বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

বিদ্যুৎ চুরির গ্যারেজগুলোতে অভিযানে নামেনি প্রশাসন

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  


নারায়ণগঞ্জ শহরে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা হচ্ছে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের  বেপরোয়া চলাচলে অতিষ্ঠ নগরবাসী। কিছুদিন পূর্বেও শহরের প্রধান সড়কে প্রবেশ করতে পারত না এই  ‘মিনি দানব’ ইজিবাইক। বর্তমানে অবাধে পুরো শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে 'মিনি দানব' ইজিবাইক। ফলে প্রায় প্রতিদিনই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে শহর ও শহরতলীতে।

 

 

ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে সড়কে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ ইজিবাইকের স্ট্যান্ড তৈরি করে স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে।

 

 

নারায়ণগঞ্জের অবৈধ গাড়ি ও হকার সমস্যা নিয়ে  ৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জে প্রেস ক্লাবের আয়োজনে শহরে হকার উচ্ছেদ ,যানযট নিরশন ও শহরে অবৈধ ব্যটারি চালিত অটো রিকসা-মিশুক চলাচল নিয়ে মেয়র, এমপি,জেলা প্রশাসক ,এসপি ,সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গোল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

 

 

এবং সেই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ শহরকে কিভাবে পরিষ্কার করা যায় তা নিয়ে প্রত্যেকেই তাদের মতামত প্রকাশ করে এবং অনুষ্ঠানে প্রশাসন আশ্বাস দেয় নারায়ণগঞ্জ শহরকে পরিষ্কার করা যেই কথা সেই কাজ প্রথমেই নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া ,বঙ্গবন্ধু সড়ক , মীর জুমলা সড়ক রেল লাইনের দু পাশ সহ আশে পাশের যে সকল রাস্তা দখল করে হকাররা ব্যবসা  চালাতো সেই সকল রাস্তাগুলো এখন পরিস্কার, শুধু তাই নয় শহরের বেশকয়েকটি পয়েন্টে অবৈধ যে সকল স্ট্যান্ড ছিলো সেগুলোও উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

 

শহরের এমন পরিস্থিতি হওয়াতে জনসাধারণের চলাচলে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে আসলেও অবৈধ অটো মিশুকের থেকে মুক্ত হয়নি শহর । হকার ও অবৈধ স্টান্ড উঠলেও থেমে থাকেনি অনুমোদন বিহীন অটো রিকসা মিশুক।

 


 জানা গেছে , নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শহরে ইজিবাইক প্রবেশের ওপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হলেও টাকার বিনিময়ে অবাধে শহরে ঢুকছে। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন সড়কে পুলিশে েেচকপোস্টও বসতে দেখা গেলেও এগুলোকে আইওয়াশ বলে মনে করছে নগরবাসী। আবার বেশকিছু ইজি বাইক কতিপয় ভূঁইফোড় অনলাইন ও পত্রিকার স্টিকার লাগিয়ে দেদারসে চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

 

গোটা শহরে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী ইন্দ্রজিৎ, রায়হান, রাসেল নামের তিন ব্যক্তি। এরা প্রশাসন ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের মাসোহারা দিয়ে অবাধে ইজিবাইক চালিয়ে পুরো শহরকে জিম্মি করে রেখেছে। আর এ সকল অবৈধ অটো মিশুক বর্তমানে প্রায় কয়েক হাজার যা নারায়ণগঞ্জ সাইনবোড ফতুল্লা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে চাষাড়ায় প্রবেশ করে।

 


আরও জানা যায় , প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিশেষ পেশার নাম ব্যবহার করে বছরের পর বছর চালিয়ে যাচ্ছে এ সকল স্টিকার বানিজ্যে শুধু তাই নয় তৃতীয় লিঙ্গের বিনদিয়া হিজলা নামে ৫শতাধিক এর ও । আর যার মাধ্যমে এই অবৈধ অটো- মিশুকের মাধ্যমেই প্রতি বছর কোটি টাকা বানিজ্যে করে নিচ্ছে।

 


এর আগে বেশ কয়েক বছর আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান জাতীয় সংসদে দারিয়ে বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতি মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর উদ্যেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, যে সকল অবৈধ অটো মিশুক শহরে প্রবেশ করে সেগুলো সেগুলোর যে সকল ব্যটারী রয়েছে এই ব্যাটারিগুলো চার্জ করে আমার মনে হয় ৯৯ % আমার মনে হয় ৭০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চুরি করে তাও আবার অবৈধ অটো মিশুক গাড়িকে পুজি করে এগুলার বিরুদ্ধে বাবস্থা নিবে কিনা।

 


তবে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও এই অটো মিশুর চলার মধ্যে দিয়ে চুরি হচ্ছে বিদ্যুৎ জেলার  প্রত্যেকটি অটো গ্যারেজে এই ঘটনা ঘটলেও নেওয়া হতো না কোন ধরণের ব্যাবস্থা। তবে নারায়ণগঞ্জে প্রেস ক্লাবের আয়োজনে জেলা প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছিলো যে সকল অটো গ্যারেজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে আর সেই অটো গ্যারেজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

 

 

তবে গোল  বৈঠকের বেশ কয়েকদিন পার হলেও এখনো অবৈধ স্ট্যান্ড  ও পুরো নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ হলেও হয়নি অবৈধ অটো , মিশুক ও সেই সকল বিদ্যুৎ খেকো গ্যারেজের বিরুদ্ধে এখনও অভিযানে নামেনি প্রশাসন।   এন. হুসেইন রনী  /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর