বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

বাম জোটের বিষফোঁড়া হাফিজুল

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

 

বাম গণতান্ত্রিক জোটের রাজনীতি বিগত দিনে ছিলো স্বচ্ছ, সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ দেশের সকল সাধারন মানুষের পাশেই তাদের ভূমিকা ছিলো অতুলনীয়। কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ একে একে করে বাম গণতান্ত্রিক জোট ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দেশের জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে দলটি। তারা এক সময় নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যায়, আবার সেই নেতারাই নারায়ণগঞ্জবাসীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসে দাঁড়ায়। যাকে ঘিরে কোন পদে বাম রাজনীতি এটা বোঝা বড় দায়।

 

এই দলের নেতাকর্মীরাই বলছে বর্তমানে নিজেদের মধ্যে নেই ঐক্যবদ্ধতা। এ ছাড়া কিছু পক্ষ নানাভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকেন। আবার অন্য পক্ষ থাকেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কিছু নেতাদের সাথে সখ্যতা করে। এছাড়া ও রাজনৈতিক বোদ্ধামহলের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নারায়ণগঞ্জের যারা দায়িত্বরত রয়েছেন তাদের মধ্যে রাজপথে জোড়ালোভাবে থেকে মূল নেতৃত্ব দেওয়ার নেতা সংকট বর্তমানে বাম রাজনীতি দোদুল্যমান হওয়ার মূল পয়েন্ট।

 

এদিকে বর্তমানে বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলামকে বিষফোঁড়া হিসেবেই দেখছেন নেতাকর্মীরা। কারণ এই হাফিজুল কোন পথের প্রতীক এটা উনি নিজেই যানেন না। উনি এক সময় নারায়ণগঞ্জবাসী যাতে ভালোভাবে জীবন-যাপন করে তা নিয়ে ও বক্তব্যে দেয় অপরদিকে শহরে বিশৃঙ্খলার পক্ষ ও নিয়ে থাকে সবক্ষেত্রে।

 

দফায় দফায় শহরের ফটুপাতে বিশৃঙ্খলা করা হকারদের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায় এই বাম নেতা হাফিজুলকে। তা ছাড়া ও নগরীতে বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজী করা চক্রের নেতাদের ও সায় দেয় দিয়ে থাকে হাফিজুল কিন্তু বড় গলায় নিজেকে গরীবের বন্ধু বলে থাকে। তার নানা ধরনের কর্মকান্ডে আজকে নারায়ণগঞ্জে বিভক্তের বেড়াজালে আটকা বাম জোটের রাজনীতি।

 

সূত্র মতে, গত ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসানো নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থক এবং হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মেয়র আইভীসহ অর্ধশতাধিক অনুসারী আহত হন। সে সময় মেয়র আইভীর লোক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন সেই বাম নেতা হাফিজুল ইসলাম।

 

কিন্তু উনি মেয়র আইভী হকারদের উচ্ছেদের সমর্থনে থাকায় এই হাফিজুল হকারের পক্ষ হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের সাথে হকার উচ্ছেদ বিরোধী মিছিলে থাকেন আর সেখানে শামীম ওসমানের বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেন যে শহরের হকার থাকবেই। কিন্তু উনি কোন আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত নন। উনি বিরোধী দল কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ছিলেন। তারপর ও উনার আওয়ামী লীগের সাথের সখ্যতা তার প্রকাশ্যে প্রমান করেছেন।

 

তা ছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, উনি উনার স্বার্থ হাসিলের জন্যই সর্বসময় শ্রমিক নেতা সেঁজে থাকেন। কারণ সেখান থেকে উনার নামে হয়তো কিছু আসে। যাকে ঘিরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা বর্তমানে ছন্ন ছাড়া অবস্থায় রয়েছেন, তা ছাড়া এই হাফিজুলের নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে আজকে নারায়ণগঞ্জে বাম গণতান্ত্রিক জোট নানাভাবে বিভক্ত।

 

এর আগে গত বছরের (১৭ মার্চ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা মিলাদ ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এই হাফিজুলকে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসেবে দায়ী করেছেন। তা ছাড়া এই হাফিজুল হকার নেতাদের কাছে ‘লিডার’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিলেন। সব মিলিয়ে বাম নেতাদের লিডার অপরদিকে শহরে বিশৃঙ্খলাকারী হকারদেরও লিডার হাফিজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই।

 

তার নানা কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বাম রাজনীতির নেতাকর্মীরা একত্রিত হতে পারছে না। সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে আটকে পরে আছে। নানা অভিযোগের কান্ডারি এই হাফিজুল ইসলাম। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারী আবারো হকার লিডার হিসেবে নিজেকে জাহির করলেন এই হাফিজুল ইসলাম। সেদিন হরকার উচ্ছেদের দাবিতে নগরীর শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সে সময় নিজেকে হকার নেতা বলে দাবি করলেও নারায়ণগঞ্জ শহরে চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ। নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের উপর হামলা, প্রকাশ্যে তরুণ হকারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পুলিশের উপর হামলা, সড়কে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তিনটি মামলার আসামি সে। এই আসাদের সাথে ও এই বাম নেতা হাফিজুলের ভালে সখ্যতা লক্ষ্য করা যায়। এমনকি বোঝা ও গেছে এই হাফিজুলের ইশারায় হকাররা সেদিন মেয়র ও এমপিদেও বিরুদ্ধে নানা জ্বালাময়ী বক্তব্যে সায় পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এটাই বোঝা যাচ্ছে নগরীতে সব দিকেই ঝুঁকে আছেন এই বাম নেতা হাফিজুল।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা নগরীর মানুষ যাতে ফুটপাতে শৃঙ্খলাভাবে চলাফেরা করতে পারে  সেটা ও আমরা চাই। আবার যারা ফুটপাত অবরদ্ধ করে হকারী করে তাদের পুনর্বাসন না করে এভাবে উচ্ছেদ হোক সেটা ও আমরা চাই না। আমরা সব সময় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের পক্ষে ছিলাম এবং সব সময় থাকবো।

 

ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, পুনর্বাসন করে হকারদের উচ্ছেদ করলে কোন সমস্য হবে না। তা না হলে এদের ও তো পরিবার আছে তারা কোথায় যাবে। আমরা পুনর্বাসনের দাবির আন্দোলনে আমরা তাদের সমর্থন করি। কিন্তু আমরা তাদের নগরীর ফুটপাত দখল করে বিশৃঙ্খলা করুক এ বিষয়ে আমরা সায় দেই না। যাদের এখানে স্বার্থ আছে তারা তাদের ফুটপাতে বসার সায় দিয়ে থাকে। এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর