বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

মাঠে সক্রিয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

 

সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর পরই এখন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ডামাঢোল বাঝতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সারাদেশের উপজেলা নির্বাচনের তপসিল ঘোষনা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেননা উপজেলা নির্বাচনের আগের মাসই হলো রমজান মাস। সে হিসেবে এই মাসটা মুসলিম দেশ হিসেবে মুসলমানগণ ইবাদতে বেশি সময় পার করেন। তা মাঠ গুছানোর জন্য এখন থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

 

নির্বাচন কমিশন তথ্যমতে,  আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। চার ধাপে হবে এ নির্বাচন। প্রথম দফায় ৪ মে, দ্বিতীয় দফায় ১১ মে, তৃতীয় দফায় ১৮ মে এবং ২৫ মে চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে কমিশন বৈঠক হয়।

 

এরপর এ তথ্য জানান, ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের মেয়াদ পূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। বর্তমানে দেশে উপজেলা পরিষদের সংখ্যা ৪৯৫টি। তার মধ্যে ৪৫২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। জুনের মধ্যে এসব উপজেলায় নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া আগামী মার্চের মধ্যে অল্প কিছু বাদে প্রায় সব কটি উপজেলা নির্বাচন উপযোগী হবে।

 

এদিকে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না দেয়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় এই ভোটের আগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদেরকে ডাক পড়েছে গণভবনে। তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলটির সূত্র বলছে, গণভবনে আওয়ামী লীগের এ বর্ধিত সভায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হতে পারে। এছাড়া কোন্দল নিরসনের বিষয়েও আসতে পারে নির্দেশনা।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার মাঝে প্রতিটি উপজেলায় একঝাক প্রার্থী মাঠে নেমে এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকায় তখন আওয়ামী লীগ থেকে চাইলেও সবাই প্রার্থী হতে বাধা ছিল। কেননা তখন যাকে দল থেকে নৌকা প্রতীক দেয়া হত তার পক্ষে অন্যান্য র্প্রার্থীদের কাজ করতে হত। কিন্তু সদ্য ঘোষিত তফসিল ঘোষনায় ক্ষমতাসীস দল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক দিবে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন। আর এজন্য ক্ষমতাসীন দল থেকে একাধিক প্রার্থী হতে কোন বাধা নেই। সেই সাথে যারা বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হতে চায় তাদের এবার কপাল পুরতে পারে।

 

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান হতে একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তার মাঝে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া কোন অংশে পিছিয়ে নেই মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জল রয়েছে। এছাড়া মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুর নামও গুঞ্জন রয়েছে। তাছাড়া সদর উপজেলা বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসও রয়েছেন।

 

অপরদিকে বন্দর উপজেলায় রয়েছেন এখানকার বর্তমান চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম সালাম, এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি সানা উল্লাহ সানুও চেয়ারম্যান হতে বন্দরে সক্রিয় রয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ উপেজলায়  চেয়ারম্যান হতে একঝাক প্রার্থী মাঠে নেমে নিজেদের মত করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার মাঝে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁ যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, সোনারগাঁ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম ভুইয়াও প্রার্থী হবেন।

 

রূপগঞ্জ উপজেলায় তারাব পৌরসভার মেয়র হাসিনার গাজীতে তার সমর্থকরা রূপগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। এছাড়া এখানকার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়াও প্রার্থী হবেন বলে জানান তার সমর্থকরা। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ আড়াই হাজার উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান হেলো সরকার রয়েছেন। তার সাথে এখনো তেমন কোন প্রার্থী মাঠে দেখা যায় না। এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর