রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪   শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

মহানগর আ.লীগে অস্থিরতা সুযোগ খুঁজছে বিতর্কিতরা

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৪  

 

 

# ১২ ফেব্রুয়ারি বন্দরের ৯টি ওয়ার্ড আ’লীগের কমিটি ঘোষণা হয়
# ১৭ ফেব্রুয়ারী নতুন পদপ্রাপ্তদের অযোগ্য ঘোষণা করেন হুমায়ুন মৃধা
# তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তার কচুও করতে পারবে না বলে জানান
# ২৫ মে দুপুরে তাদের সাথেই ভুড়িভোজ করেন তিনি

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বন্দরে বিতর্কিতরা নেতৃত্বে আসতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের কমিটি পরিবর্তন হয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ হওয়ার পর বন্দরে প্রথম বারের মতো আলাদা হতে যাওয়া বন্দর থানা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগ ভক্তদের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে এরই মধ্যে কমিটির নেতৃস্থানীয় পদগুলোর জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছেন বেশ কিছু বিতর্কিত নেতা। যারা ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং একটি পরিবারের দোহাই দিয়ে সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যুতা, অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করাসহ বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্বস্থানীয় পদগুলো দখল করে নেওয়ায় দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। তাই এই ধরণের স্বার্থান্বেষী লোকদের হাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন অধ্যুষিত বন্দর থানা আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব আরও গভীর সংকটের মুখোমুখি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

 

সূত্র জানায়, ওসমান বলয়ের নাম বিক্রি করে এরই মধ্যে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ বন্দরে আওয়ামী লীগের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ। ওসমান পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে দলের নেতৃত্ব আসা, টানা বিশ বছর সভাপতির পদ কুক্ষিগত করা, বন্দরে রাজাকারদের পুনর্বাসন করা, আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতা কর্মীদের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে রাখা ইত্যাদি বিভিন্ন অভিযোগ আছে দলের সভাপতি এমএ রশিদের নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে।

 

 বিভিন্ন সময় কমিটির যারাই ওসমান বলয়ের বাইরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলতে চেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নামে কোন প্রকার রাখ-ডাক ছাড়াই প্রকাশ্যে বিভিন্ন হুমকি-ধামকির নামে তাদের টুটি চেপে ধরা হয়েছে বলে এর আগে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। যার ফলাফল দেখা গেছে গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে। পাঁচটি ইউনিয়নের চারটিতেই জাতীয় পার্টির কাছে ধরাশায়ী হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। 

 

দেখা গেছে সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। যেখানে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া রাজাকারের সন্তানের কাছে আওয়ামী লীগের পরাজয়। এবার সেই পথ অনুসরণ করেই নতুন করে গড়তে যাওয়া বন্দর থানা আওয়ামী লীগের কমিটির পদ বাগিয়ে বন্দরের কিছু স্বার্থবাজ নেতা নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নিজেদের অপকর্মের রাজত্ব দীর্ঘায়িত করতে চাচ্ছেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও নিপীড়িত ত্যাগী নেতাকর্মীগণ। তাই মহানগর আওয়ামী লীগের আসন্ন বন্দর থানা কমিটির নেতৃত্বে কোন প্রকার বিতর্কিতদের সুযোগ না দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা।

 
এরই মধ্যে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য লবিং করে যাচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির মৃধা। যিনি বন্দর দলিল লিখক সমিতিরও সভাপতি এবং একজন পল্টিবাজ নেতা হিসেবে নাম কুড়িয়েছেন। এরই মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি মহানগর আওয়ামী লীগের ঘোষিত বন্দরের ৯টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়েও করেছেন দ্বিমুখী আচরণ। 

 

গত ১৭ ফেব্রুয়ারী বন্দর ২১নং ওয়ার্ডে বন্দরের ৯টি ওয়ার্ডের পদবঞ্চিত নেতাদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেই ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে হুমায়ুন কবির বলেন, আজকে ফেসবুকে দেখলাম একটা লেখা ‘কাকায় মাইনকার চিপায় পড়ছে’। আসলে আনোয়ার ভাই বড় ভাই সম্মান করি, কিছু বলতে পারি না। তারা কমিটি দিল অথচ একটা প্রেসকনফারেন্সও করেন নাই। এমন কমিটি মেনে নেয়া যায় না।

 

এই কমিটি নিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলাম, রাজাকারের ছেলে, স্বাধীনতা বিরোধী ও ওয়ানম্যান শো নেতাদের কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে। এটা মিথ্যা লিখি নাই। রাজাকারের ছেলে, মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাকারীর ছেলেসহ অযোগ্যদের পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ছিঃ ছিঃ এর চেয়ে লজ্জা আর কি হতে পারে। আমি ৪৬ বছর ধরে রাজনীতি করি, আপনাদের কারনে আজ আওয়ামী লীগ অফিসে তালা জুলেছে, রেহাই পাবেন না। তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আপনারা আমার কচুও করতে পারবেন না। মনে রাখবেন আমাদের নেতা শামীম ওসমান। আমাদের নেতা শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী ছাড়া কারো কথা শুনবো না। অবিলম্বে এই পকেট কমিটি বাতিল করতে হবে।

 

মজার বিষয় হলো এরপরই আবার পল্টি মারেন হুমায়ুন কবির। যখনই তিনি বুঝতে পারেন বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পেতে হলে তাকে এই নতুন কমিটিকে প্রয়োজন, তখনই তিনি তাদের সাথে আঁতাত করতে শুরু করেন। গত ২৫ মে দুপুরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদ্য পদায়নকৃত নেতাদের সাথে তিনি ভুড়িভোজ করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। তা-ও আবার তার নিজ বাড়িতে। যেখানে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে।

 

 কিন্তু তিনি যাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই পদবঞ্চিত কোন নেতা সেখানে দাওয়াত পাননি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। কিছুদিন আগে যেখানে মনগড়া এই অবৈধ কমিটির বিরোদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। কমিটি বাতিল করে পূণরায় আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত নেতাদের নিয়ে কমিটি করতে কেন্দ্রে স্বারকলিপি পেশ করেছন। কিন্তু নিজের স্বার্থের কারনে হঠাৎ করেই ভোল পাল্টে ফেলেন হুমায়ুন কবির মৃধা। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেখানে নতুন কমিটির বিরোধীদের ধোলাই ও হুশিয়ার করা হয় সেসব আয়োজনেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর