্ডের মেম্বার আঃ জলিলকে। কারন তিনি মেম্বার হয়ে এ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান তো করেন ই না, কোনো দিন এ পরিস্থিতি দেখতেও তিনি আসেন না। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভে ফুসছে ভোটাররা।

 


তারা বলছে, এ এলাকায় রয়েছে বৃহত্তম এক পাইকারি বাজার যা নয়াবাজার নামে বহুল পরিচিত। এখানে বাজার করতে দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে লোকজন। তবে এ  বাজারে যেতে এ ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের  দুটি রাস্তার কারনে পড়তে হয় চরম বিড়ম্বনায়। আর পানিগুলোও চরম পর্যায়ের বিষাক্ত। ফলে এ পানি পাড়ি দিয়ে মৌলিক চাহিদা পুরনে বাজার করতে যাওয়া ও হয়ে পরেছে দুষ্কর।

 

 

শুধু তাই নয় শ্রমিক অধ্যুষিত এ এলাকায় শ্রমিকরা প্রতিদিন নিজেদের কর্মস্থলে যেতে পড়তে হয় ভোগান্তীতে। শুধু তাই নয়। জলাবদ্ধতার কবলে পড়া রাস্তার দু পাশের ড্রেনগুলোর নাজুক অবস্থা। এত পরিমান ময়লা পড়ে আছে ড্রেন দিয়ে পানি যাওয়ার অবস্থায় নেই। ড্রেনগুলো স্লাপ বিহীন। ফলে সড়ক সংলগ্ন ছোট বাচ্চারা এখানে পড়ে গিয়ে ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা।

 


এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে জনমনে। এ  এলাকার বাসিন্দা এক গার্মেন্টসকর্মী জানান, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে আমার কর্মস্থলে যেতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তায় বিষাক্ত পানি জমে আছে। এ পানি পার হয়ে কাজে যাওয়া আসা করতে হয়। এর ফলে বিষাক্ত পানির সংস্পর্শে আসার কারনে আমার পায়ে পচন ধরেছে। আমরা বাধ্য হয়ে এ পানি দিয়ে হেটে যেতে হচ্ছে।

 


এ নিয়ে কথা হয় এক স্থানীয় বাসিন্দার সাথে। তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমেই এ অবস্থা এবার বুঝেন বর্ষা আসলে কি পরীনতি আমাদের । বহু দিন ধরে এখানের দুটি রাস্তায় পানি জমে থাকলেও তা সমাধানে এগিয়ে আসছেনা স্থানীয় মেম্বার আঃ জলিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বাড়ির ভাড়াটিয়ারা বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে। বাসা খালি থাকার পরও বাসা ভাড়া হচ্ছে না।

 

 

স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রয়েছেন চরম বিপাকে। এ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ কিছুদিন পূর্বে মানববন্ধন পর্যন্ত করেছে তবে সমাধান হয়নি। এলাকাবাসীর দাবী এ জলাবদ্ধতা অতি দ্রুত নিরসন করা হোক। এমনকি বর্ষায় যেনো ভোগান্তীতে পড়তে না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া হোক।     এন. হুসেইন রনী  /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর